1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

বেতন বাড়লো পৌনে ৪ লাখ প্রাথমিক শিক্ষকের

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
  • ৫১০ Time View

বাড়লো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন। সারাদেশের ৩ লাখ ৭৫ হাজার শিকের বেতন বাড়িয়ে রোববার আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেতন বাড়ানোর ফলে এই শিকরা এখন জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক দের বেতন বাড়ানো হয়েছে। এতোদিন সহকারী শিকদের মধ্যে প্রশিণপ্রাপ্তরা ১৪তম গ্রেডে (১০ হাজার ২০০ টাকা) এবং প্রশিণবিহীনরা ১৫তম গ্রেডে (৯ হাজার ৭০০ টাকা) বেতন পেতেন।
সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল প্রাথমিক শিকদের বেতন সম্মানজনক গ্রেডে নেওয়া। সেটির বাস্তবায়ন করা হলো। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে প্রাথমিক শিকদের বেতন বেড়েছে। নতুন এই বেতন স্কেল শিকদের জীবনমান আরও উন্নত করবে এবং সামগ্রিকভাবে তা শিার জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে মনে করি। তিনি জানান, আজকালের (রোববার-সোমবার) মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিকদের বেতনও বাড়ানো হবে।
তবে বেতন বাড়ানোর এই পদেেপ খুব বেশি সন্তুষ্ট হতে পারেননি শিকরা। কারণ, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি বেতন। এ নিয়ে শিকদের মাঝে হতাশাও রয়েছে। সহকারী শিকরা চেয়েছিলেন তাদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০ টাকা) উন্নীত করা হোক। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবে সায় দেয়নি।
বেতন স্কেল উন্নীতকরণের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। গত নভেম্বরে তারা বেতন বাড়ানোর দাবিতে ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিা সমাপনী পরীা (পিইসি) বর্জনেরও ডাক দিয়েছিলেন। তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেেিত তারা সে কর্মসূচি স্থগিত করেন। অবশেষে রোববার তাদের বেতন বাড়ানোর এই আদেশ জারি হল।
বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত দেশের ১৪টি প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক ঐক্য পরিষদে’র সদস্য-সচিব ও সহকারী শিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মাসুদ সমকালকে বলেন, আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। খুব শিগগিরই আমরা সব সংগঠন মিলে বসে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবো।
প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকের সহকারী শিকদের সর্বশেষ বেতন বাড়ানো হয়েছিল ২০১২ সালের ৯ মার্চ। তখন সহকারী শিকদের বেতন এক ধাপ বাড়িয়ে ১৫তম থেকে ১৪তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছিল।
বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৯০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার সহকারী শিক ও ৪২ হাজার প্রধান শিক রয়েছে। প্রধান শিকের পদ শূন্য থাকা বাকি বিদ্যালয়গুলোতে চলতি দায়িত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে। এবছর বেতন বাড়লে সহকারী ও প্রধানশিক, সবমিলিয়ে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক এ সুবিধা পাবেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, পদ অনুযায়ী প্রধান শিকদের নিচের ধাপে সহকারী শিকদের অবস্থান। অথচ, এতদিন প্রধান শিকদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে, সহকারী শিকদের বেতন ১৪তম গ্রেডে রাখা হয়েছে। এটি বৈষম্য। তাই আমাদের দাবি প্রধান শিকদের বেতন ১০তম গ্রেডে নিয়ে আমাদের বেতন গ্রেড ১১তম ধাপে নির্ধারণ করা হোক।
এই নেতা বলেন, গত ৭ বছর ধরে তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছেন। অথচ তাদের দাবি পূরণ না করে প্রত্যাশার চেয়ে নিম্নতম ধাপে নির্ধারণ করা হলো। এতে সারাদেশের লাখ লাখ প্রাথমিক শিক আশাহত হবেন। তাদের প্রাণের দাবি ছিল ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ। শিক নেতা শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, বর্তমানে একজন প্রধান শিক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন, একজন সহকারী শিক সেই স্কেলের এক গ্রেড নিচে চাকরি শেষ করেন, যা সহকারী শিকদের জন্য চরম বৈষম্য।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিকরা যে শিাগত যোগ্যতা নিয়ে চাকরিতে যোগদান করি। একই যোগ্যতায় অন্য ডিপার্টমেন্টে যারা সরকারি চাকরি করেন তাদের বেতন গ্রেডও আমাদের তুলনায় ৩ থেকে ৪ ধাপ উপরে। এমনকি ত্রে বিশেষে শিকদের চেয়ে কম শিাগত যোগ্যতা নিয়ে অন্য ডিপার্টমেন্টে সহকারী শিকদের তুলনায় বেশি বেতনে চাকুরি করেন। আমরা সম্মানজনক বেতন স্কেল প্রত্যাশা করি, যা আমাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে প্রধান শিক ও সহকারী শিক উভয়েই ১৩৫ টাকা বেতন পেতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিাকে জাতীয়করণের পরবর্তীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক ও সহকারী শিকের মাঝে বেতনের কোনো ব্যবধান ছিল না। প্রধান শিকরা কার্যভার ভাতা হিসেবে ১০ টাকা বেশি পেতেন। ১৯৭৭ সালে প্রশিণপ্রাপ্ত প্রধান শিক বেতন পেতেন ১৫তম গ্রেডে ৩২৫ টাকা তখন প্রশিণপ্রাপ্ত সহকারী শিক পেতেন ১৬তম গ্রেডে ৩০০ টাকা। প্রধান শিক ও সহকারী শিকের মধ্যে গ্রেডের ব্যবধান ছিল ১ ধাপ।
১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত একজন প্রশিণপ্রাপ্ত প্রধান শিক বেতন পেতেন ১৬তম গ্রেডে ৭৫০ টাকা এবং একজন প্রশিণপ্রাপ্ত সহকারী শিক বেতন পেতেন ১৭তম গ্রেডে ৬৫০ টাকা। ব্যবধান ছিল ১০০টাকা। ২০০৬ সাল পর্যন্ত একজন প্রশিণপ্রাপ্ত প্রধান শিক ১৬তম গ্রেডে ৩,১০০ টাকা এবং প্রশিণপ্রাপ্ত সহকারী শিক ১৭তম গ্রেডে ৩,০০০ টাকা বেতন পেতেন। ব্যবধান ১০০ টাকাই ছিল।
কিন্তু ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট বেতন আপগ্রেডের নামে প্রশিণপ্রাপ্ত প্রধান শিকদের ১৩তম গ্রেডে ৩,৫০০ টাকা এবং প্রশিণপ্রাপ্ত সহকারী শিকদের ১৫তম গ্রেডে ৩,১০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়। এই সময় ২ ধাপ বেতন বৈষম্যের সৃষ্টি হয় এবং বেতনের ব্যবধান হয় ৪০০ টাকা।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিকদের বেতন ও পদমর্যাদা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। তখন প্রশিণপ্রাপ্ত প্রধান শিকের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয় ২য় শ্রেণির পদমর্যাদাসহ ১১তম গ্রেডে ৬,৪০০ টাকা এবং প্রশিণপ্রাপ্ত সহকারী শিকের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা ৩য় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ১৪তম গ্রেডে ৫,২০০ টাকা। বেতন গ্রেডের পার্থক্য হয় ৩ (তিন) ধাপ।
৩য় শ্রেণি থেকে প্রধান শিকগণ ২য় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও সহকারী শিকরা ৩য় শ্রেণীর পদেই থেকে যান। বেতন আপগ্রেডের সময় মূল বেতনের ব্যবধান হয় ১২০০ টাকা এবং ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে -স্কেলে সে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৩০০ টাকা। জাতির জনকের সময়ে প্রধান শিক ও সহকারী শিকের মধ্যে বেতন স্কেলের ব্যবধান না থাকলেও এতোদিন তিন ধাপ ব্যবধানে ছিল।
নতুন বেতন স্কেল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রংপুর ক্যাডেট কলেজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকিা রওশন আরা বীথি বলেন, নতুন বেতন স্কেলে বেতন ফিপেজেশন নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হবে। এতে তিনি অবসরে যাওয়ার সময় নতুন শিকদের চেয়ে অন্তত সাত থেকে আট লাখ টাকা বঞ্চিত হবেন।
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড। অথচ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হল ১৩তম গ্রেড। এতে শিক সমাজ অসন্তুষ্ট ও মনোুণ্ন। শিায় বরাদ্দ বাড়ালে তা হবে জাতি গড়ার জন্য বিনিয়োগ। তিনি বলেন, সদাশয় সরকার নিশ্চয়ই শিকদের মনের আকুতি বুঝবে। (সূত্র : সমকাল অনলাইন)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution