1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
Title :
অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছেন রাজবাড়ীর সকল ফিলিং ষ্টেশন গোয়ালন্দে ৪ কেজি গাজাসহ যুবক গ্রেফতার পাংশায় কবি সাহিত্যিকদের মিলন মেলায় গুনীজন সংবর্ধনা প্রধামমন্ত্রীর জনসভা থেকে চুরি হওয়া ফোনসেট গোয়ালন্দে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পাংশায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা পাংশায় জাল সনদে চাকুরীর অভিযোগ ‘বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব’ গোয়ালন্দে কৃষকলীগের সম্মেলনে নূরে আলম সিদ্দিকী হক ‘বিএনপি ভ্যান চালকদের নিকট থেকে চাল কেড়ে নিয়েছে’ -জিল্লুল হাকিম এমপি গোয়ালন্দে সহস্রাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু নিয়ে দিনব্যাপী ব্যাতিক্রমী আয়োজন গোয়ালন্দে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান

আমি একজন কিংবদন্তীর কথা বলছি, আমি একজন হুমায়ূন ফরীদির কথা বলছি…

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭
  • ১২৫৮ Time View

“মহিলা সমিতির সামনে দেখলাম ছোটখাট একটা জটলা, এগিয়ে গিয়ে দেখি যুবক বয়স্ক এক লোক চা খাচ্ছে, আর একদল যুবক তাকে ঘিরে ধরে চা খাওয়া দেখছে, যুবকটি হুমায়ূন ফরীদি। আমার এই বইটি সেই যুবককে উৎসর্গ করলাম”।– জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর “রজনী” গ্রন্থের উৎসর্গপত্রে লিখেছেন তাঁর মিতা সম্পর্কে।

মঞ্চ থেকে টিভি নাটক, আর সেখান থেকে নিতান্তই পেটের তাগিদে এসেছিলেন চলচ্চিত্রের রঙিন পর্দায়। যেখানেই গিয়েছেন, নিজ অভিনয় প্রতিভার গুণে জয় করেছেন দর্শকহৃদয়। চলচ্চিত্রে কিভাবে এলেন? এই প্রশ্নের জবাবে সোজাসাপ্টা বলেছিলেন– পরিচালক খোকনের সাথে। প্রশ্নকর্তা শুধরে দিলেন, না মানে এফডিসিতে কিভাবে? চটপট উত্তর- বেবীটেক্সিতে করে। বাংলা চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যিনি, সিনেমায় নায়কের চেয়ে খলনায়কের প্রতিই দর্শকের আকর্ষণ ছিল বেশী– তিনি হুমায়ূন ফরীদি।

সালটা ১৯৫২, মে মাসের ২৯ তারিখে, ঠিক আজকের এই দিনে ঢাকার নারিন্দায় জুট বোর্ডের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম ও গৃহিণী ফরিদা ইসলামের কোলজুড়ে এলেন ফরীদি। পরিবারের কোথাও অভিনয় বা সাংস্কৃতিক আবহ ছিলো না। একেবারেই শুন্য থেকে উঠে এসেছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে চাঁদপুর সরকারী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ভর্তি হলেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে। ক্লাস আর করা হলো না, কিছুদিন পরেই শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে গেলেন তিনি। যুদ্ধ শেষে ঢাকায় ফিরলেন, কিন্ত ঢাবিতে ফেরা হলো না আর।

এবার ফিরে যাই উনিশশো সাতাত্তরের ফরীদির কাছে। তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি। এর আগের বোহেমিয়ান জীবনের বর্ণনা না দিয়ে কেবল এটুকু বলাই ভালো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও উড়নচণ্ডী স্বভাবের কারণে ব্রেক অব স্টাডি হয়েছিল পাঁচ বছরের। বিশ্ববিদ্যালয় আর ফিরিয়ে নিল না তাঁকে? রেজাল্ট ছিল ভালো, চেষ্টা করলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সুযোগও পেয়ে গেলেন অর্থনীতি বিভাগে। এরপর আন্তঃহল নাটক প্রতিযোগিতায় নাটক লিখে ও নির্দেশনা দিয়ে প্রথম হলেন। সেখানেই বিচারক হয়ে আসা নাসিরউদ্দিন ইউসুফের সঙ্গে পরিচয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ঢাকা থিয়েটারে যাওয়া-আসা, টুকটাক ফাইফরমাশ খাটা। সে সময় ঢাকা থিয়েটার পথনাটক করছিল। চর কাঁকড়ার ডকুমেন্টারি ছিল ঘূর্ণিঝড়ের পটভূমিতে তৈরি পথনাটক। এই পথনাটকে প্রোডাকশনে কাজ করলেন ফরীদি। এরপর সংবাদ কার্টুনে ছোট্ট একটি চরিত্রে বিকল্প হিসেবে মঞ্চে উঠলেন। নাট্যকার সেলিম আল দীন তখন আল বেরুনী হলের হাউস টিউটর। তিনিই একদিন ফরীদিকে বললেন, একটু আয় তো! “শকুন্তলার দ্বিতীয় পর্ব” পড়ে শোনালেন সেলিম। ভাষা-শব্দ চয়নে রীতিমত স্তম্ভিত ফরীদি। নাসিরউদ্দিন ইউসুফের নির্দেশনায় এই নাটকেই সর্পরাজ তক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করলেন তিনি। সে সময় ঢাকা থিয়েটার তারকাখচিত দল। আছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আফজাল হোসেন, সুবর্ণা মুস্তাফা, জহিরউদ্দিন পিয়ার ও হাবিবুল হাসান। সে দলেই নাম লেখালেন ফরীদি। এরপর শুধু এগিয়ে যাওয়ার কাহিনী। “শকুন্তলা”র পর “ফণীমনসা”। তারপর “কিত্তনখোলা”, “কেরামত মঙ্গল”। নতুন করে শুরু হওয়া “সংবাদ কার্টুন”, “মুনতাসীর ফ্যান্টাসি”। গ্যেটে ইনস্টিটিউটের সঙ্গে “ধূর্ত উই”, “একটিই পাত্র” পথনাটক “বাসন”। নির্দেশনা দিলেন “ভূত” নাটকে। ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে সেটাই শেষ কাজ ফরীদির। আর “ধূর্ত উই”তে শেষ মঞ্চ-অভিনয়।সে সময় যাঁরা মঞ্চনাটক দেখেছেন, তাঁরা জানেন, কী অসাধারণ এক স্বর্ণযুগ ছিল আমাদের নাটকের ইতিহাসে। কত ধরনের নিরীক্ষা আর কত নিবেদিতপ্রাণ অভিনয়, নির্দেশনা!

এবার টিভি পর্দা জয়ের পালা। ৭০ দশকের শেষ থেকে মধ্য ৮০ পর্যন্ত সময়টি ছিল সম্ভবত বিটিভির স্বর্ণযুগ। বিনোদনের মাধ্যম বলতে ছিল সেই বিটিভি। এ সপ্তাহের নাটক, এ মাসের নাটক, ধারাবাহিক নাটক হিসেবে অসাধারন বেশ কিছু সৃষ্টি দর্শকদের বিটিভি উপহার দিয়েছে। এর পেছনে ছিলেন অনেক নিবেদিতপ্রান শিল্পী, প্রযোজক, কর্মকর্তা। অভিনেতা অভিনেত্রী এ আমলের মত গন্ডায় গন্ডায় ছিল না। তবে যারা ছিলেন বলতে গেলে সবাই অনন্য। বিশেষ করে আফজাল-ফরিদী-সুবর্না ছিলেন স্বতন্ত্র একটা যুগের মত। আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় “নিখোঁজ সংবাদ”- ফরিদীর অভিনীত প্রথম টিভি নাটক। “নিখোঁজ সংবাদ” নাটকটির মূল চরিত্রের জন্যই প্রযোজক আতিকুল হক চৌধুরী ফরীদির কথা ভেবেছিলেন। ফরীদি বলে দিলেন, মূল চরিত্রটি তিনি করবেন না, করবেন মাত্র এক সিনে থাকা এক বিপ্লবী ছেলের চরিত্র। সেটাতেই রাজি হতে হলো প্রযোজককে। অডিশন নিয়েও ঘাপলা। ফরীদি অডিশন দিলেন না। টিভি নাটকে ফরীদিই সম্ভবত প্রথম অডিশন ছাড়া শিল্পী। আশির দশকের দর্শকদের নিশ্চয়ই বিটিভি’র “আয়না” সিরিজের “ভাঙ্গনের শব্দ শুনি” (১৯৮৩) তে সেরাজ তালুকদারের কথা মনে আছে। সেলিম আল দীনের রচনা ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর পরিচালনায় এই নাটকে ফরিদীকে দেখা যায় টুপি দাড়িওয়ালা শয়তানের এক জীবন্ত মূর্তি রূপে। “আরে আমি তো জমি কিনি না, পানি কিনি, পানি…”, “দুধ দিয়া খাইবা না পানি দিয়া খাইবা বাজান”- এই ডায়লগ তখন তুমুল জনপ্রিয়। এরপর শহীদুল্লাহ কায়সারের “সংশপ্তক”(১৯৮৭-৮৮)-এ ‘কান কাটা রমজান’ চরিত্রে-ফরিদীর অনবদ্য অভিনয় কেউ ভোলে নি। ভোলা কি যায়! অসম্ভব! যখন এই বঙ্গ দেশটিতে বিটিভি নামে একটিমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল ছিল এবং দর্শক-শ্রোতারা সেই একটিমাত্র চ্যানেলের সাপ্তাহিক নাটক দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকত। সেই সাদাকালো প্যান্ডোরার বাক্সেই সেরাজ তালুকদার আর রমজানের চরিত্রে হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় দেখে বিস্ময়-বিমূঢ় হয়ে গেল দর্শক। খল চরিত্রে সাবলীল অভিনয় করে নায়কদের চাইতেও বড় তারকা বনে গেলেন ফরীদি। এর আগে অবশ্য নিখোঁজ সংবাদ, সেতুকাহিনী, চোরকাঁটা, ছিনিমিনি, সে- সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে ফেলেছেন তিনি। প্রচলিত ধারায় নায়ক বলতে চেহারার যে ধারণা আছে, তা ফরীদিই ভেঙে দিলেন।

নাটকের আলোচনার মধ্যেই ফরীদি সম্পর্কে আল মনসুরের একটি মূল্যায়নের কথা বলি—আল মনসুর বলছিলেন, “এ মাটিতে জন্ম নেওয়া সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চির উজ্জ্বল অভিনেতা হলো হুমায়ূন ফরীদি।” কীভাবে আল মনসুর সমসাময়িক একজন শিল্পীকে এভাবে ঈর্ষাহীন মূল্যায়ন করতে পারলেন? সেটার জবাব- অভিনয়ের প্রতি ফরীদির একাগ্রতা; এবং সেই সাথে সততা। তিনি নিজেই বলতেন- “আমি চাকরী করতে পারি না, ব্যবসা জিনিসটাও আমাকে দিয়ে হয় না। সবচাইতে কম খারাপ পারি যেটা, সেটা হচ্ছে অভিনয়; তাই সেটাকেই জীবিকার কাজে লাগিয়েছি।” অভিনেতা যায়, আসে। কিন্তু কিংবদন্তি তৈরি হয়। একবার গেলে আর আসে না। নজরুলের ধুমকেতুর মত- “আমি যুগে যুগে আসি; আসি আসি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু। এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধুমকেতু।” ফরীদিরা বার বার আসেন না। যুগেই আসেন, একবার। এসে বিপ্লব সাধন করেই চলে যান।

চলচ্চিত্রে হুমায়ূন ফরীদির আগমনটা ছিল- “এলাম, দেখলাম, জয় করলাম” টাইপের। শহীদুল ইসলাম খোকনের “সন্ত্রাস” চলচ্চিত্রে খলচরিত্র দিয়ে রঙিন পর্দায় যাত্রা শুরু। প্রায় দুই যুগের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন আড়াইশোর বেশী ছবিতে। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে “বিচার হবে”, “আনন্দ অশ্রু”, “পালাবি কোথায়”, “হুলিয়া”, “একাত্তরের যিশু”, “ব্যাচেলর”, “জয়যাত্রা”, “শ্যামল ছায়া”, “আহা”, “প্রিয়তমেষু”, “মেহেরজান” ইত্যাদি। নায়ক-খলনায়ক দু চরিত্রেই তিনি ছিলেন সাবলীল, এক কথায় ভার্সেটাইল। এক সময়ে মানুষ আর নায়ককে না, এক ভিলেনকে দেখতেই হলে যেতেন। সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী খলনায়ক ফরিদী। প্রায় দেড় দশক তিনি দর্শকদের চুম্বকের মত সিনেমা হলে আটকে রাখেন। ২০০৩ সালের পর সিনেমা প্রায় ছেড়ে দিলে দর্শকও হলবিমুখ হতে শুরু করে। তার অভিনীত শেষ সিনেমা “এক কাপ চা” ২০১৪ সালে মুক্তি পায়। নাটকে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি মেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা। আর ২০০৪ সালে “মাতৃত্ব” ছবিতে সেরা অভিনেতা হিসাবে পান “জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার”। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে কিছুদিন অতিথি শিক্ষক হিসাবেও পাঠদান করেছিলেন তিনি।

ষাট বছর জীবনকাল কি খুব বেশী সময়? হুমায়ূন ফরীদির মতো প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীর বেঁচে থাকার জন্য কি ষাটটা বছর যথেষ্ট?? মোটেই না। আরো অনেক কিছু দেয়ার ছিলো, অনেক অনেক অসাধারণ কাজ করার ছিলো। মঞ্চে ফিরতে চাননি কখনো, এক অজানা অভিমানে। কিন্ত মঞ্চেই শেষ কাজটা করার ইচ্ছেটা পুষে রেখেছিলেন মনের ভেতরে। শেক্সপিয়রের “কিং লিয়র” চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলেন। পারেননি। স্রষ্টা তাঁকে সেই সুযোগ দেননি। মাত্র ষাট বছর বয়সে ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী, বসন্তের প্রথম দিনে ধানমন্ডির বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুনী অভিনেতা।

ব্যক্তিগত জীবনে পরিপূর্ণভাবে সুখী কখনোই ছিলেন না। স্বাধীনতার পর সহপাঠীর বোন নাজমুন আরা বেগম মিনুর গলায় বেলী ফুলের মালা দিয়ে বিয়ে করেছিলেন। মিনু তাঁকে বোহেমিয়ান জীবন থেকে সংসারের সাজানো শয্যা পেতে দিয়েছিলেন। ধরে রাখতে পারেন নি। টেকেনি। প্রথম প্রেমের সেই মালা ছিঁড়ে সূবর্ণা মুস্তাফার গলায় পরিয়েছিলেন। না ফেরার দেশে পাড়ি জমানোর বছর চারেক আগে সে বন্ধনও ভেঙে যায়।

“বাঁচো এবং বাঁচতে দাও”-প্রায়ই এমন একটা ফিলোসফিক্যাল কথা বলতেন ফরিদী। সহ-অভিনেতাদের কাছে তার দরাজ দিলের কথা শোনা যায়। নাট্যাঙ্গনে নাকি একটি কথা প্রচলিত ছিল যে, যদি টাকা লাগে তবে হুমায়ূন ফরিদীর কাছ থেকে ধার নাও। কারণ ফেরত দিতে হবে না। কাউকে টাকা দিলে তা নাকি বেমালুম ভুলে যেতেন। তাই কোনদিন ফেরতও চাইতেন না। একবার সেটে চঞ্চল চৌধুরীকে দুপুরের খাবারে ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে দেখেছিলেন। চঞ্চলের ভর্তা পছন্দের কথা শুনে একদিন বাসায় নানা রকমের ভর্তা বানিয়ে তাঁকে আসতে বলেন। চঞ্চল তখন পাবনাতে। রাত দুইটায় তিনি ঢাকা ফিরলে ঐ রাতেই নাকি ফরীদির বাসায় যেতে হয় দাওয়াত রক্ষা করতে। গিয়ে দেখেন প্রায় ৫০ রকমের ভর্তা সামনে করে বসে আছেন ফরিদী। আরেকবার নাকি হোতাপাড়া থেকে সূবর্ণার জরুরী ফোন পেয়ে রাত ২ টার পর ঢাকায় রওনা হন। হঠাৎ মনে পড়ে প্রোডাকশনবয় ইসমাইলকে কোন টিপস দেয়া হয়নি। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে বহু দূর এসে নিজে গাড়ি চালিয়ে আবার সেটে ফিরে গিয়ে ঐ রাতেই তাকে কিছু দিয়ে ঢাকায় ফেরেন। এমন বহু গল্প আছে তাঁর হৃদয়ের বিশালতার সাক্ষী হয়ে।

ফরীদির জীবনটা যেন অনেকটা দেবদাসের মতো। স্নানঘরে পড়ে গিয়ে কী করুণ মৃত্যু! দেবদাসের করুণ মৃত্যুর পর উপন্যাসের শেষাংশে শরৎচন্দ্রের মন্তব্য ছিল- “এখন এত দিনে পার্বতীর কি হইয়াছে, কেমন আছে জানি না। সংবাদ লইতেও ইচ্ছা করে না। শুধু দেবদাসের জন্য বড় কষ্ট হয়। তোমরা যে কেহ এ কাহিনী পড়িবে, হয়ত আমাদেরই মত দুঃখ পাইবে। তবু যদি কখনো দেবদাসের মত এমন হতভাগ্য, অসংযমী পাপিষ্ঠের সহিত পরিচয় ঘটে, তাহার জন্য একটু প্রার্থনা করিও। প্রার্থনা করিও আর যাহাই হোক, যেন তাহার মত এমন করিয়া কাহারও মৃত্যু না ঘটে। মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময়ে যেন একটি স্নেহ করস্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে-যেন একটিও করুণার্দ্র স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়। মরিবার সময় যেন কাহারও এক ফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে।”

তথ্যসূত্র- দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক পূর্বকোন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং আমারব্লগ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution