কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানপারাপারে অচলাবস্থা

0
192

কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট বন্ধ থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা। গত এক সপ্তাহে ৬৩ ঘন্টা বন্ধ ছিল ব্যাস্ততম এই নৌরুট। প্রতিদিনই যাত্রীবাহি বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে থাকতে হচ্ছে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা। এছাড়া পন্যবাহি ট্রাকগুলো আটকে থাকতে হচ্ছে তিন থেকে চারদিন।
ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ ১২ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর রোববার সকাল ১০ টার দিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে নৌ-দূর্ঘটনা এড়াতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপ।
বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়সুত্রে জানাযায়, ঘন কুয়াশার কারনে গত সপ্তাহের রবিবার ১০ ঘন্টা, সোমবার ১১ ঘন্টা ও মঙ্গলবার ৯ ঘন্টা, বুধবার ২ ঘন্টা, বৃহস্পতিবার ৪ ঘন্টা, শুক্রবার ৯ ঘন্টা ও শনিবার ৬ ঘন্টা, রোববার ১২ ঘন্টা বন্ধ ছিলো ফেরি পারাপার। দীর্ঘ সময় ফেরি পারাপার বন্ধ থাকায় দিনের বেশির ভাগ সময়ই যানবাহনের লম্বা সাড়ি থেকেই যাচ্ছে দৌলতদিয়া ঘাটে। ভোগান্তিতে পড়ছেন এই নৌরুট দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখাযায়, সেখানে আগের দিন রাত ১০ টা থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা খুলনা মহা সড়কের অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় আটকে আছে যাত্রীবাহিবাস, প্রাইভেটকার, ও পন্যবাহি ট্রাকসহ অন্তত ৭ শত ছোট বড় যান বাহন।
এদিকে প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ করে ২০১৪ সাল এই নৌরুটে চলাচলকারী খানজাহান আলী, শাহ আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত ও কে-টাইপ ফেরি কপোতি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, শাহ আমানত ও শাহ পরান ফেরিতে ফগ এন্ড সার্চ লাইট সংযোজন করা হয়। কিন্তু সংযোজিত লাইট গুলো দিয়েও কুয়াশাকালীন সময়ে ফেরি চলাচল করতে পারছে না।
রোববার সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে আটকে থাকা যশোহর থেকে আসা ট্রাক চালক জীবন মিয়া বলেন, কুয়াশার কারনে ফেরি বন্ধ গত বৃহস্পতিবার যশোহর থেকে রওয়ানা হয়ে ওই দিনই রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ মোড়ে আসি এরপর পুলিশ সদস্যরা সেখানে আটকে রাখে তিন দিনে যানজট ঠেলতে ঠেলতে ঘাটের কাছাকাছি এসেছি। হয়ত বিকেল পর্যন্ত ফেরিতে উঠতে পারবো।
গোয়ালন্দ মোড়ে আটকে থাকা ট্রাক চালক আব্দুল হাকিম বলেন, আমি গত শুক্রবার এসেছি। গোয়ালন্দ মোড়ে যানজটে আটকে আছি। এরমধ্যে ঢাকা থেকে মালিক বারে বারে ফোন দিচ্ছে। এছাড়াও গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় একটি ফাকা জায়গায় আটকে থেকে ছিচকে চোরের ভয়ে রাত জেগে পাহারা দিতে হয়েছে ট্রাকের মালামাল।
অপর ট্রাক চালক রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা ট্রাক চালকেরা ঘাটের টার্মিনাল ফি বাবদ ৮০ টাকা প্রদান করি। এরপরও আমাদের টার্মিনালে না রেখে একটি ফাকা সড়কে রেখে দেওয়া হচ্ছে। এতে চোরের ভয়, নেই কোন টয়লেট, নেই খাবার হোটেল। এগুলো কার কাছে বলবো। বলে কোন লাভ হয় না।
বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যাবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, ফেরিতে যে লাইটগুলো স্থাপন করা হয়েছিলো সেগুলোর ব্যপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে আমরা বলেছি। ওই বিভাগটি বিআইডব্লিটিসির প্রকৌশল বিভাগ দেখাশোনা করে। আমরা শুধু ফেরি পরিচালনা করি। তবে গত এক সপ্তাহে কুয়াশার কারনে ঘাট সামাল দিতে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে। কুয়াশা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এখানে কারো হাত নেই। কুয়াশা কেটে গেলে এই নৌরুটের ১৬ টি ফেরি দিয়ে অগ্রাধীকার ভিত্তিতে যাত্রিবাহি বাস ও পচনশীল ট্রাকগুলো পারাপার করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here