জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুট টানা ৭ মাস বন্ধ ॥ ভোগান্তি

0
278

মেহেদী হাসান ॥
পদ্মায় তীব্র নাব্য সংকট, অসংখ্য ডুবোচর ও ঘাট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারনে টানা ৭ মাস বন্ধ রয়েছে দক্ষিনাঞ্চলের সাথে উত্তরাঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম রাজবাড়ীর জৌকুড়া ও পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুটের ফেরি পারাপার। জীবনের ঝুকি নিয়ে কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে পার হচ্ছে লাখো মানুষ।
জানাগেছে, পদ্মার বুকে জেগেছে চর। অন্তত দুই কিলোমিটার পর্যন্ত চর জেগে উঠা ও পদ্মা নদীর মাঝে অসংখ্য ডুবোচরের কারনে গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বন্ধ হয়ে যায় রাজবাড়ীর জৌকুড়া ও পাবনার নাজিগঞ্জের ফেরি পারাপার। ঘাট কর্তৃপক্ষ কোটি টাকা খরচ করে বার বার ঘাট স্থানান্তর করার কথা বললেও কাজে আসেনি কিছুই। এই নৌরুট দিয়ে চলাচলকারী ফরিদপুর, রাজবাড়ী,পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুরা ও রাজশাহী জেলার লাখো মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।
রবিবার সকালে জৌকুড়া ঘাটে গিয়ে দেখাযায়, ধাওয়া পাড়া ঘাট থেকে জেগে ওঠা চরের মধ্যে প্রচন্ড রোদে বালুর মধ্যে দিয়ে পায়ে হেটে ঘাটের দিকে ছুটছে মানুষ। কেউ কেউ আবার যাচ্ছেন ঘোরার গাড়িতে চরে। ঘাটে পৌছার পর ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে ৬০ টাকা ভাড়া দিয়ে পার হচ্ছেন নদী।
এ সময় রাজবাড়ী থেকে পাবনাগামী যাত্রী হারুন খা বলেন, দক্ষিনাঞ্চলে সাথে উত্তাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথ হওয়া সত্তেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় চালু হচ্ছে না ঘাটটি। নেই সংযোগ সড়ক, ঘোরার গাড়িতে করে আসতে হচ্ছে ঘাটে। আমাদের দুঃখের যেন শেষ নেই। এই বিষয়টি দেখাও কেউ নেই।
অপর যাত্রী কামাল মোল্লা বলেন, যাত্রীরা ট্রলার পার হলেও যারা এই নৌরুট দিয়ে পন্য নেওয়া আনা করতো তাদের যেতে হচ্ছে কুষ্টিয়া জেলা ঘুরে অন্তত দুই শত কিলোমিটার বেশি ঘুরে পাবনা যেতে হচ্ছে। এতে পন্য পরিবহন খরচ বেরেছে কয়েকগুন।
জৌকুড়া ঘাটের ইজারাদার মেসার্স মোস্তাফিজুর রহমান শরিফের প্রতিনিধি সোহেল রানা ও সাইদুর রহমান সাইদ বলেন, এই ঘাটের ফেরি পারাপার বন্ধ ৭ মাস। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দুটি ট্রলার চালানো হচ্ছে। তাও আবার প্রতি এক ঘন্টা পর পর ছেড়ে যাচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগকে একটি সংযোগ সড়কের জন্য অনুরোধ করার পর তারা একটি সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করেছে। তবে কাজে একেবারেই ধীরগতি।
জৌকুড়া ঘাটের ব্যাবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, ফেরি চলাচল শরু থাকা অবস্থা প্রতিদিন সাড়ে চার থেকে পাচ হাজার টাকা বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ৮ শত থেকে মাত্র ১ হাজার। যার লাভ দিয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পরেছে। এছারাও অনেক ব্যবসায়ী দোকন গুটিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। কেই অটো রিকশা চালাচ্ছে কেই আবার কৃষি কাজ করছে।
আর ঘাট কর্তৃপক্ষ রাজবাড়ীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম হোসেন জানান, পদ্মায় নাব্য সংকটের কারনে ফেরি চলাচল বন্ধ কয়েক মাস। ঘাটটিকে সচল রাখতে নতুন একটি ঘাট স্থাপন ও সংযোগ সড়কের কাজ চলমান আছে। এই মাসের শেষ সপ্তাহে হয়ত চালু হবে ঘাটটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here