মোবাইলে স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. ফারুক হোসেন

0
587

সোহেল রানা ॥
সারা বিশ্বের ন্যায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আতংকে ভুগছে পুরো দেশের মানুষ। রাজবাড়ীতে ৫ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আতংকে দিন কাটছে রাজবাড়ীবাসীর। শনিবার থেকে রাজবাড়ী জেলা লকডাউন ঘোষনা করেছেন জেলা প্রশাসন।
খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বের হচ্ছে না সচেতন মানুষ। ঘরে বসে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে এসময় জ্বর, সর্দি, কাশিসহ নানা রোগের চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারুক হোসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, পূর্বে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ জন রোগী ভর্তি থাকতো। মাঝে মাঝে কোন বেডই ফাঁকা থাকতো না। প্রতিদিন আউটডোরে রোগী হতো প্রায় ২শ। মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আউটডোরে রোগীর সংখ্যা কমেছে। কমেছে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও। বর্তমানে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ১৫ জন, মাঝে মাঝে খালি পড়ে থাকে বেডগুলো। করোনার প্রভাবে হাসপাতালের আউটডোরে গড়ে ৩০-৫০ জন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে থাকে।

নিজের দায়িত্বসহ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ব্যক্তিগত মোবাইলে স্বার্বক্ষনিক চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. মোঃ ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, সারা বছর জরুরী বিভাগ থেকে ০১৭৩০ ৩২৪৫৪৮ থেকে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয়। গত মাস থেকে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল ০১৭১১ ২৭ ৫৯ ৯৪ থেকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছি। যারা ফোন করে সবাই ওষুধের নাম লিখতে পারে না, লিখতে পারেন এমন ব্যক্তি পাশে নিয়ে ফোন করলে সুবিধা হয়। যাদের সাথে কথা বলে সমাধান দিতে ব্যর্থ হচ্ছি তাদেরকে হাসপাতালের আসতে অনুরোধ করছি। প্রতিদিন ৬০-৭০টি কল আসে। তাছাড়াও প্রতিনিয়ত আউটডোরে সর্দি, জ্বর, হাচিকাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে কমবেশি রোগী আসছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ল্যাব টেকনিশিয়ান, নার্সসহ সবাই খুব আন্তরিক ভাবে সেবা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সবাই খুব পরিশ্রম করছেন। দেশে যে পরিস্থিতিই হোক না কেন আল্লাহ যতন সুস্থ রাখবে ততক্ষন সেবার সর্বোচ্চটুকু দিবো বলে জানান তিনি।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাফিন জব্বার বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসকসহ নানা সংকট রয়েছে। আমার যে ৩ জন চিকিৎসক ডা. মো. ফারুক হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. অরুনথিয়া সোমা সাহা যেভাবে মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন, তাতে তাদের এ্যাকটিভিটি ৩০ জনের সমান বলে আমি মনে করি, আমি গর্ববোধ করি তাদের নিয়ে। তারা কোন ধরনের রোগীকে সেবা না দিয়ে ফেরত দিচ্ছে না। সর্দি, কাশি, জ্বরসহ সকল রোগীর পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে এই মুহুর্তে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর শূণ্য পদটি বেশি অনুভব করছি। ২৪ ঘন্টা হটলাইনে সেবাসহ ডা. ফারুক হোসেনের নম্বর থেকে মোবাইলে চিকিৎসা পরার্মশ দেয়া হচ্ছে। যাদের সাথে কথা বলে উপসর্গের সাথে মিলে যাচ্ছে তাদের বাড়ী থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। হাসপাতালে নানা সংকট থাকার পরও আমাদের সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা হাসপাতালে যেকোনো সেবা দিতে প্রস্তুত আছি বলেও তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here