গোয়ালন্দে এবার কুসুম ফুলের বাম্পার ফলন

0
251

মোজাম্মেল হক ॥
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুসুম ফুলের ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। এবার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হওয়ায় কুসুম ফুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কুসুম ফুল একটি বর্ষজীবি উদ্ভিদ। লম্বায় এটি ১-৩ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। কমলা-হলুদ রংয়ের ফুলগুলি প্রায় ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়।
জানাগেছে , কুসুম ফুলের গাছ দুই ধরনের হয়ে থাকে একটি বেশ বড় এবং উঁচু, অন্যটি খুবই ছোট ও ঝোপালো ধরনের। মূলত ছোট গাছ থেকেই বেশ রং এর ফুল পাওয়া যায় । কুসুম ফুল গ্রীষ্মে ফোটে। এরা পরিত্যক্ত মাঠ কিংবা চরঞ্চলের ঘাসবনে চাষ করে থাকে বেশির ভাগ জমিতে। তাছাড়া কুসুম ফুল নদীর তীরে, পাহাড়ের ঢালে, কৃষিজমিতে চাষ আবাদ করা করে থাকে । এখন চলছে কুসুম ফুল কাটা ও মাড়াই করে ঘরে তোলার পালা । এবারের ফলন দেখে কুসুম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে অনেক কৃষকেরাই। তবে কৃষকরা বলেন, কুসুম ফুলের বাম্পার ফলন এবং স্থানীয় বাজারে গতবারের চেয়ে দ্বিগুন দামে বিক্রি করতে পারছেন তারা
ঐতিহ্য গতভাবে মুলত, বীজের জন্যই কুসুম ফুলের চাষ করা হয়। এর বীজ খাদ্যদ্রব্য রঙিন ও সুঘ্রাণযুক্ত করতে এবং ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া এর বীজ থেকে তেল ও সংগ্রহ করা হয়।অনেক সময় মশলা হিসেবে জাফরানের পরিবর্তে কুসুম ফুল ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর বহুদেশে এটাকে জাফরান নামে বিক্রি করে ঠকানো হয়। মসলা হিসাবে এটার কোন মূল্য নাই।
কুসুম ফুলের ঔষধি গুনাবলী , গরম পানিতে এর নির্যাস শরীর থেকে ঘাম নির্গত করে বলে ঠান্ডাজনিত রোগশোকে ব্যবহৃত হয়। শিশু জন্মের পর এর বীজের পাউডার একটা কাপডড়ে নিয়ে গরম করে সেঁক দিলে ব্যথা উপশম হয়। এর ফুল আবার জন্ডিসের জন্য উপকারী। বর্তমানে জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশেষ প্রজাতির কুসুম ফুলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে যার থেকে ডায়াবেটিসের মহৌষধ ইনসুুলিন উৎপাদন করা হবে।
কৃষক রশিদ বলেন, এবার আমার কুসুম ফুলে বাম্পার ফলন হবে। আমি চরের জমিতে ১০ বিঘা কুসুম ফুল চাষ করেছি অনেক ভালো হয়েছে বিঘা প্রতি ৫ মণ করে হবে। আশা করছি গতবারে চেয়ে এবার ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো।
উপজেলা কৃষি অফিসার রকিবুল ইসলাম বলেন, এবার গোয়ালন্দ উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ১৩ হেক্টর জমিতে দু ধরনের কুসুম ফুল চাষ হয়েছে। এ বছর কুসুম ফুলের ফলন বাম্পা হবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here