আলু শুন্য রাজবাড়ীর বাজার

0
299

রুবেলুর রহমান ॥
সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে মোকামে আলুর দাম বেশি হওয়া এবং লোকসান ও জরিমানার ভয়ে আলু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন রাজবাড়ীর আড়তদাররা।
ফলে বাজারে আলু না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে আলুর প্রয়োজনীয়তা অপারেসিম। তাই বাজারে আলু না পেয়ে ােভ প্রকাশও করেছেন অনেক ক্রেতা। এদিকে রাজবাড়ীর খুচরা বাজারে শাক-সবজির দামও অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি।
জানাগেছে, রাজবাড়ী জেলা শহরের বড় পাইকারী কাঁচা বাজারে প্রতিদিন ২ থেকে ৩শ মন আলু আমদানি হতো। যা আজ কয়েকদিন হচ্ছে না । ফলে পাইকারী কাঁচা বাজারসহ খুচরা বাজার আলু শুন্য হয়ে পড়েছে। পাইকারী সহ খুচরা বাজার কোথাউ দেখা মেলেনি আলুর। ক্রেতারা একাধিক দোকান ঘুরেও পাচ্ছেন না আলু। এছাড়া আলু আমদানি বন্ধ থাকায় পাইকারী বাজারের ১৫জন শ্রমিক এখন অলস সময় পারছেন। তবে জেলা শহরের কোন কোন বাজারে কিছু আলুর দেখা মিললেও দাম বেশি।
রাজবাড়ী জেলা শহরের বড় পাইকারী কাঁচা বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের কাঁচা শাক সবিজ প্রক্রিয়াজাত, মাপ-ঝোপ ও দর দাম করছেন কৃষক, খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা। এ সময় বাজারে দৈনন্দিন জীবনের সকল ধরনের কাঁচা সবজির দেখা মিললেও কোন আড়তে দেখা মেলেনি আলুর। এছাড়া খুচরা বাজারেও আলু নাই। আড়ত গুলো পুরো খালি।
ক্রেতা আব্দুর রশিদসহ অনেকে জানান, তিনিসহ অনেকে কাঁচা বাজার করতে এনেছেন। কিন্তু বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরেও আলু পাননি। আলু তো প্রয়োজনীয় একটি সবজি। তার মত অনেকে বাজারে এসে আলু পাচ্ছে না। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্ময় না হলে, তাদের মত সাধারন ক্রেতাদের এভাবে হয়রানি হতে হবে।
আড়তের শ্রমিক সরদার খবির শেখ, তারা ১৫ জন শ্রমিক আলু লোড আনলোড করতেন। দাম বেশি হওয়ায় কয়েকদিন আড়তে আলু আসছে না। আর আলু না আসায় তাদের রোজগার কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে।
আড়তদার মোস্তাক আহম্মেদ, আব্দুল মতিন মিয়াসহ অনেকে জানান, তারা তো সরকার নির্ধারন করা দামে মোকাম থেকে আলু কিনতে পারছেন না। যে কারণে তারা আলু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন। আজ আড়তে কোন আলু নাই। কিন্তু আলুর ব্যবসা তাদের প্রধান ব্যবসা। বেশি দামে কিনলে তো বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। কিন্তু তখন প্রশাসন এসেই জমিরানা করেন। তাই লোকসান দিয়ে ব্যবসা না করতেই আলু আমদানি বন্ধ রেখেছেন। সরকারের নির্ধারন করা দামে কিনতে পারলে আলু আমদানি করবেন।
রাজবাড়ী জেলা শহরের বড় পাইকারী কাঁচা বাজারের সাধারন সম্পাদক আমান ট্রেডার্সের মোঃ আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকার নির্ধারন করেছে আলু আড়তে ৩০ টাকা কেজিকে বিক্রি করতে হবে। কিন্তু মোকাম থেকে তাদের কিনতে হয় ৪০/৪২ টাকা কেজিতে। যে কারণে তারা আলু বাজারে আনছেন না। ইতিমধ্যে বাজারের ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে সরকারী নির্ধারন করা দামে বিক্রি না করার অভিযোগে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী বিক্রি করলে প্রতিদিন কয়েক ল টাকা লোকসান হবে। এখন বেশি দামে কিনলে তো বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে। মোকাম থেকে কম দামে কিনতে পারলে, আলু আনবেন এবং তারা তখন কম দামে বিক্রি করবেন।
রাজবাড়ী জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে রাজবাড়ী ও বহরপুর বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন। এখন বাজারে আলুর সংকট রয়েছে । কয়েকদিনের মধ্যে নতুন আলু বাজারে উঠলে এ সংকট থাকবে না। এছাড়া শীতে সবজিও বাজারে উঠতে থাকায় দাম কমতে শুরু করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here