1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০১:২৯ অপরাহ্ন

একটি কম্বলের জন্য!

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৮
  • ১০৩৪ Time View

‘বাজানরে, আমারে এটা কম্বল দেবেন? টালেরচোটে (তীব্র শীতে) রাইতে ঘুম আহে না। হারাক্ষণ দোমডা বাড়ায় যাইতে চায়। এই টালে মেলা কষ্টে আছিরে বাজান। দয়া কইরা আমারে এটা কম্বল দেন।’ শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে একটি কম্বলের জন্য রোববার এভাবেই রাজবাড়ীবিডিকে আকুতি জানাচ্ছিলেন গত রোববার গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষের বারান্দায় বসে থাকা ৭৫ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধা সুকজান বিবি (৭৫)।

তিনি উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল গ্রামের মৃত দাউদ বেপারীর স্ত্রী। সেখানে সুকজান বিবির মত শতাধিক অসহায় বৃদ্ধা ও দুঃস্থ শীতার্ত মানুষ অপেক্ষা করছে একটি কম্বলের জন্য। সম্প্রতি শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ সকল মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।

এ সময় কথা হয় দেবগ্রমাম আশ্রয়নে বসবাসকারী আরেক বৃদ্ধা কৌশল্যা রানীর (৬৫) সাথে। তিনি রাজবাড়ীবিডিকে জানান, এক সময় বাড়ি ছিল উপজেলার দৌলতদিয় ইউনিয়নে। ১৫/১৬ বছর আগে নদীভাঙনের শিকার হয়ে জমিজমা-ঘরবাড়ি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে এখন সর্বহারা। সেই থেকে তিনি অসহায়। এখন সরকারের দেয়া আশ্রয়নের ঘরে বাস করছেন কৌশল্যা। তিনি আরো বলেন, আশ্রয়নে প্রায় সবাই কম্বল পেয়েছে। কিন্তু বিতরণকালে ঘরে না থাকায় তিনি পাননি।

এছাড়া গোয়ালন্দ পৌরসভার বিন্দুপাড়ার মিনতি রাণী (৭০), ছোট ভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল গ্রামের জয়গন বিবি (৬৫) সহ অনেকেই এক সুরে রাজবাড়ীবিডিকে বলেন, ‘রাইতে টালে (শীতে) ঘুমবার পারি না। ভাঙ্গা ঘরে ঠান্ডা বাতাসে জীবনটা যায় যায়। এটা কম্বল পাইলে গায় দিতাম।’

সরেজমিন গত রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু সাইদের সহযোগিতায় ইউএনও বিভিন্ন সামর্থবানদের কাছে কিছু কম্বল বিতরণ করার জন্য ফোন করে অনুরোধ করছেন। তিনি নিরন্তর চেষ্টা করছেন এ সকল দুঃস্থ অসহায় শীতার্ত মানুষের হাতে একটি কম্বল তুলে দিতে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু নাসার উদ্দিন এ সময় রাজবাড়ীবিডিকে জানান, সরকারী ভাবে এ উপজেলায় ২ হাজার ৮শটি কম্বল বরাদ্দ পেয়েছিলেন। ইতিমধ্যে জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এবং তিনি নিজে বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে সে গুলো বিতরন করা হয়ে গেছে। কিন্তু নদী ভাঙন অতি দরিদ্র এলাকা হওয়ায় প্রতিদিনই মানুষ তার অফিসে ভীড় করছে একটি কম্বলের জন্য। যারা আসছে তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সরাসরি না করে দেয়া এক রকম অমানবিক ব্যাপার। কারণ মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় একটি কম্বল তার জন্য কতটা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution