1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ৩য় বাসিন্দার জানাজা অনুষ্ঠিত ॥ সংকট কাটেনি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
  • ৬২৪ Time View

শনিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর তৃতীয় বাসিন্দা হিসেবে নিলু পারভীনকে জানাজাসহ শরীয়া অনুযায়ী দাফন স¤পন্ন করা হয়েছে। এর আগে শনিবার দিনগত মধ্যরাতে হৃদরোগে আক্রন্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।
তবে এবারও জানাজায় ইমামতির জন্য খুঁজে পাওয়া যায়নি স্থানীয় কোন মৌলভীকে। তাই পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে গোয়ালন্দ ঘাট থানা জামে মসজিদের ইমাম আবু বকর সিদ্দিক ওই যৌনকর্মীর জানাজার ইমামতি করেন। তবে তিনিও স্বাচ্ছন্দে এই জানাজায় ইমামতি করেননি। অনেকটা বাধ্য হয়েই তিনি জানাজা পড়ান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যাক্তি জানান, গোয়ালন্দ ঘাট থানা জামে মসজিদের ইমাম সাহেব তাকে বলেছেন, ‘কি বলব ভাই, দীর্ঘ সময় তাকে পুলিশী পাহাড়ায় রাখা হয়েছিল। একটি পান খেতে গেলেও একজন পুলিশ তার সাথে ছিল।’ এতে অনেকেরই ধারনা সংকট কাটেনি। এ ভাবে মৃত যৌনকর্মীদের জানাজা অব্যহত রাখা কঠিন হবে। স্থানীয় মৌলভীরা কোন যৌনকর্মীর জানাজা না পড়ানোর ব্যাপারে এখনো কঠোর অবস্থানে আছে।
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারী গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমানের উদ্যোগে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী বাসিন্দা হামিদা বেগমের শরীয়া মোতাবেক দাফন অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারী ‘দৌলতদিয়া পল্লীতে প্রথম বারের মতো যৌনকর্মীর জানাজা’ শীরোনামে দৈনিক সমকালের ১৭ পৃষ্ঠায় সর্বপ্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গণ মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে স্থান পায় বিষয়টি। এ বিষয় নিয়ে একাধিক টিভি চ্যানেলে টক শো ও খ্যাতিনামা ইসলামী চিন্তাবিদগণ এই জানাজার সমর্থনে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যৌনকর্মীর এ জানাজা নামাজে ইমামতি করা জন্য দৌলতদিয়ার কোন হুজুরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গত ২ ফেব্রুয়ারী গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান দৌলতদিয়া রেলস্টেশন জামে মসজিদের ইমাম গোলাম মোস্তফাকে জানাজা পড়াতে এক রকম বাধ্য করেন। জানাজা না পড়ানোর কোন যুক্তি সঙ্গত মাসালা দিতে না পাড়ায় তিনি ওই জানাজায় ইমামতি করেন। কিন্তু পরবর্তীতে দৌলতদিয়া এলাকার অন্যান্য মসজিদের ইমামগণ মিলে এ বিষয়ে অভিযোগ করতে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কাছে যান। তবে সেখানেও যৌনকর্মীর জানাজা না পড়ানোর ব্যাপারে তারা শরীয়া অনুযায়ী কোন ব্যখ্যা প্রদানে ব্যার্থ হন।
জানা যায়, দেশের বৃহত্তম যৌনপল্লী রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া। এখানে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার বাসিন্দার বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে কোন যৌনকর্মীর মৃত্যু হলে কোন ইমাম জানাজা পড়াতে রাজি হতো না। যে কারণে তাদের মৃতদেহ নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হতো। কয়েক বছর আগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বারের উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পল্লীর পাশে একটি জায়গার ব্যাবস্থা করেন, যেখানে মৃত যৌনকর্মীদের মাটি চাপা দেওয়া হতো। আর এ রেওয়াজ ভেঙ্গে চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারী প্রথম কোন যৌনকর্মীর জানাযা পড়ানোর মাধ্যমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি।
শনিবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত যৌনকর্মীর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরীফ উজ জামান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর, স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. জলিল ফকীর প্রমুখ।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান বলেন, ‘একজন মৃত ব্যাক্তির পাপ-পূন্যের বিচার করবেন আল্লাহুতায়ালা। মুসলিম ধর্মালম্বী ব্যাক্তির মৃত্যু হলে তার জানাজাসহ দাফন করা স্থানীয়দের দায়িত্ব। যে দায়িত্ব এতদিন এড়িয়ে যাওয়া হতো। এ বিষয়ে অনেক বড় বড় আলেম ইতিমধ্যে ফতোয়া দিয়েছেন। তাই আমি গোয়ালন্দ ঘাট থানা মসজিদের ইমামকে দিয়ে জানাজা আদায় করে শরীয় অনুযায়ী মৃত ব্যাক্তির দাফন সম্পন্ন করেছি।’ এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution