1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৩ অপরাহ্ন

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ব্যস্ততম এলাকায় চলছে অবৈধ যানবাহন, বাড়ছে প্রাণহানি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৮
  • ৯৬৪ Time View
মেহেদী হাসান

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত ব্যস্ততম ১৩ কিলোমিটার পথ মরনফাঁদে পরিনত হয়েছে। গত বছরে মহাসড়কের এ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আর এ সকল ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এলাকাবাসির অভিযোগ সড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে ফোরলেন না করায় বাড়ছে দুর্ঘটনা।

জানা যায়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে গোয়ালন্দ মোড়ের দুরত্ব ১৩ কিলোমিটার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গুলোর সাথে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই মহাসড়ক। প্রতিদিন চলাচল করে, খুলনা, যশোর, বরিশাল, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জসহ ২১ জেলার ৫ থেকে ৬ হাজার ছোট বড় যানবাহন। এসকল যানাবাহন বিভিন্ন মহাসড়ক হয়ে গোয়ালন্দ মোড় থেকে এই অংশে প্রবেশ করে। যে কারণে অন্যান্য মহাসড়কে চাইতে এখানে যানবাহনের চাপ থাকে বেশী। এছাড়া গোয়ালন্দ মোড় পাড় হবার পরই ফেরির সিরিয়াল পেতে রীতিমত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় গাড়ি চালকেরা। এতেকরে বাড়ছে দূর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

এ সব দুর্ঘটনার মধ্যে যেমন রয়েছে বড় পরিবহনের সংঘর্ষ তেমন রয়েছে মাহেন্দ্র ও নসিমন করিমনকে চাপা দেওয়ার ঘটনা। স্থানীয়রা রাজবাড়ীবিডিকে জানান, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দেদারছে চলছে অবৈধ নসিমন, করিমন ও ভটভটি যে কারনে ঘটছে এসব দুর্ঘটনা।

গোয়ালন্দ উপজেলার মকবুলের দোকান এলাকার নসিমন চালক আবুল কাশেম রাজবাড়ীবিডিকে জানান, আগের কর্মকর্তারা সহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল করতে না দিলেও বর্তমানে তারা শান্তিতে নসিমন ও করিমন চালাতে পারছেন। গোয়ালন্দ মোড় এলাকার থ্রী হুইলার (মাহেন্দ্র) চালক শহীদুল ইসলাম রাজবাড়ীবিডিকে জানান, তারা একটি সংগঠনের মাধ্যমে প্রশাসনের সাথে আলাপ-আলোচনার মহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন।

রাজবাড়ী জেলা ডিজেল চালিত অটোরিক্সা অটোটেম্পু মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ জুয়েল রাজবাড়ীবিডিকে জানান, তাদের সংগঠনের ২ শতাধিক মাহেন্দ্র রয়েছে। যেগুলো গোয়ালন্দ মোড় থেকে দৌলতদিয়া পর্যন্ত চলাচল করে। এই সব গাড়ির বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু নেই চালকদের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স, জীবন-জীবিকার তাগিদে কিছু দরিদ্র মানুষ এ গুলো চালাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

এদিকে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে এ সকল অবৈধ যানবাহন থেকে মাশুহারা আদায়ের অভিযোগের পাশাপাশি রয়েছে নানান অভিযোগ। যশোহর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী ট্রাক চালক আনোয়ার হোসেন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, কুয়াশার কারনে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে পন্যবাহি ট্রাক আটকে রাখা হয় গোয়ালন্দ মোড় এলাকায়। এ সময় হাইওয়ে পুলিশকে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে দিনের পর দিন সেখানেই বসে থাকতে হয়। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা পিকআপ চালক ফরিদ খান জানান, ভাই আপনারা আমাদের জন্য লেখেন, তবে আমাদের ট্রাক নম্বর প্রকাশ করবেন না। এতে আমাদের এই রুটে চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এই রুটের চাঁদাবাজি দেখার কেউ নেই, এর আগে আমাকে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা বলেছে আমাদের ব্যানারে আসেন মাসিক টাকা দিবেন কোন ভোগান্তিতে পরবেন না। যেমন ভোগান্তিকে পড়ে না মোক্তার মটরস, আশা মটরস, জে কে মটরস ইত্যাদি।

রাজবাড়ীর আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ নবী হোসেন খান চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে রাজবাড়ীবিডিকে জানান, ঢাকা-খুলনা মহা সড়কে নিয়মিতভাবে স্প্রীড গান মেশিন দ্বারা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই সাথে পরিবহনের চালকদের নিয়ে সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। মহাসড়কে নসিমন করিমন চলার ব্যপারে হাইকোর্টের নিশেধাজ্ঞা রয়েছে তারপরও শাখার রাস্তা থেকে চলে আসছে এসব অবৈধ যানবাহন বলে তিনি দাবি করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution