1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
Title :
অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছেন রাজবাড়ীর সকল ফিলিং ষ্টেশন গোয়ালন্দে ৪ কেজি গাজাসহ যুবক গ্রেফতার পাংশায় কবি সাহিত্যিকদের মিলন মেলায় গুনীজন সংবর্ধনা প্রধামমন্ত্রীর জনসভা থেকে চুরি হওয়া ফোনসেট গোয়ালন্দে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পাংশায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা পাংশায় জাল সনদে চাকুরীর অভিযোগ ‘বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব’ গোয়ালন্দে কৃষকলীগের সম্মেলনে নূরে আলম সিদ্দিকী হক ‘বিএনপি ভ্যান চালকদের নিকট থেকে চাল কেড়ে নিয়েছে’ -জিল্লুল হাকিম এমপি গোয়ালন্দে সহস্রাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু নিয়ে দিনব্যাপী ব্যাতিক্রমী আয়োজন গোয়ালন্দে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান

বালিয়াকান্দি মুজিব বাহিনীর প্রধান আলমকে আজও খুঁজছে স্বজনরা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ১০৬২ Time View

সোহেল রানা ॥
বালিয়াকান্দিতে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিব বাহিনীর নেতৃত্ব দেন এসএম আলম। ৯মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনলেও স্বাধীনতার ৪ বছর পর হঠাৎ নিখোঁজ হন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিব বাহিনীর প্রধান এসএম আলম। তার স্বজনরা ৪২ বছর ধরে তাকে খুঁজছেন।
এসএম আলমের অনেক স্মৃতি বিজরিত জীবনের উপর লেখা বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও সাংবাদিক এম ইকরামুল হকের “সজল করুন স্মৃতির চিতা” লেখা থেকে জানাগেছে, ১৯৭১ সালের ২১ শে এপ্রিল সকাল বেলা। পাক সেনারা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ নদী বন্দর দখল করে। কাজী হেদায়েত হোসেনের স্ত্রী কাজী মনাক্কা বেগম পরিবার পরিজনসহ শামসুল আলম বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর গ্রামের বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ কর্মী আঃ রাজ্জাকদের বাড়ীতে আসেন। বহরপুরের মতিয়ার রহমান (মতি মেম্বার) এবং মাদ্রাজী মাইক, তার বাবা ও রাজাকার গ্রুপ লুটপাট এবং অমানবিক কার্যক্রম চালায়।
এ কার্যক্রমের কারণে আঃ রাজ্জাকের শ্বশুরবাড়ী কুষ্টিয়া জেলার খোকসা জানিপুর গ্রামের আকিমুদ্দিনের বাড়ীতে আঃ রাজ্জাক, শামসুল আলম, কাজী হেদায়েত হোসেনের পরিবার পরিজনসহ আশ্রয় নেন। কাজী হেদায়েত হোসেন, রাজবাড়ীতেই ছিলেন। তিনি ভারতে যাবার আগে খোকসার জানিপুর আকিমুদ্দিনের বাড়ীতে এসে পরিবার পরিজনদের সাথে যোগাযোগ করেন। তখন বিভিন্ন এলাকায় অবাঙ্গালী আর পাকবাহিনীর অত্যাচার তুঙ্গে। আওয়ামীলীগ ও হিন্দুদের বাড়ীঘর লুটপাট, লোক হত্যা এবং জ্বালাও পোড়াও করছে। সবাই আতঙ্কগ্রস্থ। জানিপুরের আকিমুদ্দিন চেয়ারম্যান উনি মুসলিম লীগের লোক। গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শামসুল আলমকে পাকবাহিনীর কাছে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। আকিমুদ্দিনের ছোট মেয়ে চঞ্চলা এ সংবাদ কাজী মনাক্কা বেগমকে জানায়। কাজী মনাক্কা বেগম জেনে আলমকে সতর্ক করে দেন। আলম সারারাত আতœগোপন করে থাকে এবং পরদিন আলমকে ভারতে চলে যাবার নির্দেশ দেন কাজী মনাক্কা বেগম। আলম ভারতে গিয়ে বি,এল,এফ এ যোগদেয়। জেনারেল ওবানের নেতৃত্বেই বিশেষ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা হয়। যাহা বাংলাদেশ “ মুজিব বাহিনী” হিসাবে পরিচিত। ভারত থেকে ফেরার পথে দামুকদিয়ায় ১৯৭১ সালের ৫ আগষ্ট আকবর বাহিনীর প্রধান আকবর হোসেন মিয়ার সাথে দেখা করেন।
মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে বালিয়াকান্দিতে আসেন শামসুল আলম। বালিয়াকান্দির অদুরে চন্দনা নদীর পুর্বপাড়ে লাহিড়ীদের আমবাগান। এখানে মুজিব বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীদের এক যৌথ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জালাল আহম্মেদ (প্রাক্তন আর্মি) কে আলম তার এস,এল,আরটি প্রদান করেন এবং যৌথবাহিনীর সার্বিক দায়িত্ব পালনের আদেশ প্রদান করেন। বিভিন্ন স্থানে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। দীর্ঘ ৯মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হয়। বাঙ্গালী জাতি পায় লাল-সবুজের পতাকা। স্বাধীন বাংলাদেশ ঘুরে দাড়াতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সাথে নিয়ে সোনার বাংলা গড়তে কাজ শুরু করেন সারা দেশে। তখনও লাশের পোড়া গন্ধ যেন চারিদিকে। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা চলছে।
