“সময়ের জানালাঃ বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা”

0
930

 

ডাঃ রাজীব দে সরকার
উপদেষ্টা সম্পাদক, রাজবাড়ীবিডি.কম

আসুন একটু অবাক হই,

জাতিগত ভাবেই বিস্ময় আমাদের কম।

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এলেন শেখ হাসিনা। তখন তিনি শুধুই ‘শেখ হাসিনা’। সামনে পেছনে লেখার মতো আর কোন পরিচয় নেই। পরিচয় একটাই তিনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, তিনি বাংলাদেশের জাতির পিতার মেয়ে।

অথচ জাতির সব থেকে বেশী ভালোবাসার সেই মানুষটাকে ১৯৭৫ সালে আমরাই সপরিবারে মেরে ফেললাম।

কতোখানি অসীম সাহস আর বাংলার মানুষের উপর আস্থা থেকে একটা অনাথ মেয়ে দেশে ফিরে আসতে পারে, আমরা কী তা ভাবতে পারি? সেই মেয়েটা, প্রায় অভিভাবকহীন একটি রাজনৈতিক দলের হাল ধরেছিলেন, সভানেত্রীর চ্যালেঞ্জপূর্ণ আসনটি নিয়েছিলেন, আজ ১৫ বছর সেই দলকে রাষ্ট্রক্ষমতায় রেখেছেন, নিজে কারাবরণ করেছেন, ১০ বছর জাতীয় সংসদে বিরোধী দলে থেকে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলেছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

অন্তঃত এই ভেবে আমি গর্বিত, আমি তাঁর সময়ের বাংলাদেশকে পেয়েছি।

 

ভূ-রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের কারনে এদেশে রাজনীতিতে ক্ষমতা গ্রহণই শেষ কথা নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ক্ষমতা ধরে রেখে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলো রক্ষা করে, উন্নয়নের পথে হাঁটা ও জনগণের জন্য কাজ করাটা একেবারে সোজা কাজ না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অন্তঃত সেটি করছেন, করে যাচ্ছেন।

 

এমন একটি দেশে সেই মেয়েটি আছে, যে দেশে তাঁর বাবার মতো তাঁকেও মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। সুপরিকল্পিত গ্রেনেড-গুলির বৃষ্টি ছুটে গেছে তাঁর দিকে। নিতান্তই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় বেঁচে আছেন তিনি। তবু তাঁকে নিয়ে ষড়যন্ত্র থেমে ছিলো না, থেমে নেই। অথচ তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশকে ১০ বছরে তিনি কতোটা এগিয়ে দিলেন সেই পরিসংখ্যানে যাবো না। তবে বাংলাদেশ আজ আর আগের বাংলাদেশ হয়ে দাঁড়িয়ে নেই। আজ বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদার একটি নাম।

আজ বাংলাদেশের দিকে অনেক দেশের অনেকগুলো বড় বড় চোখ গভীর মনোযোগে পড়ে থাকে। জাতির জনকের জীবিত আরেক সন্তান প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানার একটি উক্তি মনে পড়ছে (২০১২ এর সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ‘নন্দিত নেতৃত্বে শেখ হাসিনা’ গ্রন্থ থেকে)… “হাসু আপা প্রধানমন্ত্রী হয়েছে শুধুমাত্র আমাদের পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। স্বপ্নটি হলো বাংলার মানুষ উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। বিশ্বে বাঙ্গালী বীরের জাতি হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদার আসন পাবে। হাসু আপার উপর যে গুরুদায়িত্ব রয়েছে তা যেন সে জীবন দিয়ে হলেও বাস্তবায়ন করে যেতে পারে।”

 

এতোটুকু কথা অনেক কিছু বলে দেয়। দু’জন পিতাহারা মেয়ের দেশকে নিয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা বলে দেয়। পরিবার হারিয়েও গোটা দেশকে পরিবার বানাতে চাওয়ার আকুতির কথা বলে দেয়।

 

জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাবনা, দর্শন, অক্লান্ত পরিশ্রম, এতোদিনের কাজ, সে যাই হোক, যে যাই বলুক, আমরা কেন তা মানবো? কেন এসব বুঝতে চাইবো? হুম, আসলেই বুঝতে চাইবো না। কারন যে বুলেট জাতির জনককে হত্যা করেছিলো, সেই বুলেট কোন অবাঙ্গালীর হাত থেকে চালানো হয়নি। সেই রক্ত তো আমাদের শরীরে দু’এক ফোঁটা রইবেই। আমরা দেশের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দরদটুকু বুঝবো না, এটাই স্বাভাবিক। কারন আমরা বুঝতে শিখিনি। আমাদের বুঝতে দেওয়া হয়নি। খুব যত্ন করে, দিনের পর দিন পরিকল্পনা করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর বিরুদ্ধে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিষবাষ্প ছড়ানো হয়েছে। আর এখন ছড়ানো হয় গুজব।খেলার ধরণটা পালটেছে, খেলাটা বদলায় নি।

বিশ্বের বহু দেশের প্রতাপশালী মানুষেরা বাংলাদেশের উন্নয়নে চোখ ছানাবড়া করেছেন, কিন্তু তাতে আমাদের কী আসে যায়।

আমরা এতে অবাক হই না, আমরা অবাক হতে পারি না।

আচ্ছা অবাক হওয়ার দরকারও নাই।

আসুন, একটু কৃতজ্ঞ হই।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ধন্যবাদ

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here