রাজবাড়ীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় ইতিহাস বঞ্চিত শিার্থীরা

0
211

রুবেলুর রহমান ॥
বহু আন্দোলন সংগ্রামের পর অর্জন আমাদের মার্তৃভাষা বাংলা। এ ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন রফিক, সফিক, জব্বার, সালাম, বরকত সহ অনেকে। ২১ ফেব্রুয়ারী ফুলের শ্রদ্ধা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বরণ করা হয় ভাষা শহীদদের।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্বরণে স্মৃতি স্তম্ভ বা শহীদ মিনার নির্মানের কথা থাকলেও রাজবাড়ীর ৭৩৮ টি (প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নাই শহীদ মিনার। ফলে ভাষা শহীদ ও মার্তৃভাষার ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমোতি শিক্ষার্থীরা। তাই জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহদী মিনার নির্মানের দাবী সকল শ্রেনী পেশার মানুষের।
রাজবাড়ীতে (প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ) ৭৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭৩ টি শিা প্রতিষ্ঠানেই নাই শহীদ মিনার, রয়েছে মাত্র ১৬৫ টি প্রতিষ্ঠানে। জেলায় ৪৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭১টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে এবং নাই ৪১১ টি বিদ্যালয়ে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলে ২৫৬টি শিা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৪টি শিা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে এবং নাই ১৬২টি শিা প্রতিষ্ঠানে।
এদিকে জেলা শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে তৈরি করা হয়েছে রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। যেখানে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা সহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দিবসে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সরকারী-বেসরকারী, সাংষ্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের সদস্যরা।
শিার্থীরা জানান, পড়ালেখার মাধ্যমে শহীদ মিনার সম্পর্কে যতটা জানতে পারেন, তার থেকে বেশি জানতে পারবেন হয়তো বাস্তবে দেখে। এতে শহীদদের প্রতি ভালবাসার বর্হিঃ প্রকাশ ঘটবে। এ জন্য প্রতিটি শিা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা জরুরী এবং সরকারের এদিকে নজর দেয়া উচিত বলে মনে করেন।
কবি নেহাল আহম্মেদ জানান. বিভিন্নস্থানে ভাষা শহীদদের স্বরণে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু রাজবাড়ীর অধিকাংশ শিা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নাই। শিা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে শিার্থীদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগবে শহীদ মিনার কি? এটা কেন তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা শহীদ দিবস ও মার্তৃভাষা সম্পর্কে জানতে পারবে। এ জন্য প্রতিটি শিা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা প্রয়োজন। সবার ইতিহাস জানা প্রয়োজন।
শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক রেজাউল করিম সহ কয়েকজন শিক বলেন, অনেক বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী শহীদ মিনার থাকায় সেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নাই। তারপরও ইতিহাস জানতে প্রতিটি স্কুলে শহীদ থাকা দরকার। শিার্থীরা শহীদ মিনার দেখে মার্তৃভাষা ও শহীদ দিবস সম্পর্কে জানতে পারবে। আর শহীদ মিনার না থাকলে, দিবস সম্পর্কে জানতে পারবে না। অনেক শিার্থীর শহীদ মিনার দেখে তাদের মধ্যে কৌতুল জাগে কেন, কি করণে এটি তৈরি হয়েছে। তাই বাচ্চাদের এসব ইতিহাস জানাতে আর্থিক সমস্যা থাকলেও প্রতিটি স্কুলে শহীদ মিনার তৈরি করা প্রয়োজন। তাহলে বাচ্চারা এখান থেকে শিা নেবে।
জেলা প্রাথমিক শিা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী জানান, জেলায় ৪৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭১টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে এবং নাই ৪১১ টি বিদ্যালয়ে। ডিজি অফিস অভিন্ন নকশার মাধ্যমে শহীদ মিনার গুলো করবে বলে জেনেছেন।
জেলা শিা অফিসার সামছুন্নাহার চৌধুরী জানান, সম্প্রতি শহীদ মিনার নির্মানের কোন নির্দেশনা পাননি। জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলে ২৫৬টি শিা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৪টি শিা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে এবং নাই ১৬২টি শিা প্রতিষ্ঠানে। মার্তৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় ভাবে শিা প্রতিষ্ঠান গুলোতে নির্দেশনা আছে চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করার। যেসব শিা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসব শিা প্রতিষ্ঠানের আশাপাশের নিকটবর্তী শিা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে গিয়ে তারা যাবে। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্বচ্চো ৫ জন এবং শিা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেশি উপস্থিতিও করতে পারবে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিা ও আইসিটি) মোঃ মাহাবুর রহমান বলেন, জেলায় ১৬৫টি শিা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। শহীদ মিনারের মর্জাদা অুন্ন রাখতে সব সময় নজরদারি করেন। এবারের ২১ ফেব্রুয়ারী সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করার জন্য শিা প্রতিষ্ঠান গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন সহ অন্যান্য যারা বরাদ্দ দিতে পারে, সে েেত্র তাদের উদ্ভুদ্ধ করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মানসম্পন্ন শহীদ মিনার করতে উদ্ভুদ্ধ করছেন। শহীদ মিনার নির্মানের বরাদ্দ দেয় উপজেলা পরিষদ আবার অনেক েেত্র জেলা পরিষদও বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দ পাওয়া গেলে শহীদ মিনার নির্মিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here