প্রতিবন্ধী রোজিনার স্বপ্নের নীড় ॥ গোয়ালন্দে ৪৩০ অসহায় পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঠিকানা

0
270

‘স্বপনেও কোন দিন ভাববার সাহস পাইনি আমাগো একটু জমি হইবো, খালি জমিই না, সেহানে একখান সুন্দর ঘর অইবো। তয় স্বপন না, হত্যিই আমাগো একখান ঠিহানা অইলো।’ গোয়ালন্দের বাক প্রতিবন্ধী রোজিনা খাতুনের (৩০) স্বামী শাকিল শেখ এভাবেই কথা গুলো বলছিলেন। তিনি বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাগো মতোন অসহায় মানুষগেরে জন্যি বিরাট কাম করতাছে। আমরা খাইয়া-না খাইয়া কুনোমতে দিন কাটাই। হারা জীবন মেহনত কইরাও এইরম একখান ঘর বানাইবার পারত না। আমরা আমাগো প্রধানমন্ত্রীর জন্যি আল্লার কাছে পরান খুইলা দোয়া করি।’
বাক প্রতিবন্দী রোজিনা খাতুন হত দরিদ্র স্বামী শাকিল শেখের সাথে থাকেন উপজেলার পশ্চিম উজানচর নবু ওছিমদ্দিন পাড়ায় এক দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের জরাজীর্ণ ঘরে। নিজেদের ঘর বা জমি বলতে তাদের কিছুই নেই। এই হত দরিদ্র দম্পতি সেমিপাকা একটি ঘর পাচ্ছেন। সঙ্গে পাচ্ছেন ২ শতাংশের একখণ্ড জমিও। জানতে চাইলে বাকহীন রোজিনা ইশারায় তার সীমাহীন আনন্দ প্রকাশের চেষ্টা করেন। শুধু এ অসহায় দম্পতি নয়। তাদের মতো এমন ঘর ও জমি পাচ্ছেন উপজেলার মোট ৪৩০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র মানুষ। প্রত্যেকের নামে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে দুই শতক করে খাসজমি। প্রতিটি ঘর নির্মাণ বাবদ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। যার পুরোটাই বহন করচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।
মুজিব শতবর্ষ উপলে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের অধীন ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ক শ্রেনীর পরিবারের জন্য গৃহ (দুই ক বিশিষ্ট সেমি পাকা) নির্মান কাজ বাস্তবায়নের নিমিত্ত আবাসিক ভবন নির্মান প্রকল্পের আওতায় এ ঘরগুলো নির্মিত হচ্ছে। নির্মিত ১৯ দশমিক ৬ ফুট বাই ২২ ফুটের দুটি শয়নক, একটি রান্না ঘর, সংযুক্ত পায়খানা-গোসলখানা ও সামনে বারান্দাসহ রঙিন টিনের ছাউনি দ্বারা এসব ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।
৭ কোটি ৩৫ ল ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে এসব ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৪৩০ টি ঘরের মধ্যে উপজেলার নদী ভাঙ্গন কবলিত দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ১৭০টি এবং দেবগ্রাম ইউনিয়নে ১০০টি ঘর বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া উজানচর ইউনিয়নে ৮৭ টি এবং ছোটভাকলা ইউনিয়নে ৭৩টি ঘর নির্মিত হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৩ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘর ও জমি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এজন্য দ্রুত প্রত্যেকটি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান, এ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ‘খ’ শ্রেনীভুক্ত ৭১৩ টি পরিবারের ঘরের জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আরেকটি প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে নদী ভাঙ্গনের শিকার এ উপজেলায় ঘরের প্রয়োজন অন্তত ৩ হাজার।
এদিকে বৃহম্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কে গৃহহীনদের ঘর প্রদান উদ্বোধনের ল্েয আয়োজিত মতবিনিময় সভায় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, জেলায় ১২ কোটি ৯৯ ল ৬০ হাজার টাকায় ৭৬০ জন গৃহহীনের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এরমধ্যে সদরে ১২০টি, পাংশায় ১০০টি, কালুখালীতে ৪০টি, বালিয়াকান্দিতে ৭০টি ও গোয়ালন্দে ৪৩০টি। ইতোমধ্যে ৬৩১টি ঘর নির্মান সম্পন্ন হয়েছে এবং বাঁকী ঘর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রস্তুত করে উপকারভোগীদের বুঝিয়ে দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here