আ’লীগ-ছাত্রলীগের যৌথ সভায় কেন্দ্র অনুমোদিত গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত

0
58

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মাঝে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদিত নতুন কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সাংঘর্ষিক কোন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

গত ৬ ফেব্রুয়ারী গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। তবে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ রাজীব যৌথ সভায় দাবি করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এ ধরনের কমিটির অনুমোদন দেয়ার কথা তাকে অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগকে অন্ধকারে রেখে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত না করেই কেন্দ্রীয় কমিটি গোপনে নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ছাত্রলীগের দু’টি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষ এড়াতে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ সভার আয়োজন করে। গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় তিনিসহ গোয়ালন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এবিএম নুরুল ইসলাম, রাজবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি, গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন রনি, রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ রাজীব, সধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এরশাদ, গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবিএম বাতেন ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরী আসাদ এবং কেন্দ্র অনুমদিত নতুন কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল, সাধারন সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক খোকনসহ জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যৌথ সভায় কেন্দ্র থেকে অনুমোদিত গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি স্থগিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্তমান কমিটি সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

যৌথ সভায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী বলেন, সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এমন সময়ে নিজেদের মধ্যে কোনরকম বিভেদ রাখা যাবে না। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকলে মিলে দলকে শক্তিশালী করতে হবে।
এদিকে যৌথ সভা শুরুর আগে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা শহরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘কালো টাকার কমিটি মানি না মানব না, পকেট কমিটি মানি না মানব না, অবৈধ কমিটি মানি না মানব না’ প্রভৃতি শ্লোগানসহ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ জেলা ও উপজেলা নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় না করে অগঠনতান্ত্রিক ভাবে পকেট কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। যে কারণে ছাত্রলীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাদের দাবি দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হোক। অন্যকোন উপায়ে পকেট কমিটি করা হলে নেতা-কর্মীরা তা কখনো মেনে নিবেন না।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here