এস,এম আলম কাজী মনাক্কা বেগমের ¯েœহধন্য ছিলেন। একদিন কাজী মনাক্কা বেগমকে একটি মেয়ের কথা বলে। ঘটনাক্রমে কাজী মনাক্কা বেগম তার ছেলে কাজী ইরাদতসহ রাজবাড়ীর নুরপুর শেখ রজব আলীর বাড়ীতে যান। সেখানে থাকা আকবর আলী খানের স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে তার কন্যা আসমা খানমকে শামসুল আলমের সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন কাজী মনাক্কা বেগম। আসমা তখন ঢাকা ইডেন কলেজের ছাত্রী এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
কাজী ইরাদত, শামসুল আলম আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ আকবর আলী খানের বালিয়াকান্দির বাড়ীতে এসে বিয়ের বিষয়ে প্রস্তাব দেন। খান মেয়েকে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান।
আকবর আলী খান তার কর্মস্থল ঢাকায় চলে যান। কিছুদিন পর শেখ মনি, ফকির আব্দুর রাজ্জাক এবং ওবায়দুর রহমান ঢাকার ভুতের গলিতে আকবর আলী খানের বাসায় যান এবং আসমা বিবাহের জন্য অনুরোধ করেন। তখন খান সাহেব বলেন, আমি কাজী হেদায়েত হোসেন সাহেবের সাথে আলোচনা করে জানাবো। ঢাকার রামপুরাস্থ কাজী হেদায়েত হোসেনের বড় জামাইয়ের বাসায় আকবর আলী খান দেখা করেন। তখন কাজী হেদায়েত হোসেন আলমের সাথে আসমাকে বিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। আকবর আলী খান তার মেয়েকে আলমের সাথে বিয়েতে রাজী হন।
আকবর আলী খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ফেকালটিরেত সিনিয়র ইলেকট্রিক টেকনিশিয়ান হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আকবর আলী খান আহত মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য প্রায়ই যেতেন। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস মিঞা, আলমের সাথে আকবর আলী খানের পরিচয় করিয়ে দেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধা আলমের সাথে আসমা খানের বিয়ে সুসম্পন্ন হয়।
১৯৭৪ সালের ১২ অক্টোবর রাজবাড়ী রাজবাড়ী যুবলীগের প্রথম সম্মেলন। শামসুল আলম, বালিয়াকান্দি থানা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি। রমজানের ২৭ তারিখে আলমের ঢাকার শ্বশুরের বাসায় যাবার কথাছিল। ১৯৭৫ সালের ১৩ অক্টোবর রাজবাড়ী হতে আব্দুল করিম (পদমদী), আবুল হোসেন খান ( বর্তমান ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান) সহ আরো অনেকে বাড়ী ফিরছিলেন। মাটিপাড়া এসে সংবাদ পেয়ে জনৈক আমীর ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যায়। আর ফিরে আসেনি। বিপর্যয় ঘটে আচমকা। স্বামী হারিয়ে আসমা হন বিধবা। আসমা তার বাবার বাসা ঢাকার ভুতের গলিতে বসবাস করতেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৭৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী জন্ম হলো এক পুত্র সন্তানের। সেই সন্তানটির নাম রাখা হলো আসিফ আলম রেমন। জন্মের আগেই অনাগত “রেমন” হয়েছে পিতৃহারা। আসমা ছেলের অস্থিরতা, আবেগ, আর স্বামী হারানোর শোকে মা-ছেলে রাতের ঘুম নেই গুমড়ে গুমড়ে কাঁদে। ধীরে ধীরে রেমন বড় হতে লাগলো। তাকে প্লে থেকে তৃতীয় শ্রেণীতে ঢাকা সায়েন্স ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়ান। তারপর বাবা আকবর আলী খান চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করলে আসমার দু,চোঁখ ভরা স্বপ্ন যেন ¯œান হচ্ছে মনে হচ্ছিল। বাবার সাথে আসমা তার একমাত্র সন্তান নিয়ে বালিয়াকান্দির বাবার বাড়ীতে চলে আসেন।
বালিয়াকান্দি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেমনকে ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি করেন। বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে রেমন দ্বিতীয় বিভাগে এস,এস,সি পাশ করে বালিয়াকান্দি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু লেখাপড়ায় আর বেশি আগাতে পারেনি। সেই ছোট্ট রেমন আজ বালিয়াকান্দি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক ও বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্পাদক।
আসিফ আলম রেমন এ প্রসঙ্গে বলেন, আজও বাবাকে চোঁখে দেখিনি। আজ ৪২ বছর ধরে রাতে ঘুমাতে পারিনা। অপেক্ষায় থাকি যেন বাবা এসে আমাকে ডাকছে। এভাবেই ৪২টি বছর ধরে বাবার জন্য অপেক্ষা করে আসছি। বাবার স্মৃতি বিজরিত সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝেই তার বাবাকে খুজে ফিরছেন আজও।
তিনি আরো জানান, মায়ের দু,চোঁখের দিকে তাকালে যেন ফিরে পান বাবার হারিয়ে যাওয়া ৪২ বছরের স্মৃতি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution