নির্দেশ অমান্য করে গোয়ালন্দে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে মদ বিক্রির অভিযোগ

0
22

জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত না মেনে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার আরৎপট্টি এলাকার বাংলা মদের দোকানে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে মদ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৩ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিদ্যালয় চলাকালে মদ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গোয়ালন্দ বাজার থেকে মদের দোকানটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া আন্দোলনের আহবায়ক প্রকৌশলী ফকীর আব্দুল মান্নান সহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ওই মদের দোকানে গিয়ে গত রোববার বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে মদ বিক্রিতে বাাঁধা দিলে মদের ডিলার টিটু সরকার উত্তেজিত হয়ে উঠেন। সেই সাথে দাবী করেন, জেলা প্রশাসন থেকে তাকে এ বিষয়ে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনা স্থলে আসেন। এক পর্যায়ে মদ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে চলে যেতে বাধ্য হন।

এ দিকে বিষয়টি নিয়ে আবার গত ১২ ফেব্রুয়ারী রবিবার জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় পূণরায় আলোচনা হয়। সভায় বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শুধু মাত্র লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ীদের নিকট মদ বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অবৈধভাবে মদ বিক্রি করা হলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মদের দোকান অপসারন আন্দোলনের আহবায়ক প্রকৌশলী ফকির আব্দুল মান্নান রাজবাড়ীবিডিকে বলেন, বর্তমান স্থান থেকে মদের দোকানটি সড়ানো এলাকার ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, কৃষক, জনপ্রতিনিধিসহ সবার দীর্ঘ দিনের দাবি। গত রবিবার আমি সকাল পৌনে ১১টার দিকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে মদ বিক্রি করতে দেখে বাধা দিতে গেলে তারা আমার উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেন, গোয়ালন্দের মদের দোকান পাকিস্তান আমল থেকে চলে আসছে। তাদের সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন নেওয়া আছে। জনদাবীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মদের দোকানটি দৌলতদিয়া ঘাটে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। আপাতত বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখে শুধু মাত্র লাইসেন্সধারীদের নিকট মদ বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অবৈধভাবে মদ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সরাসরি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গোয়ালন্দ শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত এ এলাকা হতে মদের দোকানটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে। বাজারের অন্যতম ব্যাবসা কেন্দ্র ও ব্যাস্ততম এলাকা হওয়া ছাড়াও এখান দিয়ে প্রতিনিয়ত স্কুল-কলেজগামী শত শত ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ জনতা চলাচল করে।

অভিযোগ আছে, এখান থেকে লাইসেন্সের বাইরেও অবাধে বিপুল পরিমান মদ পাইকারি ও ব্যাক্তি পর্যায়ে খুচরো বিক্রি হয়ে থাকে। ফলে মাতালদের হাতে প্রতিনিয়ত এখান দিয়ে চলাচলকারীরা লাঞ্ছিত হয়। এছাড়া এলাকায় অসাভাবিক হারে মাতালের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এবস্থায় মানববন্ধন, আল্টিমেটাম, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলীপি সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে এলাকাবাসী।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here