বালিয়াকান্দিতে করোনার অজুহাতে স্কুলের সংস্কার কাজে গাফেলতি

0
162

রুবেলুর রহমান ॥
অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিবছর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো সংস্কারের উ˜েদ্যাগ নেয় শিক্ষা অধিদপ্তর। বরাদ্দ দেয়া হয় কোটি কোটি টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দ্বায়িত্বে অবহেলা ও যোগসাজসে ভেস্তে যায় সরকারের এ উন্নয়ন পরিকল্পনা। কমলমোতি শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয় বিভিন্ন সুবিধা থেকে।
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জাবরকোল, বকচর, কঠুরাকান্দি করচাডাঙ্গী, ইন্দুরদী, গণপত্যা, নারুয়া, ইলিশকোল, বড়ইচারা সহ বেশিরভাগ সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয়ে কাজ না হবার অভিযোগ রয়েছে। আর এই স্কুল গুলির কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এ স্কুল গুলোতে তিনি পরির্দশনে যান নাই। যে কারণে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বলতে পারছেন না। তিনি মাসে ৫ টি স্কুল রিদর্শন করেন। এবং এমাসে তিনি জামালপ্রু, নলিয়া, নটাপাড়া, স্বাবলম্বী ও চরবহরপুর সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এসব বিদ্যালয়ের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে বলে দাবি তার।
বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাযায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ৩৪টি বিদ্যালয়ে ৬৮ লাখ, ৯ টি বিদ্যালয়ের প্লেয়িং এক্সোসোরিজ বাবদ ১৩ লাখ ৫০ হাজার, ৫৮ টি বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেনেন্স বাবদ ২৩ লক্ষ ২০ হাজার, ২০টি বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লকের জন্য ৪ লাখ, স্লীপফান্ড বাবদ উপজেলা প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানভেদে ৫০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বিধি মোতাবেক বরাদ্দ পাওয়া কাজ চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করতে বলা হলেও করোনার কারণে কাজ শেষ হয়নি। ফলে উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি কাজের অগ্রগতি নিয়ে চলতি মাসের ২৬ আগস্ট অধিদপ্তরে একটি পত্র পাঠিয়েছেন।
এদিকে অধিদপ্তর থেকে পাওয়া বিদ্যালয়ের সংস্কারসহ অন্যান্য কাজ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক নিদ্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর উক্ত কাজের বিল ভাউচার তৈরি করে শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বিল পাস করাতে হয়। কোন মতেই কাজ শেষের আগে (৩০ জুন) বিল উত্তোলন করা যাবে না। কিন্তু কাজ শেষ না হলেও বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করে উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাউন্টে রাখা হয়েছে বলে জানাগেছে।
সরেজমিনে এসে উপজেলার কঠুরাকান্দি করচাডাঙ্গী স্কুলে দেখাযায়, বিল্ডিং ভবনে কয়েক মাস আগের গ্রিল লাগানো ও খোলা টিনশেডের একটি রুমের ফ্লোর করা। এবং গণপত্যা স্কুলের একতলা ভবনে সাম্প্রতিক সময়ে রং করা দেখা গেলেও বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কোন খেলার সামগ্রী চোখে পড়েনি।
অপরদিকে জাবরকোল স্কুলের ভাঙ্গা চোরা জরাজীর্ণ টিনশেডের পাশে এক গাড়ি ইট ও বালু ছাড়া আর কিছু দেখা যায়নি। এবং ইন্দুরদি স্কুল প্রাঙ্গনে দেখাযায়নি প্লেয়িং এক্সোসোরিজ (বাচ্চাদের খেলাধুলা)’র সামগ্রী।
জাবরকোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, তার স্কুলে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২০-২১ অর্থবছরে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। এবং (৭ সেপ্টেম্বর ) থেকে কাজ শুরু করেছেন। দুই রুম বিশিষ্ট একটি টিনশেড ভবন হবে। নিচু জায়গায় পানি জমে থাকা ও করোনার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। বরাদ্দের টাকা কাজ শেষে পত্যায়ন পাবার পর পাবেন।
কঠুরাকান্দি করচাডাঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কাকলী রানী কর বলেন, তার স্কুল মেরামতের জন্য ২ লাখ ও স্লিপফান্ডের ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েজেন। গ্রিল বানিয়ে পুরো ভবনে লাগানো হয়েছে। আর টিনশেড ভবনের একটি রুম ফ্লোর করাসহ পাঠদানের উপযোগী করা হচ্ছে। তবে টাকা এখনও হাতে পান নাই। কাজ শেষে টাকা পাবেন।
ইন্দুরদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যানী রানী দাস বলেন, খেলাধুলার সামগ্রী বানাতে দিয়েছেন। কয়েকদিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন। এ জন্য দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এখনো পান নাই।
গণপত্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা খাতুন বলেন, তার স্কুলে মেরামতের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। সে অনুযায়ী পুরাতন ভবনের গ্রিল লাগিয়ে রং ও ফ্লোর মেরামত করেছেন। এছাড়া নতুন ভবন বুঝে পেলে গ্রিল লাগাবেন।এবং খেলাধুলার সামগ্রীর জন্য দেড় লাখ টাকা এসেছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের মাটি নতুন। এ জন্য দেরি হচ্ছে ওই সব সেট করতে । তবে খেলাধুলার সামগ্রী প্রায় রেডি। দ্রুত ওগুলো আনা হবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আশরাফুল হক জানান, সার্বিক কাজের বিষয়ে এ সপ্তাহে উপজেলা ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে রিপোর্ট পাবেন। তবে গড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কাজ শেষ হলে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার পরিদর্শন করে দেখে সন্তোষজনক হলে পত্যায়ন দেবে। তখন উপজেলা শিক্ষা কমিটি সভায় রেজুলেশনের সিদ্ধান্ত হলে স্কুলকে টাকা বুঝিয়ে দেবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিদ্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়াতে হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে টাকা তুলে শিক্ষা অফিসের একাউন্টে রেখেছেন। কাজ শেষ হতে সময় লাগছে মুলত করনোর কারণে। তাছাড়া প্রতিবছরই একটু দেরি হয়। কাজ শেষ হলেই সব স্কুলকে টাকা দিয়ে দেবেন। এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে (২৬ আগস্ট) অধিদপ্তরে চিঠিও পাঠিয়েছেন। তিনি আর বলেন, প্রতি মাসে তিনি ৫টি স্কুল পরিদর্শন করেন। চলতি মাসের (৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত জামালপ্রু, নলিয়া, নটাপাড়া, স্বাবলম্বী, চরবহরপুর সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এগুলোর সম্পর্কে বলতে পারবেন। অন্যগুলোর কি অবস্থা তা বলতে পারবেন না। কারণ তিনি সেগুলোতে যান নাই। অন্য কর্মকর্তারা ওই স্কুলগুলো পরিদর্শন করেছে। এছাড়া স্লিপফান্ডের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। খেলাধুলা সামগ্রী ৯টি স্কুলের প্রায় সব গুলোতেই বসানো হয়েছে। আশা করছেন আগামী ১০ দিনের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমী বলেন, মেরামত বা অন্যান্য যেসব কাজের মেয়াদ ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত। সেসব কাজ শেষ না করে টাকা উত্তোলনের নিয়ম নাই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here