1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২৩ অপরাহ্ন

মুক্তিযোদ্ধা নুরজাহান আজও চাকুরী ফিরে পাননি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ১০৭৭ Time View

সোহেল রানা / মোঃ আমিরুল হক ॥
মুক্তিযুদ্ধ ছিল এক প্রবল সৃষ্টিশীল সময়। গানে, কবিতায়, সিনেমায় বাঙালীর সৃজনশীলতার শতমূখী স্ফুরণ ঘটেছিল এ উত্তাল সময়ে। এ রকমই কিছু সৃষ্টির কথা বললেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী হুরুন্নেছা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী।

১৯৭১ সালের বাঙ্গালী জাতীর মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দুঃশাসনের ইতিহাস তুলে ধরে বাঙ্গালী জাতিকে সোচ্চার হবার যে ডাক দিয়েছিলেন সেই থেকেই বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। রক্ত গরম করা ভাষণ শুনে আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ স্বাধীনের পর দারিদ্রতার শিকার হওয়ার কারনে আয়ার চাকরী নেই জেলার পাংশা উপজেলা বর্তমানে কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী হুরুন্নেছা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এখানেই আমার গ্রামের বাড়ী হওয়ায় এ চাকুরীটি ছিল আমার কাছে সোনার হরিণ। আমি চাকুরী করে সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করতাম। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই চাকরী থেকেও শত্রুতা করে বরখাস্ত করলো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমা চালানোর পর মহামান্য আদালত আমার পক্ষে রায় দিলেও আমার বেতন-ভাতা আটক করা ও বেআইনিভাবে বরখাস্ত করা এবং আদালতের দেয়া রায়কে উপেক্ষা করে ক্ষমতার দাপট দেখান সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল ছাত্তার মন্ডল।

এখানে আমার কষ্টের কথা ও মামলার বিবরন থেকে কিছু প্রকাশ করবার জন্য অনুরোধ করলে প্রতিবেদক কিছু তুলে ধরেন, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বর্তমান কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী এলাকার হুরুন্নেছা স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা মিলে কোন কারন ছাড়াই উক্ত বিদ্যালয়ের আয়া মোছাঃ নুরজাহান বেগমকে বরখাস্ত করে এবং সেই স্থলে আকলিমা বেগম নামের অন্য একজনকে নিয়ম বহিভুত ভাবে নিয়োগ দান করে। এর প্রতিবাদে বরখাস্ত হওয়া আয়া নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে রাজবাড়ী জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় বিবাদী করা হয় মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা, বিদ্যালয় পরিদর্শক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড , ঢাকা, জেলা শিক্ষা অফিসার , রাজবাড়ী, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পাংশা, রাজবাড়ী, মাঝবাড়ী হুরুন্নেছা স্মৃতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পক্ষে সেক্রেটারী ও প্রধান শিক্ষক আব্দল ছাত্তার মন্ডল, সভাপতি, বিদ্যূৎসাহী সদস্য মোঃ আজিজুল ইসলাম, আব্দুল ছাত্তার মোল্লা, সদস্য , মোঃ আমির আলী, সদস্য, হাফিজুর রহমান, শিক্ষক প্রতিনিধি, আবুল কাশেম খান প্রতিনিধি সদস্য, আবুল কাশেম শিক্ষক প্রতিনিধিকে।

তিনি বলেন, মাঝবাড়ী হুরুন্নেছা স্মৃতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আয়া পদে নিয়োগপ্রপ্তি হইয়া অতি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে আসতে থাকা অবস্থায় গত ইং ১/১২/৯০ তারিখে ৪০ নং (পি,পি,) ৯০নং সাবেক বর্ণিত গত ইং ৭/৯/৯০ তারিখে বাদীকে উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূতভাবে ও অবৈধ উপায়ে বরখ্স্তা করে। আয়া অবৈধ ও বেআইনি বরখাস্তের বিরুদ্ধে ১৩০/৯১ নং মামলা দায়ের করে এবং গত ইং ০৯/১১/৯২ তারিখে রায় এবং ১৪/১১/৯০ তারিখে ডিগ্রী লাভ করে।

আদালতের দেওয়াণী ১৩০/৯১ নং মামলার রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি ইউ/০৯ রুল ১৩ অফ সি,পি,সি এর বিধান মতে ১৪২/৯৯নং সানি মামলা দায়ের করে প্রতিদ্বন্দিতা সূত্রে তাদের করা মামলাটি খারিজ হয়।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা সানি মামলা খারিজের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে মিস আপিল ৪৪/৯৩ দায়ের করলে দ্বিপক্ষ শোনানী করে গত ইং ৯/৬/৯৪ তারিখে রায় প্রদান করেন। ঐ রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, “পাংশা সহকারী জজ আদালতের বিবিধ ১৪২/৯২ নং সানি মামলার গত ইং ১৯/৮/৯২ তারিখের আদেশ রদ ও রহিত করিয়া মূল সানি মামলাটি অর্থাৎ বিবিধ ১৪২/৯২ নং মামলাটি অতি স্বত্তর ডিসপোস করবেন”। পরে ঐ বিবিধ ১৪২/৯২ মামলাটি পূনরায় ইং ৫/১০/৯৪ তারিখে আদালতে খারিজ হয়।

আদালতে ১৪২/৯২ নং মামলার গত ইং ৫/১০/৯৪ তারিখে এর খারিজের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে ২/৯৫নং মিস আপিল কেস দায়ের করেন। যাহা গত ইং ১৫/১/৯৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালত নাকজ করে দেন।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, রাজবাড়ীকে উপরোক্ত বিষয় উল্লেখে মাঝবাড়ী হুরুন্নেছা স্মৃতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে যোগদানের উদ্দেশ্যে আবেদন করলে জেলা প্রশাসক রাজবাড়ী উক্ত বিদ্যালয়ের কার্যকরী কমিটির বিরুদ্ধে শোকজের নোটিশ প্রদান করেন। প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা পরষদের অন্যান্য সদস্যরা জেলা প্রশাসক, রাজবাড়ী দপ্তরে হাজির হয়ে ২দিনের সময় নিয়ে পুনরায় পূর্বোক্ত দেওয়ানী ১৩০/৯১ মামলার রায় ও ডিগ্রী রত ও নিমিত্তে দেওয়ানী ৪৭/৯৭ নং মামলা দায়ের করেন। উক্ত দেওয়ানী ৪৭/৯৭ নং মামলাটি অনকনটেষ্ট গত ইং ৪/৩/৯৮ তারিখে এর রায় ও ইং ১০/৩/৯৮ তারিখের ডিগ্রীর বনিয়াদে বিজ্ঞ আদালত খারিজের আদেশ প্রদান করেন।

মামলার বাদী একজন মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে চাকুরিতে পূনর্বহাল এবং আর্থিক সহযোগীতার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে জেলা প্রশাসক, রাজবাড়ীকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক, রাজবাড়ী, জেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন অতিস্বত্তর নুরজাহান বেগম তর্কিত বিদ্যালয়ে আয়া পদে পূনঃনিয়োগ প্রদান করেন। কিন্তু হুরুন্নেছা স্মৃতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আয়া পদে পূণঃনিয়োগ প্রদান করেন। অথচ বিদ্যালয়ে কার্যকরী কমিটি সেই নির্দেশের প্রতি কোনরূপ তোয়াক্কা করেন নাই।

বাদী আদালতে (মেনডেটরী ইনজাংশন) আদেশ নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনায় দেওয়ানী ৩৮/২০০০ নং মামলা দায়ের করেন যা দ্বিপক্ষ বিচারে গত ইং ৩১/৫/০১ তারিখে রায় এবং ৬/৬/০১ তারিখে অত্র বাদীর অনুকুলে ডিগ্রী প্রদান করেন। ঐ রায় ডিগ্রীর বিরুদ্ধে বিবাদীগণ বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী আপিল ১০৭/২০০১নং মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলাটি বিচার নিস্পত্তির জন্য রাজবাড়ী বিজ্ঞ ১ম সাব-জজ আদালতে বদলী হয়ে গত ইং ২৯/৪/০২ তারিখে বিবাদীপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে শোনানী না করলে বিজ্ঞ আদালত ঐ দিন আপিল মামলাটি খারিজের আদেশ প্রদান করেন। বিবাদীগণ ঐ খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে ঐ একই আদালতে রিএডমিশন এর জন্য বিবিধ ১৯/০২ নং কেস দায়ের করেন। যা গত ইং ১৭/৯/০২ তারিখে শোনানী কালে না মঞ্জুর হয়। গত ইং ১৭/৯/০২ তারিখের না মঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে বিবাদীগণ ৬৮০০/০২ নং সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করেন। যা গত ইং ২২/৩/০৪ তারিখে ডিসচার্চের আদেশ হয়। গত ইং ২২/৩/০৪ তারিখে ডিসচার্চ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন। যাহা গত ইং ১৮/৫/০৪ তারিখে রিজেক্ট হয়ে যায়।

পরপর ১৪টি মামলায় বাদী মহিলা মুক্তিযোদ্ধা নুরজাহান বেগম তার পক্ষে রায় পাওয়ার পরও বিদ্যালয় পরিচালনা পরষদ ও প্রধান শিক্ষক তাদের শক্তি দেখিয়ে তাকে আদালতের রায়ের যে সকল নির্দেশ ছিল তা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। সম্প্রতি গতবছরের ২২ নভেম্বর নুরজাহানের পুত্র প্রধান শিক্ষক এর নিকট তার মায়ের পাওনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন প্রকার টালবাহানাপূর্ন কথাবার্তা বলতে থাকে।

একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে নাজেহাল করার বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছাত্তার মন্ডলের মূঠোফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন এখন বর্তমান প্রধান শিক্ষক তার কাছে শুনে দেখেন এর বেশী আমি কিছু বলতে পারবো না। বর্তমান প্রধান শিক্ষক এর মুঠোফেনে কল করলে তিনি রিসিভ করেন নাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution