1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন

কালুখালীতে একটি সেতু না থাকায় দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥
  • Update Time : বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২
  • ২২০ Time View

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মুরারীখোলা গ্রামের পদ্মারকোলে পাগলের ঘাট এলাকায় সেতু নেই। এতে করে সরু বাঁশের সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয় স্থানীয়দের। একটি সেতু নির্মাণ করে সমস্যা লাঘবের দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা নদীর কোলে বেড়িবাঁধের পাশে পাগলের ঘাট অবস্থিত। পদ্মার কোল শুস্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। অপরদিকে বর্ষার সময় এই এলাকায় পুরো প্লাবিত হয়ে থাকে। এমনকি সাঁকোও মাঝেমধ্যে তলিয়ে যায়। এই সাঁকো ব্যবহার কওে প্রতিদিন হাজারের অধিক মানুষ যাতায়াত করে। প্রতিদিন ১০-১২টি গ্রামের কয়েকশ শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। গ্রামগুলো হলো মুরারীখোলা, পশ্চিম হারুয়া, মাধবপুর, হড়িনবাড়িয়া, বাঘঝাঁপা, ভাগলপুর, লস্করদিয়া, সালেপুর, কৃষ্ণগর, সাদারচর প্রভৃতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী শহররক্ষা বেড়িবাঁধের কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মুরারীখোলা গ্রামে চৌরাস্তায় দুটি মুদি দোকান। একটি দোকান পাগলের নামে পরিচিত। পাগলের দোকানের পাশ দিয়ে উল্টরদিকে একটি মাটির কাঁচা রাস্তা নেমে গেছে। রাস্তা দিয়ে পঞ্চাশ গজ সামনে এগুলেই একটি বাঁশের লম্বা সেতু। সেঁতুর দৈঘ্য প্রায় দেড়শ মিটার। সাঁকো পার হওয়ার পর মাটির আঁকাবাঁকা রাস্তা। রাস্তার দুইপাশে দিগন্ত জোড়া ফসলের খেত। পদ্মার কোল থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর সরিষা চাষ করা হয়েছে। হলুদ সরিষায় দুচোখ জুড়িয়ে যায়। প্রায় মাইলখানেক দুর থেকে গ্রাম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বষসের মানুষ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে।
পশ্চিম হারুয়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা খান বলেন, প্রতিদিন এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। বিশেষ করে শতাধিক শিক্ষার্থী সকাল বিকেল যাতায়াত করে। বর্ষার সময় তাদের খুব সমস্যা হয়। কারণ বাঁশের সেতু ও চরের দিকের কিছু রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। তখন শিক্ষার্থীদের সকালে এশবার নৌকায় করে দিয়ে যেতে হয়। আবার ছুটি হওয়ার পর তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে হয়। কিন্ত এশুট সেতু হলে রাস্তা-ঘাটও ভালো হতো। সবার জন্য খুব সুবিধে হতো।
মুরারীখোলা গ্রামের বাসিন্দা নিখিল চন্দ্র বিশ^াস বলেন, চরাঞ্চলে ফসল খুব ভালো হয়। সব ধরণের ফসলের আবাদ করা হয়। কিন্তু স্থায়ী সেতু না থাকায় ফসল মাথায় করে আনতে হয়। কিন্তু যাতায়াতের ভালো ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় কৃষকদের অনেক উপকার হতো। কায়িক শ্রম যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও সময় অপচয় কম হতো। তাছাড়া বাঁশের সেতু নির্মাণ করতেও অনেক টাকা খরচ হয়। কিন্তু তিন-চার বছর পরপর আবার নতুন করে সেতু তৈরি করতে হয়।
রুপসা মেধা-চয়ন একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজীব কুমার সরকার বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি বেড়িবাঁধের পাশেই অবস্থিত। নদী ভাঙন কবলিত চর এলাকায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা কম। চর এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখার জন্য এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে।
রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা বলেন, পাশেই রয়েছে একটি বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধের ভেতর। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন বাঁশের যাতায়াত করে। বাঁধের ভেতরের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ফসল তুলতে যায়। আবার পদ্মাপাড়ের মানুষ ফসল বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসে। এতে সবার দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ওই এলাকায় একটি সেতু হলে খুব ভালো হয়।
কালুখালী উপজেলার প্রকৌশলী তৌহিদুল হক জোয়াদ্দার বলেন, সাঁকো দিয়ে পারাপারের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এবিষয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution