1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন

ফরিদপুরের সালথায় আইন শৃঙখলার চরম অবনতি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৮
  • ৬৭৬ Time View

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর থেকে ॥
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। ৩দিনে ৪ বার জয়ঝাপ, মাঝারদিয়া ও রামকান্তপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে প্রায় ৮০ জন আহত হয়। কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ বলে অভিযোগ রয়েছে।

 




এছাড়াও থানার ওসির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে ওসির দাবী, এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। তাছাড়া এসব ভিত্তিহীন ও হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলে দাবী করেন ওসি।

বিভিন্ন এলাকা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ গ্রামে আ’লীগ নেতা আবু জাফর মোল্যার সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ খাঁনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন খাঁন ঘটনাস্থলে পৌঁছাইয়া আবু জাফর মোল্যার সমর্থন নিয়ে খোরশেদ খানের সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে মহিলাদের অকর্থ ভাষায় গালি-গালাজ ও রান্না করার হাড়ি-পাতিল ভাংচুর করে বলে মহিলারা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। এঘটনা শেষ হতে না হতেই শুক্রবার বিকালে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে দলাদলী নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হামিদের সমর্থকদের সাথে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম মাতুব্বারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সালথা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খাঁন সেলিম মাতুব্বারের পক্ষ নিয়ে হামিদ চেয়ারম্যানের সমর্থকদের বাড়িতে মহিলাদের অকর্থভাষায় গালিগালাজ ও গাঁয়ে হাত তোলেন বলে সাবানা বেগম নামে এক মহিলা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন। এঘটনার পরেই স্থানীয় মহিলারা ওসির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিচার দাবী করেন। এই সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের ৪০ ব্যাক্তি আহত হয়। সংঘর্ষকারীরা কয়েকটি পাটখড়ির পালায় আগুন ধরিয়ে দেয়। সেলিম মাতুব্বারের পক্ষ নিয়ে ওসি দেলোয়ার হোসেন ঘর পোড়ানোর অভিযোগ এনে হামিদ চেয়ারম্যানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করেন। যার মামলা নং-০৭।

মাঝারদিয়া গ্রামের টিটুল মোল্যা ও বতু মোল্যা বলেন, সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পরে সালথা থানার ওসি ঘটনাস্থলে এসে চেয়ারম্যানের লোকজনের বাড়িতে প্রবেশ করে মহিলা ও পুরুষদের উপর লাঠি চার্জ ও অকর্থ ভাষায় গালিগালাজ করে। আমরা এই ওসির বিচার চাই।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম মাতুব্বার সাংবাদিকদের কাছে বলেন, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কোন ভূমিকা নেই। পুলিশ যদি ভূমিকা নিতো তাহলে কোন সংঘর্ষ হতো না। ওরা চার পাঁশ থেকে টাকা খায়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মাঝারদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান হামিদ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার যে খানেই সংঘর্ষ বাঁধে, সেখানেই সালথা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন একটি পক্ষ নিয়ে অন্যপক্ষকে ঘায়েল করেন। একই কায়দায় মাঝারদিয়া গ্রামের সংঘর্ষের পর সেলিম মাতুব্বারের পক্ষ নিয়ে আমার লোকজনের বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের অকর্থ্য ভাষায় গালি-গালাজ, গাঁয়ে হাত ও লাঠিচার্জ করেন। ওসির কারণেই সালথার আইনশৃঙখলার চরম অবনতি হচ্ছে। আমি ওসি দেলোয়ারের অপসারণ দাবী করছি।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সব সময় চেষ্টা করি। আমি কারো পক্ষ নেইনি। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ। তিনি বলেন, আমি যোগদান করার পর থেকে এখানে সংঘর্ষ অনেকটা কমে আসছে। সংঘর্ষ এড়াতে আমাদের পুলিশ ছাড় দিচ্ছেনা। এছাড়া ঘর পোড়ানো মামলার বিষয়টিও তদন্তপর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution