1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১১:১৯ অপরাহ্ন

গোয়ালন্দে চার মাস ধরে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৭
  • ৯৯৭ Time View

স্টাফ রিপোর্টার ।।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দীর্ঘ ৪ মাস ধরে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে শতাধিক পরিবার। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে তাদের বাড়ি-ঘরে পানি উঠলেও তা আজও নেমে যায়নি। এতেকরে ওই পরিবার গুলো নিজ বাড়ি-ঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে অসহায় ছিন্নমূলের মত বসবাস করছে।

উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পাশে সাহাদত মেম্বারের পাড়ায় আ

টকে থাকা পানিতে ময়লা আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেকেরই হাতে পায়ে ঘা হয়ে ইতিমধ্যে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পাশের ফেরিঘাট এলাকায় দনীতে চলমান ড্রেজিংয়ের বালু ফেলে নিচু এলাকাটি ভরাট করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বন্যার পানি অনেক আগে নেমে গেলেও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত সাহাদত মেম্বার পাড়ার অন্তত ১০৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি এখনো পানিতে নিমজ্জিত। গ্রামটির পূর্বদিক দিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট মুখি বাইপাস সড়ক এবং পশ্চিম দিক দিয়ে ফেরিঘাট মুখি মূল সড়কটির অবস্থান। মাঝখানে পড়া পুরো এলাকাটি জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে।

তিপূর্বে এলাকাবাসী পরিবার প্রতি এক হাজার টাকা করে চাঁদা তুলে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করে। এতে কিছুটা পানি কমলেও ফের দফায় দফার বৃষ্টিতে আবারো জলামগ্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় এলাকার অনেক হত দরিদ্র পরিবার পাশের মহাসড়ক ও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার কিছু পরিত্যাক্ত খাবার হোটেলে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে শুরু করে। কিছু কিছু পরিবার ঘরের মধ্যে কোন মতে থাকার জন্য ব্যবস্থা করলেও পানির মধ্যদিয়ে যাওয়া-আসা করায় হাত পায়ে ঘা হয়ে গেছে।

স্থানীয় মিনহাজুল ইসলাম (৩৫) জানান, তিনি নিজে পাশের একটি বাড়িতে দু’টি কক্ষের একটি ঘর ভাড়া নিয়ে অতি কষ্টে বসবাস করছেন। অনেকেই রাস্তার

পাশে, পরিত্যাক্ত হোটেলে, প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা চাঁদা তুলে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করলেও বৃষ্টির কারণে তা সফল হয়নি। ফেরি ঘাট এলাকায় নদীতে নাব্যতা বাড়ানোর জন্য যে ড্রেজিং করা হচ্ছে ওই পলি যদি তাদের এই নিচু এলাকায় ফেলানো হয় তাহলে জলাবদ্ধতা হতে তারা স্থায়ী ভাবে মুক্তি পাবে। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ড্রেজিং বিভাগের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্থানীয় নিদান ফকীর (৬৫), জহুরা বেগম (২০) জানান, কিছুদিন ধরে একটু পানি কমে গেলে তিনি কোমর পানি মারিয়ে ঘরে যাওয়া আসা করতে থাকেন। এতে

করে তার হাত পায়ে অনেক যায়গায় চুলকানি ও ঘা হয়ে গেছে।

পানিবন্দি ছোরাপ মোল্লা (৫০), আ. রহমান (৪৫) সহ অনেকেই জানান, তারা সবাই গরীব মানুষ। পরিবার পরিজন নিয়ে নিজ নিজ ঘরে থেকে তারা ঘাটে হকারী, কুলি-মজুরীসহ ছোট খাট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘ ৪টি মাস ঘরে থাকতে না পেরে তারা দূর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছেন।

মহাসড়কের পাশে একটি পরিত্যাক্ত হোটেলে আশ্রয় নেয়া রোজিনা বেগম (৩০) ও আফরোজা বেগম (৩৫) জানান, তাদের অন্য কোন উপায় না থাকায় ভাঙা-চোড়া পরিত্যাক্ত খাবার হোটেলে কোন মতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। কিন্তু এভাবে কতদিন থাকা যায়।

স্থানীয় কলেজ ছাত্র মানিক শেখ, এসএসসি পরীক্ষার্থী সাকিল মোল্লা, সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রাসেল জানায়, তাদের বাড়ি ঘর পানিতে তলিয়ে থাকায় পড়া লেখায় খুবই কষ্ট হচ্ছে। প্রতিবেশীর বাড়িতে কোন মতে আশ্রয় নিয়ে থাকলেও সেখানে ঠিক মত লেখা-পড়া করতে পারছি না।

এ প্রসঙ্গে দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মন্ডল জানান, ওই এলাকাটি খুবই নিচু। যে কারণে বাইপাস সড়কের নিচ দিয়ে কয়েকটি পানি বেরোনোর ছোট কালভার্ট থাকলেও কোন কাজে আসছে না। বন্যার পানি প্রবেশ করে এলাকাটি জলাবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে টানা বর্ষণের কারণে এলাকাটি এখনো জলাবদ্ধ হয়ে আছে। ড্রেজিংয়ের পলি ফেলে এলাকাটি উচু করতে পারছে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতো। এ জন্য ড্রেজিং বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে আমরা ইতিমধ্যে কয়েকবার অনুরোধ জানিয়েছি।

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী আক্কাছ মোল্লা জানান, সাহাদত মেম্বার পাড়ার জলাবদ্ধতা দুর করতে পলি ফেলানোর জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান তাদেরকে অনুরোধ করেছেন। আমরা বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে বিবেচনায় নিয়ে সমস্যাটির সমাধানের চেষ্টা করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution