1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

বালিয়াকান্দিতে আস্থা বাড়ছে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই পদ্ধতিতে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
  • ৫৪১ Time View

মেহেদী হাসান মাসুদ ॥
বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা মহিলা ভাতা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী চালু করে আওয়ামীলীগ সরকার। কিন্তু এই সুবিধা পাবেন এই ব্যক্তিদের পেতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিভিন্ন ভাবে তালিকা তৈরী করা হতো। প্রায়ই অভিযোগ উঠত তালিকা নিয়ে। তবে সম্প্রতি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে। আগের থেকে আস্থা বাড়ছে ভাতাভোগী হিসেবে তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করতে আসা ব্যক্তিদের।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা মহিলা ভাতা এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম উন্মুক্ত বাছাইয়ের মাধ্যমে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের নতুন উপকারভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। বালিয়াকান্দিতে বয়স্ক ৫৬৪ জন, বিধবা ৩১৭ জন ও প্রতিবন্ধী ৫৫৮ জনের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ রয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচিত হলে একজন সুবিধাভোগী প্রতি মাসে বয়স্ক ও বিধবা ৫শত টাকা, প্রতিবন্ধী ৭৫০ টাকা হারে এই ভাতা প্রাপ্ত হবেন। এরই মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টি ইউনিয়নে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারী মাসের ১৭ তারিখে জঙ্গল, ১৮ তারিখে নবাবপুর, ১৯ তারিখে নারুয়া ও ২০ তারিখে জামালপুর ইউনিয়নে যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে।

বহরপুর ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাইয়ে আসা বিধবা অর্চনা রায়, বৃদ্ধা ভানু বিবিসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আমরা খুবই দরিদ্র, তাছাড়াও নিয়ম অনুযায়ী আমরা সুবিধা পাই। কিন্তু অতীতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের কাছ ধর্না দিতে হতো, কেউ কেউ টাকাও দাবী করত। বর্তমানে অফিস থেকে কর্মকর্তারা এসে ইউনিয়ন পরিষদে মাইকিং করেছেন। সেখানে অনেক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। এখানে সিরিয়াল দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড দেখছেন ও আমাদের সাথে সরাসরি কথা বলছেন। এই প্রক্রিয়ায় কোন স্বজন প্রীতি কিংবা দুর্নীতি হবে না বলেও তাদের বিশ্বাস রয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অজয় কুমার হালদার বলেন, মুজিব বর্ষে সারা বাংালাদেশের ন্যায় বালিয়াকান্দিতেও প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করে ব্যাপক প্রচার প্রচরণার মাধ্যমে যাছাই বাছাই করে প্রকৃত দুঃস্থ ভাভাভোগী নির্বাচন করা হবে। এতে করে স্বচ্ছতার সহিত দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করে ভাতা প্রদান সম্ভব হবে এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনীর বিধি বিধান মেনে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা পাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, বর্তমান উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই পদ্ধতিতে আস্থা বাড়ছে মানুষের, কারণ আগে মানুষ জানতই না কখন তালিকা হয়, কিভাবে হয়। আর বর্তমানে ব্যাপক প্রচারনার মাধ্যমে প্রত্যেক ইউনিয়নে গিয়ে কয়েকজন অফিসার। সেখানে মাননীয় সংসদ সদস্যের ২জন প্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যানের একজন প্রতিনিধি, নির্বাহী কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। অতএব নি:সন্দেহে বলা যায় এটা স্বচ্ছ একটা প্রক্রিয়া এবং প্রকৃত ব্যক্তিরাই এ সুবিধার আওতায় আসছে।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অতীতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াগুলো প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। বর্তমানে যে ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এ বিষয়ে কোন দুনীতির আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নাই। কেউ যদি আগ বাড়িয়ে কাউকে আর্থিক সুবিধা দেয় সেটা তার একান্তই ব্যক্তিগত। এটা এক প্রকার ঝড়ে বক ফেলার মতো। সরেজমিনে গিয়ে প্রকৃত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তালিকা করা হচ্ছে এবং সেটা ব্যাপক প্রচারনার মাধ্যমে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution