1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

গোয়ালন্দে ওজন স্কেলে ওভার লোড চেকিংয়ের নামে চাঁদাবাজি ও হয়রানীর অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৮
  • ১১৭৮ Time View

শামীম শেখ ॥
গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে স্থাপিত বিআইডব্লিউটিসি’র ট্রাক ওয়েট স্কেলে ওভার লোড চেকিংয়ের নামে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া উপর মহলের নির্দেশে বড় বড় কোম্পানীর ট্রাক চেকিং না করেই ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিআইডব্লিউটিসি’র এই ওয়েট স্কেলে ১১ ডিসেম্বর থেকে মালামাল পরিবহনে ট্রাকের ওভার লোড নিয়ন্ত্রনের জন্য হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই স্কেলটি নৌ-মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন বিআইডব্লিউটিসি পরিচালনাধীন রয়েছে। আনসার বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ এতদিন এটি পরিচালনা করে আসছে। মন্ত্রনালয়ের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে মালামালসহ ২ এক্সেল বা ৬ চাকা বিশিষ্টি ট্রাক ২২ টন, ৩ এক্সেল বা ১০ বিশিষ্টি ট্রাক ৩০ টন, ও ৪ এক্সেল বা ১৪ চাকা বিশিষ্টি ট্রাক ৪০ টন ওজনের মাল বহন করতে পারবে। নির্ধারিত নির্দেশের বাইরে কোন ট্রাক অতিরিক্ত মাল বহন করলে ট্রাক ঘুরিয়ে দেয়া বা অতিরিক্ত মাল নামিয়ে রেখে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ রয়েছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত মাল বহনকৃত কোন ট্রাককে ঘুড়িয়ে দেয়া বা মাল নামিয়ে দেয়া সম্ভব না হলে বহনকৃত অতিরিক্ত মালের জন্য টন প্রতি বা এর ভগ্নাংশের জন্য ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করতে হবে। চিঠিতে ওজন স্কেল সন্নিকটে এ নির্দেশনা সম্বলিত ডিজিটাল বিলবোর্ড বা সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশও মানা হয়নি।

এ দিকে অভিযোগ রয়েছে, স্কেলে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জরিমানার পরিবর্তে মাল নামিয়ে দেয়া অথবা গন্তব্য স্থলে ফিরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায় করে চলেছেন। এতে করে নানাভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন চালকরা। এই স্কেলে আসা ট্রাকে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কিছু মাল বেশি থাকলেই ট্রাক প্রতি ৫ শত থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। আবার কখনও উৎকোচ পেলে মাল নামিয়ে নির্ধারীত ওজন ঠিক করে ওজন স্লিপ দেয়ার পর ওই মাল পুনরায় ট্রাকে বহন করার সুযোগ করে দেয়া হয়।

গত বুধবার রাত ১০টায় যশোহর গদখালী থেকে আসা কাচামাল ভর্তি সিলেট হবিগঞ্জের কাঁচামাল ব্যবসায়ী শুকুর আলী অভিযোগ করে রাজবাড়ীবিডিকে বলেন, পুলিশ প্রথমে আমার কাছে অতিরিক্ত মালের জরিমানা ১ হাজার টাকা চায়। জরিমানার রসিদ চাইলে পুলিশ টাকা নিয়ে রসিদ দেয়ায় অস্বীকার করে। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অস্বীকার করায় পুলিশ তাকে রাতে ৩ হাজার কেজি মাল গোয়ালন্দ উপজেলা মাঠে নামিয়ে দিতে বাধ্য করে। এতে তার ৩২ হাজার টাকার বেগুন, কপি, সীম নষ্ট হয়েছে বলে ওই বেপারী দাবী করেন। এ ছাড়া ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর থেকে আসা একাধিক ট্রাক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এখানে তাদের ভয় দেখিয়ে পুলিশ তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার অভিযোগ করেন।

সরেজমিন ওই স্কেলে একাধিকবার গিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্টদের কারো কাছে জরিমানা আদায়ের কোন রসিদ বই নেই। জরিমানা না নিয়ে উৎকোচ নেয়ায় ট্রাক চালকদের সাথে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের বাকবিতন্ডা হতেও দেখা যায়। নিরাপত্তার কারনে চালকরা মাল না নামিয়ে জরিমানা দিতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশ অপারগতা প্রকাশ করে।

এ ব্যাপারে আহলাদিপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি নবির হোসেন রাজবাড়ীবিডিকে জানান, জরিমানা আদায় করার দায়িত্ব আমাদের নয়। তা ছাড়া জরিমানা আদায়ের কোন রশিদ আমাদের কাছে নেই। তবে কেউ জরিমানা আদায় করলে তাদের সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব। এ সময় তিনি পুলিশের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে চালকরা আমাকে জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিআইডব্লিইটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাটের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম রাজবাড়ীবিডিকে জানান, মাল ভর্তি ট্রাক ফেরিতে ওঠার আগে এই স্কেলে ওজন করে স্লিপ দেয়া হয়। অতিরিক্ত মাল বহনের জন্য টন প্রতি ১২০ টাকা হারে আমরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকি। ওভার লোড ঠেকানো বা জরিমানা আদায় আমাদের দায়িত্ব নয়।

সড়ক ও জনপথের রাজবাড়ী জেলা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজবাড়ীবিডিকে জানান, সড়ক ও জনপথের স্কেল যেখানে আছে আমরা সেখানে জরিমানা আদায় করতে পারব। গোয়ালন্দে বিআইডব্লিউটি’র স্কেলে আমাদের কোন দায়িত্ব নাই। সেখানে আমাদের কোন লোকজনও নেই।

গত ৩১ জানুয়ারী ভারত থেকে আমদানী করা একটি স্টীল কোম্পানীর ৩০ টন ওজনের লোহার কয়েল ভর্তি ৬ চাকার ট্রাক এ স্কেল দিয়ে নির্বিঘেœ পার হতে দেখা যায়। জানা গেছে, গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার ষ্টীল মার্ক পাইপস লিঃ এর নামে ওই কোম্পানী বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ওই মালগুলো আমদানী করে। এর পর এই স্কেলে আসার পর উপর মহলের নির্দেশে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।

এ সময় ওই মাল বহনকারী ভৈরব ট্রান্সপোর্ট এজেন্সীর কর্মচারী হাবিবুর রহমান রাজবাড়ীবিডিকে জানান, এই মালগুলো অনেক আগেই ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে আনা হয়েছিল। এ স্কেল দিয়ে এ রকম ২৮ টি কয়েল ভর্তি ট্রাক পার করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ আছে।

এ সময় স্কেলে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের এটিএসআই আঃ কাদের কয়েকটি ট্রাক আটকে দেন। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট ও গোয়ালন্দ উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুলাহ আল সাদীদ ৩০ টন কয়েল ভর্তি ওজনের ৬টি ট্রাককে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

এ সময় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুর রহমান ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution