“আল্লাহরে বোবা মেয়ের ইজ্জত সবাই জাইনা গেছে, তবু বিচার পাইলাম না”

0
35

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর থেকে ॥
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা আকোটের চর ইউনিয়নের খুশি হাজ্বীর ডাঙ্গী গ্রামের এক দিন মজুরের বাক-প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়ে (১২) কে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছেন স্থানীয় গ্রাম্য মাতুব্বর গোষ্ঠী।

গত মঙ্গলবার সন্ধা ৬ টায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে তার বসতভিটের নিকটে ঝোঁপের পাশে একা পেয়ে প্রতিবেশী শেখ তোতার ছেলে শেখ শুকুর (৫০) তাকে ধর্ষণের জন্য জোর চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ধ্বস্তা ধ্বস্তির শব্দ পেয়ে ঘটনাটি এলাকাবাসীর নজরে পড়লে লোকজনের ধাওয়ার মুখে ধর্ষক পালিয়ে গিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে বলেও জানা যায়। ঘটনার পর ওই গ্রামের মাতুব্বর আবুল কালাম মেম্বার (৫৫), কালা খাঁন (৫০) ও স্বপন খলিফা (৪৫) বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাড়ী ঢুকা মাত্র তার পিতা ও মাতা আর্তনাদ করে বলে ওঠে, “আল্লাহরে বোবা মেয়ের ইজ্জত সবাই জাইনা গেছে, বিচারও পাইলাম না, এখন মাইয়া নিয়া কৈ যামু”। ঘরে ঢুকে দেখা যায়, কিশোরী অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে। কিশোরীর পিতামাতা বলেন, “এলাকার মাতব্বররা আমাদের আইনের আশ্রয় নিতে দিচ্ছে না। কোনো উপায় না পেয়ে সাংবাদিক ও মানবাধিককার সংস্থাকে জানিয়েছি বলে গ্রাম্য মাতুব্বররা আমাদের প্রতিদিন হুঁমকী দিতেছে। হত দরিদ্র কিশোরীর পিতামাতা কোনো বিচার পাচ্ছে না বলেও হতাশা ব্যক্ত করেন।

এ ব্যপারে সদরপুর থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ কোনো অভিযোগ পায়নি বলে জানায়। বৃহস্পতিবার মাতুব্বর আবুল কালাম মেম্বার সাংবাদিকদের জানায়, “ঘটনার রাতেই আমরা গ্রাম্য বৈঠকে বসে কিশোরীর দিন মজুর পিতার হাতে পায়ে ধরিয়ে আপোষ মিমাংষা করে দিয়েছি, এখন সে আবার মামলা করতে চায় কোন সাহসে ”।

একই ইউনিয়নের মৃধা ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আঃ লতিফ মৃধার ছেলে প্রত্যক্ষদর্শী পান্নু মৃধা (৪৮) জানায়, “ঘটনার সময় আমি ফসলী মাঠ থেকে গো-খাদ্য কলাইয়ের বোঝা নিয়ে বাড়ী ফিরছিলাম। একটি ছোট্ট মেয়ের উপর নির্যাতন দেখে সৌড় চিৎকার করে এলাকাবাসী নিয়ে ধর্ষককে ধাঁওয়া করি, কিন্ত ধর্ষক মাঠের মধ্যে দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়”।

উক্ত দিন মজুরের চারটি বাড়ী পর ধর্ষকের বসতবাড়ীতে গিয়ে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক ডাকাডাকির পর ঘরের ভিতর থেকে ধর্ষকের স্ত্রী হালিমা বেগম জানায়, “ আমি কিছুই বলতে পারবো না, বাড়ীওয়ালা তিনদিন ধরে বেড়াতে গেছেন”।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here