গোয়ালন্দে বেহাল সড়কে যান চলাচল বন্ধের উপক্রম

0
468

গোয়ালন্দ উপজেলার পৌরজামতলা থেকে রাজবাড়ী জেলা সদরে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বেরিবাঁধ সড়কে সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে যানবহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতেকরে এ সড়ক দিয়ে যাতয়াতকারী যানবাহন ও লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জানা যায়, অল্প সময়ে রাজবাড়ী সদরে সহজ যাতায়াতের জন্য বিকল্প সড়ক হিসেবে বেরিবাঁধ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পদ্মা পাড়ের দেবগ্রমা, ছোটভাকলা, রাজবাড়ী সদরের বরাট ও পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমির উৎপাদিত সবজিসহ কৃষি পন্য এই সড়ক দিয়ে সহজে বাজারজাত করা হয়ে থাকে। এছাড়া ওই চারটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই বেরিবাঁধ সড়ক। সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করে বছরের পর বছর প্রতিনিয়ত এ সড়কটি মেরামত কাজ করে চলাচলের উপযোগী রাখা হতো। কিন্তু সড়কটি প্রশস্ত করে নতুন সড়ক নির্মাণের প্রকল্প গ্রহন করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এতেকরে বন্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক সংস্কার কাজ। প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয় নতুন সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে সড়কের পাশের গাছ কাটাসহ অন্যান্য কাজ। দ্রুত সময়ের মধ্যে গাছ কাটা শেষ করলেও সড়ক নির্মাণ কাজে দৃশ্যমান তেমন কোন অগ্রগতি নেই। ইতিমধ্যে সড়কের মাঝে বড় বড় গর্ত হয়ে সব রকমের যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতেকরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে কোন না কোন দূর্ঘটনা। সড়কের মধ্যে সৃষ্ট গর্তে পড়ে যানবাহন উল্টে যাওয়াসহ বিকল হচ্ছে যানবাহন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, তিগ্রস্থ এই সড়ক দিয়ে যানবাহন তো দুরের কথা, মানুষেরও হেঁটে চলাচল করার উপায় নেই। নতুন সড়ক নির্মাণ করা বিলম্ব হলে অন্তত মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।
অটোরিক্সা চালক জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেরিবাঁধ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তাগিতে তাই বেরিবাঁধ সড়কের পরিবর্তে অনেক কষ্ট করে রেললাইনের পাশ দিয়ে চরম ঝুকি নিয়েই তারা চলাচল করছেন। জরুরী প্রয়োজন হলেও বেরিবাঁধ সড়ক দিয়ে অটোরিক্সা চালানো যায় না।
থ্রীহুইলা (মাহেন্দ্র) চালক সুলতান শেখ জানান, কম সময়ে সহজে চলাচলের জন্যে এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। অথচ এ রাস্তাটির এখন যে অবস্থা তাতে যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খুব জরুরী প্রয়োজনে ওই রাস্তায় গেলে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে-চুরে বিকল হয়ে যায়। অপরদিকে খানাখন্দের কারনে সময় ও জ্বালানী খরচও বেশি লাগে।
গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের শিক্ষক আব্দুল মাজেদ মিয়া জানান, এই সড়ক দিয়ে ২ কিলোমিটার দুরে আমার স্কুলে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে বর্তমানে রিক্সা চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। পায়ে হেঁটেও ঠিক মত চলাচল করার উপায় নেই।
গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান চৌধুরী জানান, গুরুত্বপূর্ণ বেরিবাঁধ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের সম্পন্ন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটির এ অবস্থায় চারটি ইউনিয়নের মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এ চার ইউনিয়নের কেউ অসুস্থ্য হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নেয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে এই সড়কটির কারণে।
এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ বেরিবাঁধ সড়কের গোয়ালন্দ উপজেলার পৌরজামতলা থেকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মৌলভী ঘাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রাস্তা ১২ ফুটের স্থলে ১৮ ফুট করা হচ্ছে। এতে ৩১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। যা চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা ছিলে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
এ পর্যন্ত কতটুকু সড়কের কাজ শেষ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজবাড়ী সদরের মধ্যে এক থেকে দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here