ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব ১২ জানুয়ারি

0
103

জানুয়ারিতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হচ্ছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ বলছে, আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যে উৎসবের আয়োজন করবে তারা। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ১৬তম আসর শুরু হবে ১২ জানুয়ারি। চলবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। গত বছরের মতো এবারও উৎসবের স্লোগান ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’।

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির উপদেষ্টা স্থপতি রবিউল হুসাইন, ম হামিদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল। তিনি বলেন, ‘তিন দশক ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গন নানামুখী অবক্ষয়ের শিকার। এর ফলে সিনেমা হলগুলো আজ দর্শকশূন্যতায় ভুগছে। কিন্তু পাশাপাশি এ কথাও সত্য যে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দর্শক প্রকৃত চলচ্চিত্র উপভোগে আগ্রহী। চলচ্চিত্রের এই ক্রান্তিলগ্নে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উত্সব আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং এমন উত্সব যত বেশি হবে, আমাদের দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের দৈন্যদশা তত দূর হবে।’

গত বছরের উৎসবের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উৎসব আয়োজনের ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যা রয়েছে। তবে চলচ্চিত্র উৎসব বন্ধ হয়ে গেলে তা শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষকে হতাশ করবে। তাই আমরা উদ্যোগী হয়েছি। যত ক্ষতিই হোক না কেন, আমরা উৎসবের আয়োজন করে যাব।’ তিনি আরও বলেন, আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যে থাকলেও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডসহ আরও কয়েকটি সংস্থা এগিয়ে আসায় এই উৎসবের আয়োজন সম্ভব হচ্ছে। চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড সেন্সর ফি পুরোপুরি মওকুফ করে দিয়েছে। উৎসব আয়োজন সম্পন্ন করতে আরও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

এবার উৎসবে ৬০টি দেশের দুই শতাধিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উত্সবের মূল কেন্দ্র কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন। এর পাশাপাশি জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন ও প্রধান মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন, রুশ সংস্কৃতি কেন্দ্র এবং স্টার সিনেপ্লেক্সে উত্সবের চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার উৎসবের ৬০টির দেশের দুই শতাধিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। ইতিমধ্যেই ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, ফিলিপাইন, ইতালি, ইয়েমেন, ইরান, গ্রিস, আফগানিস্তান, কাজাখস্তান, ফ্রান্স, লেবানন, তুরস্ক, সিরিয়া, কাতার, মঙ্গোলিয়া, স্পেন, আর্জেন্টিনা, বেলজিয়াম, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, রাশিয়া, চেক রিপাবলিক, যুক্তরাষ্ট্র ও জর্দানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। উত্সবে বাংলাদেশের ১০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রসহ ২০টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসবে ৮টি বিভাগে চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে। বিভাগগুলো হলো এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেনস ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকারস সেকশন। এ ছাড়া আগামী ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি উৎসবের অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকাবিষয়ক ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস কনফারেন্স’ আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।

উত্সবের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ফেডারেশনের সহযোগিতায় ‘প্রথম এশিয়ান ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাসেম্বেলি’ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে এশিয়ার ২০টি দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচকদের অংশ নেবেন। এ ছাড়া ৫ থেকে ২০ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে ‘অষ্টম ঢাকা আন্তর্জাতিক সিনে ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তরুণ প্রজন্মকে চলচ্চিত্র ও সুস্থ ধারার বিনোদনমুখী করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উত্সব কর্তৃপক্ষ। জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তন ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে প্রতিদিন সকাল ১০টা, বেলা ১টা ও ৩টার প্রদর্শনীতে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা বিনা মূল্যে চলচ্চিত্রগুলো দেখতে পরবে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। পাবলিক লাইব্রেরির সকালের প্রদর্শনীগুলোয় সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষায়িত শিশুদের বিনা মূল্যে চলচ্চিত্র দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here