1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

এসিল্যান্ডের উদ্যোগ ॥ গোয়ালন্দে দুর্গম চরের ৭’শ বিঘা খাস জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
  • ৬১৮ Time View

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের পদ্মার দুর্গম চর কাশিমপুর মৌজায় বেদখলে থাকা ৭শ বিঘা খাস জমি নিয়ে বিগত ৪৫ বছর ধরে সমস্যা চলে আসছিল। ইতিপূর্বে ওই চরে বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীনরা কিছু জমির দখল নিতে গেলে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পঙ্গুত্ববরণ করেন কয়েকজন। প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাকে ওই চরে গিয়ে অদ্যবধি সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদিন ওই চরে অবস্থান করে সরকারি জমি উদ্ধার, ভূমিহীনদের অধিকার বাস্তবায়ন ও চরের দখলে থাকা ব্যাক্তিদের সাথে আলোচনা করে দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার সমাধান দিলেন গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

উপজেলা ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানচর ইউনিয়নের পদ্মা নদী বেষ্টিত দুর্গম পূর্ব চর কাশিমপুর মৌজায় প্রায় ৩শ বিঘা ও পশ্চিম চরকাশিমপুর মৌজায় ৪শ বিঘা খাস জমি রয়েছে। অত্যন্ত উর্বর জমি বলে চরটি স্থানীয়দের কাছে ফসলের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। ১৯৪০ সালের দিকে মৌজা দুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। ১৯৭৫ সালের দিকে চরটি পূনরায় জেগে ওঠে। এরপর থেকে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের পাশাপাশি চরের এস.এ এবং আরএস রেকর্ডের মালিক দাবিদাররা চরের জমিগুলো ভাগ বাটোয়ারা করে এতোকাল দখলে রাখে। সাধারণ দরিদ্র কৃষকেরা সেখানে চাষাবাদের সুযোগ পায় না। প্রভাবশালীদের কাছ থেকে তারা বর্গায় অথবা বাৎসরিক লিজ নিয়ে পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, ধান, পাট, বাদামসহ নানা ফসলের চাষাবাদ করে থাকে। ২০০১-২০০২ সালের দিকে ওই চরে ১৫জন ভূমিহীনকে স্থানীয় প্রশাসন ৩০ বিঘা জমি বন্দোবস্ত দেয়। কিন্তু দখল নিতে গিয়ে ঘটে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা। ঝুকিপূূর্ণ হওয়ায় কিংবা অন্যকোন কারনে অদ্যবধি ওই চরে গিয়ে প্রসাশনিক কোন কর্মকর্তাকে সমস্যার সমাধানে কার্যকরি কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চরটি দখলমুক্ত করে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত দেয়া গেলে বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় হবে। সেই সাথে ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল কৃষকেরা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। এই কাজে মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীরা এতোদিন বাধা হয়ে থাকলেও আমি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে ওই চরে যাই। সারাদিন আলোচনার মধ্য দিয়ে সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পেরেছি। বন্দোবস্ত দেয়া জমির দখল ছেড়ে দিতে দখলদাররা সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া শুধুমাত্র পূর্ববর্তী এসএ এবং আরএস রেকর্ডের মালিক দাবিদারদেরকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমির বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। তাতে সকলেই সম্মত হয়েছেন। এর বাইরে গিয়ে কেউ জমি দখল করে রাখার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জমির বন্দোবস্ত পাওয়া দুঃস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানান, আজকে এই চরে এসিল্যান্ড স্যার অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। আশা করি এরপর থেকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া জমির ভোগ দখল করতে পারবো।
এসএ এবং আরএস রেকর্ডের মালিক দাবিদার খয়ের আলী, আ. খালেক খান, সুর্য খান, সামশুল কবিরসহ অনেকেই বলেন, এই চরের বৈধ মালিকানা ফিরে পেতে মামলার পর মামলা চালিয়ে আমরা কান্ত ও অনেকেই নিঃস্ব। কিন্তু কোন ফল হয়নি। বাপ-দাদার সম্পদ দখলে রাখলেও আমরা আইনের চোখে এখন অবৈধ দখলদার হিসেবে পরিচিত। আজ এসিল্যান্ড স্যার এখানে এসে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদন করলে তিনি আমাদেরকে আইনের মধ্য থেকে যতদুর সম্ভব জমির বন্দোবস্ত দিবেন। আমরা এতে সন্তুষ্ট।
সমঝোতা প্রক্রিয়ায় এসিল্যান্ডের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই জাকির হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. কাদের সেক, গোয়ালন্দ প্রেসকাবের সভাপতি আজু শিকদার (সমকাল), সাধারণ সম্পাদক শামীম শেখ (যুগান্তর), কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি গণেশ পাল, প্রথম আলো প্রতিনিধি রাশেদ রায়হান, নিউজ২৪ চ্যানেলের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম শামীম প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution