1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
Title :
রাজবাড়ীতে মাইক্রোবাসের চাপায় বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু পাংশায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ॥ নারীসহ আহত-৫ বালিয়াকান্দিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হিজড়াদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫জন আহত রাজবাড়ীতে রাজু মেডিকেল কর্ণারকে জরিমানা পাঁচুরিয়ায় ভয়ভীতি দেখিয়ে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগ সাংবাদিক লিটন চক্রবর্তীকে হয়রানীর প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন মাদকসহ সকল অপরাধ নির্মূল করতে কাজ করছে জেলা পুলিশ -পুলিশ সুপার পুলিশকে তথ্য দিয়ে পুরুস্কার পেলেন গ্রাম পুলিশ রাম প্রসাদ রাজবাড়ীতে পদ্মায় বালু উত্তোলনকালে হামলায় একব্যাক্তি গুলিবৃদ্ধ রাজবাড়ীতে পাসপোর্ট অফিসের দালালদের হাতে মার খেলেন সেবা গ্রহিতা

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও বালিয়াকান্দিতে পাক প্রধানমন্ত্রীর নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৮
  • ১০৪৯ Time View
SAMSUNG CAMERA PICTURES

সোহেল রানা ॥
এক সময়ের খর¯্রােতা গড়াই আর চিত্রা নদীর মিলনস্থল রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের আদি ব্যবসা কেন্দ্র নারুয়া বাজার। বর্তমান বালিয়াকান্দি উপজেলা শহর থেকে সড়ক পথে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে নারুয়া বাজার। এর উত্তরে কালুখালী উপজেলা দক্ষিণে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা। বাজার সংলগ্ন স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজ এখনও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কায়েদে মিল্লাত লিয়াকত আলী খানের নামেই শুরু প্রতিষ্ঠানটির।

 




১৯৩২ সালে এম.ই স্কুল প্রতিষ্ঠার মধ্যে যাত্রা শুরু প্রতিষ্ঠানটির। ১৯৫০ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান আত্তায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর ১৯৫১ সালে তার স্মৃতি রক্ষার্থে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে প্রতিনিয়তই উচ্চারিত হচ্ছে পাকিস্তানের এই নেতার নাম। আর সেই নামের উপর পত পত করে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা। দীর্ঘ ৬৭ বছরের পথচলা এ প্রতিষ্ঠানটিতে মুক্তিযোদ্ধা হতে শুরু করে বহুগুনী জনের জন্ম নিলেও স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানীদের রাষ্ট্রভাষা উর্দ্ধু চাপিয়ে দেওয়ার মুল নায়ক ছিলেন এই লিয়াকত আলী খান।

জানাগেছে, জমিদারী প্রথা চালু থাকা অবস্থায় নারুয়া এলাকায় শিক্ষা বিস্তার তেমন অগ্রসর ছিল না। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষার হার ছিল নগন্য। জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর ১৯২৭ সালে নারুয়া ইউনিয়নে প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মোঃ ইসমাইল হোসেন বিশ্বাস। এলাকার শিক্ষা বিস্তারের কথা চিন্তা করে ১৯৩২ সালে তিনি পাটকিয়াবাড়ী গ্রামে প্রথম হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত এম.ই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫০ সালে বাঙালী বিদ্বেশী পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান আত্তায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার সারা পাকিস্তান ব্যাপী শোকের অংশ হিসেবে নারুয়া বাজারের বটতলায় এক শোক সভায় তার স্মৃতি রক্ষার্থে লিয়াকত আলী মেমোরিয়াল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

শিক্ষানুরাগী উদ্যমী যুবকেরা হলো, ইসমাইল হোসেন বিশ্বাস, হাতেম পিএলএ, নকাতুল্লা, ডা. মাখন লাল রায়, কাজী নিয়ামত, মনসুর আলী মোল্যা, তাহের আলী খানসহ অনেকে। তারা পাটকিয়াবাড়ীতে প্রথম হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলটি রেখে এ নামেই ১৯৫১ সালের জানুয়ারীর প্রথমে নারুয়া আমির আলী মন্ডলের টিনের ঘরে ষষ্ট হতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন, ইসমাইল হোসেন বিশ্বাস। প্রতিষ্ঠাতা সহকারী শিক্ষক হিসেবে গোপী নাথ সাহা, আব্দুল ওয়াজেদ শিকদার, আজিজুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, প্রশান্ত কুমার সাহা, একেএম সামসুদ্দোহা দায়িত্ব পালন করেন। পরে এলাকার দানবীর বিলধামু গ্রামের ফটিক মন্ডল ২.৮৫ একর জমির উপর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৯৩ সালে কলেজ শাখায় ভর্তির অনুমতি পায়। বর্তমানে লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজ নামে কার্যক্রম চলছে। এ প্রতিষ্ঠান হতে শিক্ষা লাভ করে দেশ-বিদেশে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সচিবসহ বহুগুনীজন গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। এদের মধ্যে সচিব ফয়জুল্লা, প্রকৌশলী তোফাজ্জেল হোসেন, ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা, অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ডা. আজিজুল ইসলাম, প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন, প্রকৌশলী আবুল কাশেম, ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা. ফারুক হোসেন, ড. সাজ্জাদ হোসেন, মেজর সাঈদ, যুগ্ন সচিব রেজাউল ইসলামসহ আরো নাম না জানা অনেকে। এ প্রতিষ্ঠানের কারণেই আজ নারুয়া শিক্ষা নগরীতে পরিনত হয়েছে। এক বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বালিকা বিদ্যালয়, ১টি কলেজিয়েট স্কুল, একটি ডিগ্রী কলেজ ও হাই স্কুল, ২টি হাফেজিয়া মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠানে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একাধারে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কেউই স্বাধীনতা বিরোধী এ খলনায়কের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করেনি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, স্বাধীন দেশে একজন স্বাধীনতা বিরোধীর নামে প্রতিষ্ঠান এখনও চলছে। এটা লজ্জার বিষয়। আমরা দ্রুত নাম পরিবর্তনের দাবী জানাচ্ছি। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আকিদুল ইসলাম জানান, আমরা ২০১৭ সালে কলেজ গর্ভনিং বডির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে নামপরিবর্তনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোন অনুমতি না আসার কারণে এ নামেই কার্যক্রম চলছে।
লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মোশারফ হোসেন, বিল্লাল হোসেন, আলীমুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ, মনিবুর রহমান জানান, যখন ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলটি কার নামে এ কথা জানতে চায় লজ্জায় আর বলতে পারিনা। আমরা দ্রুত নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু অথবা কোন বিশিষ্ট ব্যাক্তির নামে নামকরণের দাবী জানাচ্ছি।

লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ একেএম সিরাজুল হক জানান, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণের জন্য বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্টে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন অনুমতি পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মতিন ফেরদৌস জানান, বাঙালী বিরোধী খলনায়ক লিয়াকত আলী খান আমাদের কাছে ঘৃনিত ব্যাক্তি। স্বাধীন বাংলায় তার নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে তা কোন ক্রমেই মেনে নেওয়া যাবে না। অবিলম্বে নাম পরিবর্তনে দাবী জানাচ্ছি।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মন্ডল জানান, স্বাধীনতা বিরোধীর নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজ নামকরণ ঘোষনার দাবী জানাচ্ছি। নারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মাষ্টার জানান, আসলে অনেক আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহন করার প্রয়োজন ছিল। তারপরও দেরীতে হলেও উদ্যোগ নিয়েছে বলে শুনেছি। তবে সরকারের নিকট দ্রুত নামপরিবর্তনের দাবী জানাই।

স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা জানান, নাম পরিবর্তনের জন্য পত্র প্রেরন করা হয়েছে। অনুমতি পেলেই নাম পরিবর্তন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution