1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

‘রাজবাড়ী-২আসন’ আওয়ামী লীগে এমপি বনাম বাকিরা, দ্বন্দ্ব বিএনপিতেও

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
  • ৩৩৪৪ Time View

স্থানীয় এমপি ও দলীয় নেতা জিল্লুল হাকিমের বিরুদ্ধে একাট্টা রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ এমপির ওপর। তবে বিএনপির কাদা ছোড়াছুড়ি এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এমন দ্বন্দ্ব-বিবাদে বিব্রত দলের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি জিল্লুল হাকিম রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। নিজের আসনে যথেষ্ট আধিপত্য রয়েছে তার। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী নির্বাচনে তার অবস্থান ও ভূমিকা কী হবে, তা অনিশ্চিত। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজপথে থাকা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করছেন না বর্তমান এমপি। জিল্লুল হাকিম ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার নিজস্ব লোকদের মনোনয়ন দিয়েছেন। এসব কারণেও অনেক নেতাকর্মী তার ওপর ক্ষুব্ধ।

এ প্রসঙ্গে জিল্লুল হাকিম বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল। হাজার হাজার নেতাকর্মীর সবাইকে তো সমান সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। তার পরও তিনি সবাইকে যথার্থভাবে মূল্যায়নের চেষ্টা করেন। ২০০৮ সালে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে প্রায় সাড়ে ১৩শ’ জনকে চাকরি দিয়েছেন তিনি। দলকে সুসংগঠিত করেছেন। আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা তার।

এদিকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সনালও। তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় থাকলেও রাজবাড়ীর ত্যাগী, পরীক্ষিত ও প্রবীণ নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত। এই নেতাকর্মীদের দুর্দিনে তাদের পাশে থাকতে চাইছেন তিনি। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছেন। যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। এবারও তিনি একই লক্ষ্যে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নিয়মিত গণসংযোগ ও সাংগঠনিক বৈঠক করছেন। শেখ সোহেল বলেন, তিনি সাধারণ মানুষ ও দুর্দিনের নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন, এখনও আছেন।

মনোনয়নের আরেক দাবিদার দৈনিক জনতার আদালত পত্রিকার সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হক বলেন, বর্তমান এমপির কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে পছন্দের লোকদের মনোনয়ন দিয়ে তিনি ক্ষোভের সঞ্চার করেছেন। বেশিরভাগ লোক তাকে আর এমপি পদে দেখতে চাইছে না।

দলীয় কোন্দলে জর্জরিত রাজবাড়ী শাখা বিএনপিও। দীর্ঘদিন ধরে খৈয়ম গ্রুপ ও খালেক-হারুন গ্রুপ সমর্থকরা আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিরুল হক সাবুর সঙ্গে জেলার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। পাংশায় বিএনপির কার্যক্রম অনেকটাই ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে বিএনপির জন্য এই আসনে জয় পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

নাসিরুল হক সাবু এবারও দলের মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।  তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির কোনো কোনো নেতার যোগাযোগ রয়েছে। এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। নির্বাচনের আগেই এ সমস্যার সমাধান করা জরুরি। দলীয় কোন্দল নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, নির্বাচন সামনে রেখে তিনি মাঠেই আছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তার দাবি, দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তাকে ডেকে নিয়ে মনোনয়নের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

অবশ্য হারুন অর রশীদও বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, বর্তমানের কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও খুব কৌশলে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কেন্দ্রের নির্দেশ শতভাগ পালন করেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। কোনো দুর্বলতা না থাকায় তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। যদিও দলীয় কোন্দল ও বিভেদ নিয়ে তিনি বিব্রতও অনেকটা।

বালিয়াকান্দি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম শওকত সিরাজ  বলেন, তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ফরিদপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি। তিনিও দলের নীতি-আদর্শে শতভাগ বিশ্বস্ত। তিনি ১৯৯১ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এবারও প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। জেলা বিএনপির এই সহসভাপতি বলেন, সব দলেই কমবেশি বিরোধ থাকে। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে সব বিভেদ দূর হয়ে যাবে।

কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন দলের পাংশা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম শামীম। তবে বর্ষীয়ান নেতা অ্যাডভোকেট এবিএম নুরুল ইসলামও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চাইতে পারেন।

এদিকে জাসদের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সাবেক এমপি আবদুল মতিন মিয়া। তিনি বলেন, জাসদ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি অবশ্যই দলের প্রার্থী হবেন। তিনি সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছেন।

এই আসনে ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের খোন্দকার নুরুল ইসলাম। এ ছাড়া ১৯৭৯ সালে জাসদের আবদুল মতিন মিয়া, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির নাজির হোসেন চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে জাসদের মোসলেম উদ্দিন মোমেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ডা. একেএম আসজাদ, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের জিল্লুল হাকিম, ২০০১ সালে বিএনপির নাসিরুল হক সাবু এবং ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের জিল্লুল হাকিম বিজয়ী হন। (তথ্যসুত্র সমকাল)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution