বালিয়াকান্দিতে তামাক কোম্পানীর প্রলোভনে বেড়েছে তামাকের আবাদ

0
17

সোহেল রানা ॥
তামাক কোম্পানী গুলোর লোভনীয় সুযোগ, সার, বীজ, নগদ অর্থ প্রদান করাসহ নানা ধরনের প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলাতে বিষবৃক্ষ তামাকের ব্যাপক চাষাবাদে দিন দিন ঝুকে পড়ছে কৃষক।

প্রতিবছর একই জমিতে তামাক চাষের ফলে জমির উর্বরা শক্তি হৃাস পাচ্ছে। এতে অন্য ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। কৃষি বিভাগ তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। তামাক চাষীদের সারের বরাদ্দ না দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জানাগেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার সবচেয়ে বেশি তামাক চাষ হয় জঙ্গল ও বহরপুর ইউনিয়নে। জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী, অভয়নগর, মহারাজপুর, শুকনা,পারুলিয়া, নতুন ঘুরঘুরিয়া, ঘুরঘুরিয়া, সাধুখালী, সমাধিনগর, বালিয়াকান্দি ইউনিয়নের ভীমনগর, চৈতে ভীমনগর, পাইককান্দি, বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর, আড়কান্দি, বংকুর, নতুনচরসহ অনেক গ্রামের কৃষকরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুকে পড়ছে। তামাক চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও সার, বীজ সরবরাহসহ নানা ধরনের লোভনীয় অফার দিয়ে চাষে আনছে তামাক কোম্পানীগুলো। তবে অনেক কৃষক তামাক চাষে নিরুৎসাহিত হলেও এক শ্রেনীর তামাক কোম্পানীর এজেন্ট ও দালালদের প্রলোভনে তারা পা বাড়াচ্ছে তামাক চাষে।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলাতে এ মৌসুমে প্রায় আড়াই শত একর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। কোম্পানী গুলো তাদেরকে তামাক চাষ করতে নানা রকম উপকরন, সার, বীজ, নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। ক্ষেত থেকে তামাক সংগ্রহ করে আনার পর কোম্পানীগুলোতে সরবরাহ করতে তেমন কোন বেগ পেতে হয় না। নানা রকম সুযোগ সুবিধা ও ভালো ফলন হওয়ার কারনে কৃষকরা ঝুকে পড়ছে তামাক চাষে। তবে জমির উর্বরা শক্তি হৃাস পায় সে বিষয়ে জানলেও অধিক মুনাফা লাভের ফলে কেউ চাষ ছাড়ছে না।

এনজিও সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক মোঃ মোকাররম হোসেন জানান, তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে তামাক চাষ প্রবন এলাকার কৃষকদেরকে উঠান বৈঠক, তামাক চাষের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, লিফলেট বিতরনসহ নানা ধরনের উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাপক প্রচারনার ফলে অনেকে তামাক চাষ ছেড়ে দিচ্ছে। প্রশাসন তামাক চাষ নিষিদ্ধ করতে আইন করলে দ্রুত বিষবৃক্ষ তামাক চাষ থেকে কৃষকদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব। তবে তামাক চাষীদের সার ও কীটনাশক সরবরাহ বন্ধের ব্যবস্থা করার দাবী জানান।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে কৃষক প্রশিক্ষন সহ স্ব স্ব এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা অগ্রনী ভুমিকা পালন করে। তামাক কোম্পানী গুলোর এজেন্টেদের অপতৎপরতার ফলে কৃষকরা তামাক চাষ করে। তবে বিগত বছরগুলোর চেয়ে অধিক পরিমান কম জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here