1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

রাজবাড়ীর নিমতলা-মধুখালী সড়কে সেতুর মধ্যে গর্ত

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ৬৭৮ Time View

রাজবাড়ী সদর উপজেলার নিমতলা-মধুখালী সড়কের শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর সেতুতে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচলসহ স্থানীয়দের যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, নিমতলা-মধূখালী সড়কটি রাজবাড়ী-ফরিদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের নিমতলা মোড় থেকে রাস্তাটি শুরু হয়েছে। অপরদিকে শেষ হয়েছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলাতে। রাস্তাটির মোট আয়তন প্রায় ২৪ কিলোমিটার। এরমধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ১৫ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এবং ফরিদপুর অংশে সাড়ে আট কিলোমিটার।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা যায়, গৌরিপুর পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ওই সেতু। সেতুর মাঝখানে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। সেতুর মাঝের সিমেন্ট, প্লাস্টার সব খসে পড়েছে। রডগুলো বের হয়ে হয়ে আছে। একপাশে কয়েকটি বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য। সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ইজিবাইক, নছিমন, মোটর সাইকেল, বাইসাইকেলে চলাফেরা করছে স্থানীয়রা। দুর থেকে সেতুর গর্ত বোঝার কোনো উপায় নেই। তবে সেতুর আশেপাশে তেমন কোনো সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়নি। সেতুর মাঝখানে একটি কঞ্চি পুতে রাখা হয়েছে।

গৌরিপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসমত আলী মোল্লা রাজবাড়ীবিডিকে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ নিয়মিত চলাফেরা করে। গ্রামগুলো হলো ধুলদী জয়পুর, নিমতলা, বড়নুরপুর, কোলার হাট, রাজাপুর, উদয়পুর, জামালপুর, মূলঘর, রশোরা, কুটির হাট, ভবানীপুরসহ ২০-২৫টি গ্রামের মানুষ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে। বিভিন্ন ছোট যানবাহনের পাশাপাশি বাস ও ট্রাকও চলাচল করে। বিশেষ করে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় বা আশেপাশের এলাকায় কোনো ঝামেলা হলে এই রাস্তার ব্যবহার খুব বেড়ে যায়।

শহীদ ওহাবপুর ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মোতাহার হোসেন প্রামানিক বলেন, মাস তিনেক আগে গর্তটি তৈরি হয়েছে। প্রথমে ছোট ফাটল দেখা দেয়। পরে আস্তে আস্তে গর্তটি বড় হতে থাকে। একদিকে সেতুটি অনেক আগে তৈরি করা। তাছাড়া ভারী ট্রাক চলাচল করে। এতে করে সেতুটির এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সময়ে মেরামত করা না হলে যে কোনো সময় বড় দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

মোটর সাইকেল চালক জহিরুল ইসলাম বলেন, অচেনা লোকজন এখানে এসে প্রায়ই ঝুকির মুখে পড়েন। কারন দুর থেকে সেতুর ভাঙা অংশ দেখা যায় না। এতে যেকোনো সময় সেতু ধসে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের উচিত, সেতুটি সংস্কার না করা পর্যন্ত সর্তক সংকেত টাঙ্গিয়ে দেওয়া। তাহলে সবাই আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবে।

গৌরিপুর পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদ ফকীর জানায়, প্রতিদিন পায়ে হেঁটে স্কুলে যাই। কিন্তুর মাঝখানে বড় গর্ত। গর্তের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। যদি কোনো সময় পড়ে যাই বা কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমার মতো সবাই এখান দিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে যাওয়ার ভয় পায়।

গৌরিপুর পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারী খাতুন বলেন, সেতুটি একেবারে বিদ্যালয়ে মাঠের সঙ্গে লাগানো। প্রতিদিন বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সেতু দিয়ে আসা-যাওয়া করে। সব সময় শিশুদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকি। বিভিন্নজনের কাছে সেতু মেরামতের বিষয়ে বলছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি মেরামত করা দরকার।
ইজিবাইক চালক ইকবাল হোসেন শিকদার বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে যাওয়ার জন্য এ অঞ্চলের মানুষসহ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা থেকে যাওয়ার সহজপথ। সেতুর মাঝখানে গর্ত থাকায় অনেক দুর ঘুরে যেতে হয়। এলাকায় ইটভাটা ট্রাকসহ বিভিন্ন স্থানের অতিরিক্ত ভারবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। সেতু নষ্ট হওয়া মূল কারন ট্রাক চলাচল।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সদর উপজেলা প্রকৌশলী স্বপন কুমার গুহ বলেন, ওই সেতুর বিষয়টি অবগত আছি। সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করা হবে। সেতু নির্মাণের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। সেতু নির্মানের দরপত্রের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution