1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

শীতের আগমনে চলছে কুমড়ো বড়ি বানানোর উৎসব

শরিফুল ইসলাম ॥
  • Update Time : বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৮০ Time View

বাতাসে বইছে হিমেল হাওয়া, শিশিরে ভিজছে লতাপাতা। নানা রকম সবজি, পিঠাপুলী আর উৎসবের বার্তা নিয়ে আগমন হয়েছে শীতের। শীতের আমেজ যেন পল্লীতেই সাড়া ফেলে বেশি। শীত আসার সাথে সাথে যেমন উৎসবের ধুম পরে যায়, তেমনই ধুম পরে যায় কুমড়ো বড়ি বানানোর। শীত শুধু গ্রামবাংলার উৎসব, পার্বনের ঋতু নয়, লোকায়িত ঐতিহ্যনুসারে বাংলার শীতকাল কুমড়ো বড়ির মৌসুম।
শীতের আগমনের শুরু থেকেই গ্রামবাংলার নারীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন কুমড়োর বড়ি বানাতে। কিশোরী থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সের নারীরা এই কুমড়ো বড়ি বানাতে অংশগ্রহন করেন। কুমড়ো বড়ি বানানো তাদের কাছে একটি উৎসবের মতো।
শীতের আগমনে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের গৃহবধূরা কুঁমড়া আর কলাই ডালের তৈরি বড়ি বানাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতকে স্বাগত জানিয়ে প্রত্যেকটি গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে কলাই আর চালকুঁমড়া দিয়ে বড়ি বানানোর মহোৎসব। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তাদের বড়ি তৈরির রাঙা উৎসব। শীতের শুরুতেই পাড়া মহল্লার গৃহিণীরা একত্রিত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাতে তৈরি এ মজাদার খাবার তৈরিতে বেশ ব্যস্ত। ভোরে উঠে কেউ ছুটছেন ঢেঁকির কাছে, কেউ শীলপাটা কেউবা আবার বড়ি শুকানো নেট/জালির কাছে। আবার অনেকে যাচ্ছেন বৈদ্যুতিক মেশিনের কাছে। সবার উদ্দেশ্য খাবার টেবিলের বাড়তি স্বাদের জন্য বড়ি তৈরির মূল উপাদান বানানো।
জানা যায়, গ্রাম বাংলার যতগুলো ঐতিহ্য প্রবহমান তার মধ্যে অন্যতম একটি চালকুঁমড়ার তৈরি বড়ি। শীত মৌসুম মানেই গ্রাম বাংলার মানুষের নতুন নতুন খাবার তৈরির মৌসুম। শীতের পিঠা, ক্ষির, পায়েশের পাশাপাশি চালকুঁমড়া আর ডালের তৈরি বড়িও একটি সুস্বাদু খাবার বলে পরিচিত। শীতের দিনে গৃহিণীর রান্না করা প্রতিটি তরকারির সঙ্গে যদি বড়ি না থাকে তাহলে খাবার যেন অপূরণীয় থেকে যায়। সেই বড়ি বানানোর কাজে পাংশার প্রতিটি গ্রামের গৃহবধূরা ব্যস্ত সময় পার করছে। বড়ি তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কালো কলাই ও চাল-কুঁমড়া। কলাই পাথরের যাতাই মাড়াই করে ভালোভাবে পরিষ্কার করে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় পাকা চাল কুঁমড়া। গৃহিণীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে চাল কুঁমড়ার ভেতর থেকে তার মুল উপাদান বের করেন। এরপর উভয় উপাদান মিশিয়ে ঢেঁকি বা যাতায় পিষে পেস্টের মতো একটি উপাদান তৈরি করেন। এই উপাদান তৈরিতে গ্রাম্য বধূদের খুব পরিশ্রম করতে হয়। এক সময় বড়ির এ উপাদান তৈরি করতে কেবলমাত্র ঢেঁকি ব্যবহার করা হলেও বর্তমান ডিজিটাল যুগে বেশ পরির্বতন এসেছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি যখন বিলুপ্তির পথে তখন এর জায়গা দখল করে নিয়েছে ইঞ্জিনচালিত মেশিন। জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের এক গৃহবধূ জানান, শীত এলেই তাদের গ্রাম অঞ্চলের লোকজন বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পাড়ার অনেক পরিবার একত্রিত হয়ে তারা বড়ি বানান। ধনী-গরিব সবাই এ বড়ির প্রতি দুর্বল। কেননা বড়ি প্রতিটি তরকারিতে বাড়তি স্বাদ এনে দেয়। বড়ি দিয়ে রান্না করা বেগুন, লাউ, ফুলকপি, আলু ইত্যাদি তরকারির যেন স্বাদই আলাদা। বড়ি হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য মাছ মাংসের সমান।
বড়ি তৈরীতে ব্যস্ত গ্রামীণ নারী সুমি ও মনোয়ারা জানান, শীত এলেই গ্রামে একে অপরকে বড়ি দিতে সহযোগিতা করার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু, নতুন প্রজন্মের বেশিরভাগ মেয়ে এসব শিখতে বা তৈরি করতে আগ্রহী নয়।
স্থানীয় কিছু নারী জানান, যুগ যুগ ধরে শীত মৌসুমে বেশিরভাগ বাড়িতে কুমড়ো বড়ি দেওয়ার রেওয়াজ চলে আসছে। সময়ের আবর্তে বড়ি এখন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। তারপরও অনেক মানুষ বাড়িতে বড়ি তৈরি করে খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution