1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

সিত্রাংয়ের প্রভাব ॥ বৃষ্টির পানিতে চাপা পরলো কৃষকের স্বপ্ন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
  • Update Time : শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২
  • ১২৫ Time View

‘এতা-ক্যাতা (সর্বস্ব) বেইচা বিগাদেড়েক খ্যাতে পেঁয়াজ লাগাইচিলাম, হেরপরও পইরেতের (কৃষি শ্রমিক) দাম দিবার না পাইরে, ঘরে কয়ডা খাওয়ার ধান আছিল, তাও বেইচা পইরেতের দাম দিছিলাম। দেওয়ার (বৃষ্টি) পানিতে হেই খ্যাত তলাইয়া গেছে। আমাগো সব শ্যাষ অইয়া গেছে। এহুন খাব কি? আবার ফের আবাদই বা করমু কি দিয়া?’ এভাবেই চরম হতাশা নিয়ে কথা গুলো বলছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা দৌলতদিয়া ইউনিয়নের জিতু মাতুব্বারের পাড়া গ্রামের কৃষাণী আব্দুল খালেকের স্ত্রী আলেয়া বেগম। তার মত অসংখ্য কৃষকের একই অবস্থা।
জানা যায়, গত সপ্তাহে শীতের সবজী ও পেঁয়াজ আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল পদ্মা পাড়ের গোয়ালন্দের কৃষকরা। পরিবারের নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে ছোট্ট শিশুটিও ক্ষেতে নেমে পড়েছিল। পরিবারের সবাই ক্ষেতে একত্রে কাজ করার সময় তাদের চোখে-মুখে ছিল অন্যরকম এক আনন্দের জোয়ার। তবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং তাদের সেই আনন্দ ফিকে করে দিয়েছে। টানা বর্ষণে তাদের সেই ক্ষেতে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তাদের মনে শুধুই হতাশা।
ঘুর্ণিঝর সিত্রাংয়ের প্রভাবে গত বোরবার দিনগত মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে। হঠাৎ অতি বৃষ্টির ফলে মুড়িকাটা পেঁয়াজসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজী ক্ষেতে জমেছে পানি। কিছু কিছু ক্ষেত পুরোটাই পানির নিচে। এতে অনেক কৃষক সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। অতি বৃষ্টির ফলে কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে চাপা পড়ে গেছে। অনেক কৃষক ক্ষেতের পানি হাতেই সেচে ফসল রক্ষার নিঃস্বফল চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে রোপিত বীজ পচে গেছে তাই শেষ রক্ষা হবে না বলে জানান চাষিরা।
গত বুধবার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মন্ডলের পাড়া ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের জিতু মাতুব্বার পাড়া এলাকা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিঘার পর বিঘা সবজি ক্ষেত, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ক্ষেত ও বীজতলায় পানি জমে আছে। দুই দিনের পানিতে কোনো কোনো জমির সবজির চারা মরতে শুরু করেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে আমরা সর্বশান্ত হয়ে গেছে। এতে শুধু আমরাই ক্ষতিগ্রস্থ হননি, ক্রেতাদেরও এর জের টানতে হবে। নতুন করে বীজতলা তৈরী এবং সবজির চারা রোপণের পর তা বাজারে আসতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দেরি হবে। ততদিন বাজারে সবজির দামও অনেক বেশি থাকবে। তাছাড়া নতুন করে আবার আবাদ করায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়ে যাবে।
এসময় কথা হয় স্থানীয় কৃষক বাচ্চু শেখের সাথে। তিনি বলেন, ‘কী করব কিছুই মাথায় আসছে না। প্রায় সাড়ে চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। টানা বৃষ্টিতে তা পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।’ তিনি আরো জানান, কৃষি ব্যাংক থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ রোপন করেছিলেন। যা সম্পুর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার কি ভাবে আবাদ করব ভেবে পাচ্ছি না।
অপর কৃষক আব্দুল কুদ্দুস শেখ জানান, একটি বাড়ি একটি খামার নামের একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ২ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছিলেন। ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। ইতিমধ্যে কুমড়া গাছ গুলো মরতে শুরু করেছে। তারপরও গামলা দিয়ে পানি সেচ করে শেষ করে যাচ্ছি।
নাসির সরদার নামের অপর কৃষক জানান, ধারদেনা করে সোয়া বিঘা জমিতে লাউ ও লালশাক চাষ করেছিলেন। জমিতে এখন হাঁটু পানি। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলছিলেন, ‘বৃষ্টি আমার সব শেষ কইরা দিল। নতুন করে আবাদ করব সে সামর্থ্যও নেই।’
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে রাজবাড়ী জেলায় বিভিন্ন সবজী ক্ষেত ১১৭৪ হেক্টর, মুড়ি পেঁয়াজ ২৪৬ হেক্টর, মাস কলাই ১১০ হেক্টর ও রোপা আমন ৭২৮২ হেক্টর বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায় মোট ১২৯৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে সবজি ৫৫০ হেক্টর, পেঁয়াজ ১১০ হেক্টর, মাশকলাই ১১০ হেক্টর, কলা ২০ হেক্টর, রোপা আমন ৫০০ হেক্টর, নাবী পাটবীজ ১ হেক্টর, মুগডাল ৪ হেক্টর।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, বৃষ্টির পরে সবজী ক্ষেতে পচন রোগ দেখা দেয়। আর যারা আগাম সবজীর আবাদ করেছিলেন, তাদের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আর মুড়ি পেঁয়াজের ক্ষেতে পানি জমলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। সব মিলিয়ে গোয়ালন্দ উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি বিবেচনা করে কোন প্রনোদনার ঘোষণা পাওয়া গেলে তা দ্রুত কৃষকদেরকে প্রদান করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution