1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫০ অপরাহ্ন

১৮ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় রাজবাড়ী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ১০২৪ Time View

রাজবাড়ী মূলত রেলওয়ের শহর হিসেবে পরিচিত। রেলের শহরের সুবাদে এখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার অবাঙ্গালী বিহারীদের বসবাস ছিলো। শহরের নিউ কলোনি, আঠাশ কলোনী, ষ্টেশন কলোনী ও লোকোশেড কলোনী এলাকায় ছিলো তাদের বসবাস।

পাকিস্থান আমলে এদের প্রচন্ড প্রভাব ছিলো এই এলাকাতে। পুরো রেলটাই ছিলো তখন তাদের দখলে। পাক বাহিনী রাজবাড়ীতে প্রবেশের পর বিহারীরা তাদের সাথে যোগ সাজসে নির্বিচারে চালাতে থাকে জ¦ালাও পোড়াও এবং গণহত্যা।
অবশেষে দেশ স্বাধীনের দুই দিন পর মুক্ত হয় রাজবাড়ী। রাজবাড়ীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি যেন রক্ষনাবেক্ষন করা হয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্নগুলো।

রাজবাড়ীতে বিভিন্ন স্থানে ৮ টি গ্রুপ মুক্তিযুদ্ধ করে। পাংশা ও যশোর থেকে আরোও কয়েকটি গ্রুপ এসে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে। এখানে মুক্তিবাহিনী, বিহারী, পাকবাহিনী ও রাজাকারদের সাথে তুমল যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এজন্যই সারাদেশ যখন ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন হয় অথচ রাজবাড়ী স্বাধীন হয় তারও ২ দিন পর ১৮ ডিসেম্বর। এ দিনও একাধীক শিশু, যুবক ও বৃদ্ধকে হত্যা করে পাকিস্থানিরা।

রাজবাড়ীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মস্তফা গিয়াস জানান, ১৯৭১ সালে সৈয়দ খামারীর নেতৃত্বে রাজবাড়ীর অনেক মানুষকে হত্যার পর বিজারী বলোনীর কুপে ফেলা হত। পাশেই থাকা বর্তমান এতিম খানা ওই সময় এটি ছিল বিহারীদের গনহত্যার একটি নির্দিষ্ট স্থান।

যুদ্ধকালীন কমান্ডার মোঃ আবুল হাসেম বাকাউল জানান, রাজবাড়ীতে বিহারীরা ৬ ই ডিসেম্বরের পর থেকে অতিমাত্রায় তৎপর হয় ওঠে এবং পুরো শহর দখল করে রাখে। ৯ ই ডিসেম্বর শহরের লক্ষীকোল এলাকায় বিহারীদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সংর্ঘষ হয়। ঐ দিন বিহারীদের গুলিতে রফিক, শফিক ও সাদিক শহীদ হয়। ১৩ই ডিসেম্বর বিহারীরা বিনোদপুর বিদ্যুৎ সরবারাহের প্রহরীকে হত্যা করে। ১৬ই ডিসেম্বর পাকবাহিনীরা আত্মসমর্পন করলেও রাজবাড়ী শহর তখনো বিহারীদের কবল থেকে মুক্ত হয়নি।

তারপর একে একে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিবাহিনী এসে জেলা শহরে সংগঠিত হয়। মোঃ শহিদ্দুন্নবী আলম, মোঃ ইলিয়াস মিয়া, মোঃ সিরাজ আহম্মেদ, মোঃ আবুল হাসেম বাকাউল, কামরুল হাসান লালী, ফকীর আব্দুর জব্বার, রকিবুল ইসলাম তাদের কমান্ডে মুক্তিযোদ্ধাগণ বিহারী কলোনীগুলো ঘিরে রাখে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল জলিল জানান, ১৭ ডিসেম্বর বিহারী ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ জন মেয়েকে, তারা কোন ক্রমেই আতœসমর্পন করতে চায় না তারা বলেছিল হামরা লোরকে মরেগা। অবশেষে ১৮ ডিসেম্বর বেলা ১ টার সময় রেল লাইন ধরে চার পাচ হাজার বিহারী আতœ সমর্পন করে, রাজবাড়ীতে ওই সময়ই উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার জানান, শহরের বিনোদপুর লোকোসেড এলাকায় নির্মিত স্মৃতির বদ্ধভুমি যখন নির্মান করা হয় তখন একজন পাহারাদার ছিল সে এটির রক্ষনাবেক্ষন করে থাকতো। দীর্ঘ্য ৮ বছর যাবৎ এখানে কোন পাহারাদার নেই। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি চিন্থ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হবে। তিনি ব্যবস্থা গ্রহন না করলে জেলা পরিষদ থেকে এটির পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।

রাজবাড়ী জেলায় ৩ শত ৭৯ জন মুক্তিযোদ্ধা বীরত্বের সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলেন। রাজবাড়ীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে ৩৫ জন। মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী অবিলম্বে দেশের সকল যুদ্ধাপরাধীকে যেন আইনের আওতায় এনে বিচার করা হয় এবং সর্Ÿোচ্চ শাস্তি যেন ফাঁসি দন্ডে দন্ডিত করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution