বালিয়াকান্দিতে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

0
505

রুবেলুর রহমান ॥
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে তৈয়বুর রহমান নামে শাখার এক অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি রাজবাড়ী কৃষি ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্মকর্তার কাছে ৯জন ঋণ গ্রহিতার পক্ষে বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের টাকাপোড়া গ্রামের বাসিন্দা মোতাহার মন্ডল নামের এক ঋণ গ্রহিতা লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
এদিকে গতকাল সোমবার (২ আগষ্ট) অভিযোগকারী মোতাহার মন্ডল অন্যের প্ররোচনায় পরে অভিযোগ করেছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানান রাজবাড়ীর আঞ্চলিক কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, কিছু দিন আগে বালিয়াকান্দি শাখার তৈয়বুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল অভিযোগকারী কিছু মানুষের প্ররোচনায় পরে অভিযোগ করেছিলেন বলে তার ভুল বুঝতে পেরে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তারপরও আঞ্চলিক কমিটির (প্রধান) অডিট অফিসার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। লকডাউন শেষে ৫ থেকে ৬ কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবেন। এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তৈয়বুর রহমান ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিলো। পরে সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ওই অভিযোগকারী। তিনি আরও বলেন, প্রায় এক বছর ধরে তিনি বালিয়াকান্দি শাখায় আছেন। এ সময় ঋণ দেবার কথা বলে কোন ঋণ গ্রহিতার থেকে অনৈতিক সুবিধা নেন নাই। এবং দালালের বিষয়টিও তার জানা নাই। তারপরও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে বলে জেনেছেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক প্রেমাংশ বিশ্বাস বলেন, তার শাখার কর্মকর্তা তৈয়বুর রহমানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা। পূর্বে শাখা গুলোতে দালালের দৌরাত্ব থাকলেও এখন শাখা সম্পূর্ণ দালাল মুক্ত। এ জন্য তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ভুক্তভোগি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পাওয়ার পরেই দালালদের মাধ্যমে ঋণ গ্রহিতাদের খবর দেওয়া হয়। ঋণ প্রত্যাশীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদের আশঙ্কা না থাকলে তৈয়বুর রহমান নিজেই ঘুষের কথা বলেন। অপরদিকে প্রতিবাদ বা ঝামেলার আশঙ্কা থাকলে দালালদের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘুষ অগ্রিম নেওয়া হয়। নতুবা ঋণের টাকা তোলার সঙ্গে সঙ্গে কেটে রাখা হয়। ফলে এবিষয়ে স্থানীয় ৯জনের ভুক্তভোগির পক্ষে মোতাহার নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ঋণ দিয়ে তৈয়বুর রহমান ২ লাখ ৩১ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
বালিয়াকান্দি কৃষি ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে শাখাটিতে ১৭০ জনকে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা প্রণোদনা ঋণ দেয়া হয়েছে, ৯৭ জনকে জামানাতবিহীন দেয়া হয় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ১৪৬৮ জনের মাঝে শষ্য ঋণ ক্যাটাগরিতে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, ১০ জনকে মসলা ঋণ বাবদ দেয়া হয় ২০ লাখ টাকা। এছাড়াও উক্ত শাখাটিতে ৩৮ জন ঋণ খেলাপি আছে, যাদের খেলাপির পরিমাণ ৬৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
অভিযোগকারী মোতাহার মন্ডল বলেন, তিনি কৃষি কাজ করেন। সমস্যায় পড়ে তার মত অনেকেই ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকে দালালের মাধ্যমে ঘুষ ছাড়া কোনো ঋণ পাওয়া হয়না। দেড় লাখ টাকা ঋণ নিতে কয়েক কিস্তিতে তাকে ২৭ হাজার টাকা দিতে হয়েছে ।
ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, পূর্বের লোন ছিলো। কয়েকমাস আগে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দেড় লাখ টাকা রিকভারী করেছি। ব্যাংকের কর্মকর্তা তৈয়বুর রহমান ¯ট্যাম্পসহ বিভিন্ন ব্যয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে কয়েক ধাপে টাকা নেয়। সব মিলিয়ে ঋণ পেতে তার ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আগে জানলে লোনটি রিকভারী করতেন না। এতে সুবিধার থেকে অসুবিধাই বেশি।
ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ মন্ডল বলেন, স্থানীয় কয়েকজন দালালের বুদ্ধিতে ব্যাংকে গিয়ে তৈয়বুর রহমানের সাথে কথা বলেন। প্রথমে তৈয়বুর রহমান খুব ভালো আচরণ করে তার বাড়ীতে আসে এবং গরু থাকার স্থান পাকা করার জন্য বলেন। সে মতে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করে পাকা করার পর তৈয়বুর আর পাত্তা দেন না। প্রায় দুই মাস ঘোরার পর দালালের মাধ্যমে লোন পাস হয়। তখন কাগজপত্র ঠিক করা বাবদ তৈয়বুরকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। আর লোন হাতে পাওয়ার পরে আরও ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
আরেক ভুক্তভোগি আজিজুল ইসলাম বলেন, তিনি মাস তিনেক আগে দুইলাখ টাকা লোন নিয়েছেন। এতে দুইজন দালাল সহযোগিতা করে। কারণ দালাল ছাড়া কোনো লোন পাওয়া যায়না। লোন হওয়ার দিন দুপুরে একটি হোটেলে তৈয়বুরসহ সবাই উপস্থিত ছিল। সেখানে তাকে ৩১ হাজার টাকা দিতে হয়।
বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এম এমরুল আহসান পুলক বলেন, তৈয়বুরের আচার-আচরণ ভালো না। তিনি সবাইকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করেন। এই কাগজ সেই কাগজ বলে ঘুরাতে থাকেন। লেনদেন না হলে লোন দেন না। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো কাজ করেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here