1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১১:১০ অপরাহ্ন

দৌলতদিয়া ঘাট আধুনীকায়ন প্রকল্প ॥ হয়নি জমি অধিগ্রহন, তবুও নভেম্বরে কাজ শুরুর আশা

মেহেদী হাসান ॥
  • Update Time : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৮৫ Time View

দেশের গুরুত্বপূর্ন নৌরুট রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট। গুরুত্ব বিবেচনায় বিআইডব্লিউটিসি’র চাহিদা মোতাবেক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট আধুনীকায়ন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গ্রহন করে।
নানা জটিলতার কারনে ৮ বছরেও ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এই ৮ বছরে এক দপ্তর হতে অন্য দপ্তরে শুধু ফাইল চালাচালিই হয়েছে। সরেজমিনে নদী এলাকায় দৃশ্যমান কোন কাজই হয়নি। এই আট বছরে প্রতি বছরই পদ্মার পানি কমা ও বারার সময় ঘাট এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। কোন মতে জোরাতালি দিয়ে জিও ব্যাগ লেলে ফাঙ্গনরোধ করা হয় আর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে ছুরে দেওয়া হয় ঘাট আধুনীকায়ন প্রকল্পের আশ্বাস। এবারও তাই বলা হচ্ছে। বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে এক মাস পরে নভেম্বরেই কাজ শুরু হবে। কিন্তুু প্রশ্নের জবাবে তারাই আবার বলছে নকশা রয়েছে বুয়েটে, অনুমোদন হয়নি জমি অধিগ্রহনেরও।
বিআইডব্লিটিএ সুত্রে জানাযায়, পদ্মায় তীব্র ভাঙ্গনে ২০১৪ সালে দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ঘাট ভেঙ্গে পুরোপুরি বন্ধ হয়েযায়। ওই সময়ে ঘাটটিকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে পাউবো ও বিআইডব্লিটিএকে অনুরোধ করা হলে বিআইডব্লিটিএ দৌলতদিয়া প্রান্তে লঞ্চঘাট থেকে ৭ নম্বর ঘাট পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার ও মানিকগঞ্জের ৪ টি ঘাট এলাকায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী কাজসহ ৭ কিলোমিটার এলাকার জন্য ৬৩৪ কোটি টাকার একটি বিল একনেকে জমা দেওয়া হয়।
২০১৬ সালে বিলটি পাশও হয়। কিন্তুু দ্রব্যমূল্যে উর্দ্ধগতির দোহাই দিয়ে কাজটি শুরু করা হয়নি। পরবর্তী বছরে ২০১৭ সালে বিআইডব্লিটিসি কর্তৃপক্ষ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ টি ঘাট ও পাটুরিয়ার ৪ টি ঘাট মোট ১১ টি ঘাটের তিনটি করে স্তর হাই ওয়াটার, মিড ওয়াটার ও লো ওয়াটার তার মানে ৩৩ টি ঘাট করার জন্য নকশার পরিবর্তন আনতে বললে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৩৫১ কোটি টাকার একটি বিল পুনরায় জমা প্রদান করে। যে কারনে ওই নকশার যাচাই বাচাই করতে ফাইলটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়( বুয়েটে ) পাঠায় বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। বুয়েটেই প্রায় ৫ বছর চলছে যাচাই বাছাই।
এদিকে প্রতি বছরই ঘাট আধুনীকায়নের আশ্বাসে অতিষ্ট হয়ে পরেছে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার বাসিন্দারা। তাছারা পদ্মার ভাঙ্গনের কারনে এই নৌরুটের দৌলতদিয়া অংশে ৭ টি ঘাটের মধ্যে ৪ টি বন্ধ বাকি ৩ টি দিয়ে চলছে পারাপার।
শনিবার (০১ অক্টোবর) সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে সরেজমিনে কথা হয় সিদ্দিক কাজীর পাড়া এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আলীর সাথে। এমন মহম্মদ আলী বলেন, সর্বনাশা পদ্মায় আমাদের বসতবাড়ি ৩ বার ভেঙ্গেছে। যেটুকু ছিলো সেটুকু বিক্রি করে এখানে ৪ শতাংশ জমি কিনে ঘর করেছি। আমরা শুনেছি সরকার এখানে ঘাটের স্থায়ী কাজ করবে। স্থায়ী কাজ করলে আমার শেষ সম্বল এই জমিটুকু বেচে যায়। নয়তো এবারই পদ্মার পেটে যাবে আমার ভিটে মাটি।
একই এলাকার বাসিন্দা চান্দু মোল্লা বলেন, আমি চরের জমি বিক্রি করে দৌলতদিয়া ঘাটে একটি দোকান ও পাশেই বাড়ি করেছি। শুনেছি এখানকার জমি সরকার নিয়ে যাবে। সরকার নিলে আপত্তি নাই, আমাদের ন্যায্য মূল্য তো দিবে। ন্যায্য মুল্য পেলে আমি অন্য যায়গায় জমি কিনে বাস করতে পারতাম। কিন্তুু পাচ বছর যাবৎ শুনেই যাচ্ছি বেচে থাকতে দেখে যেতে পারবো কিনা জানিনা।
টুকটুকি বেগম নামে ৬২ বছরের এক বৃদ্ধা জানান, এক সময় এই ঘাটটি ছিলো জমজমাট। নদী ভাঙ্গনে এই ঘাট দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। তাছাড়া পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় বেশির ভাগ যাত্রি ওই নৌরুট ব্যাবহার করে। এই নৌরুটে যারা হকারী করতো তারাও বেকার হয়ে গেছে। এই ঘাটটি স্থায়ী হলে, ভাঙ্গন ঠেকলে বা আধুনীকায়ন হলে আবার ঘাট প্রান ফিরে পেতো। জমজমাট হতো দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুট।
বিআইডব্লিটিএ’র আরিচা সেক্টরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীর পানি কমায় ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। ভাঙ্গনরোধে আমরা জিও ব্যাগ ফেলে যাচ্ছি। তাছাড়া দৌলতদিয়া পাটুরিয়া ঘাট আধুনীকায়ন প্রকল্পটি ১৩৫১ কোটি টাকা ব্যায়ে বিল জমা দেওয়া হয়েছে। নকশার কাজও প্রায় শেষ। দুই এক সপ্তাহের মধ্যেই নকশা হাতে পাওয়া যাবে। জমি অধিগ্রহনের জন্য বিআইডব্লিটিএ ভুমি মন্ত্রনালয়ে পত্র দিয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরে ঘাট আধুনীকায়নের কাজ শুরু হবে। সেখানে বিআইডব্লিটিএ বিআইডব্লিটিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বয়ে কাজ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution