1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

‘অপরিকল্পিত খননকাজ’ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ঝুকিপুর্ন নৌযান চলাচল

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৭
  • ১২৩৪ Time View

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এছাড়া পরিকল্পিত ভাবে খননকাজ না করা ও নদীতে কোনও চলাচল চিহ্ন (বিকনবাতি) না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে লঞ্চ ও ফেরি। তবে চ্যানেলে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দুই ঘাটে খনন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান রুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ। এ রুটে প্রতিদিন ছোট-বড় ১৪/১৫টি ফেরি ও ২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। তবে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ায় পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে সব ধরনের নৌযান চলাচল। এ অবস্থায় নাব্যতা সংকট নিরসনে পাটুরিয়া ঘাটে গত ৫ সেপ্টেম্বর এবং ১৯ অক্টোবর থেকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে খনন কার্যক্রম শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিএ সুত্রে জানা যায়, পদ্মায় পানি হ্রাস পাওয়ায় নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। এ বছর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় চ্যানেল সচল রাখতে ৬ লাখ ঘনমিটার পলিমাটি খনন করা হবে। ইতিমধ্যে লক্ষ্য মাত্রার ৬০ ভাগ কাজ শেষ করা হয়েছে। প্রতি ঘনমিটার খনন ব্যয় ধরা হচ্ছে ১৪৫ টাকা। সেই হিসেবে শুধু দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ৮ কোটি ৭০ লক্ষ্য টাকার খননকাজ করা হবে। অপরদিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ৮ লাখ ঘন মিটার পলি খনন করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা।

সরেজমি দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে নদী পার হতে এসে শত শত বিভিন্ন পন্য বোঝাই ট্রাক মহাসড়কে সিরিয়ালে আটকে আছে। এছাড়া দুইটি টার্মিনালেও রয়েছে আরো ট্রাক। এরমধ্যে অনেক ট্রাক দুইদিন আগে এসেও ফেরির নাগাল পায়নি।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের লঞ্চ চালক ইকরাম হোসেন জানান, চ্যানেল যেভাবে সরু হয়ে গেছে একটি লঞ্চ গেলে অপরটিকে জায়গা দেওয়া মত কোন অবস্থা নেই, নদীতে কোন প্রকার চিহ্ন লাইটিংয়ের ব্যবস্থা নেই। কুয়াশার ঘনত্ব বাড়লেই ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। চ্যানেলে খনন কাজ চলাতে আরো বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে। ড্রেজিং করা মাটি ¯্রােতের টানে আবার চ্যানেলে এসে ভরে যাচ্ছে। যে কারনে এই খনন কাজ কোন কাজেই আসবে না। তাছাড়া লঞ্চ নিয়ে ফেরি চ্যানেলের ভেতর দিয়ে ঘাটে আসতে হয়। লঞ্চের জন্য আলাদা কোনও চ্যানেল নেই।

একাধিক লঞ্চ ও ফেরি মাস্টারদের অভিযোগ, নিরাপদে চলাচলের জন্য নদীতে কোন চিহ্ন না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চালাতে হচ্ছে নৌযান। আবার পূর্ণ লোড নিয়ে ফেরির চলাচলের জন্য কমপক্ষে ৮ ফুট পানির গভীরতা লাগলেও দৌলতদিয়া চ্যানেলে রয়েছে মাত্র ৬ ফুট গভীরতা। এ কারণে প্রায়ই ডুবোচরে আটকা পড়ছে ফেরি।

ফেরি শাহজালালের মাস্টার শফিকুর রহমান জানান, নদীতে খনন কাজের জন্য ফেরি চলাচল করতে বিঘœ ঘটছে। এতে টিপ সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পানি কমে যাওয়ার কারনে ফেরি পাখা ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে মাঝে মধ্যেই।

বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা ঘাট উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল আলম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দুই ঘাটেই পর্যায়ক্রমে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত খননকাজ করা হবে। পাটুরিয়া প্রান্তে ৩টি ও দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩টি ড্রেজার কাজ করছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম জানান, রুটে ১৬টি ফেরির মধ্যে মঙ্গলবার ১৪টি ফেরি চলাচল করছে। এছাড়া ড্রেজিং চলায় দৌলতদিয়া ১নং ঘাট পন্টুনে ফেরি ভিরতে পারছে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution