1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন
Title :
রাজবাড়ীতে মাইক্রোবাসের চাপায় বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু পাংশায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ॥ নারীসহ আহত-৫ বালিয়াকান্দিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হিজড়াদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫জন আহত রাজবাড়ীতে রাজু মেডিকেল কর্ণারকে জরিমানা পাঁচুরিয়ায় ভয়ভীতি দেখিয়ে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগ সাংবাদিক লিটন চক্রবর্তীকে হয়রানীর প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন মাদকসহ সকল অপরাধ নির্মূল করতে কাজ করছে জেলা পুলিশ -পুলিশ সুপার পুলিশকে তথ্য দিয়ে পুরুস্কার পেলেন গ্রাম পুলিশ রাম প্রসাদ রাজবাড়ীতে পদ্মায় বালু উত্তোলনকালে হামলায় একব্যাক্তি গুলিবৃদ্ধ রাজবাড়ীতে পাসপোর্ট অফিসের দালালদের হাতে মার খেলেন সেবা গ্রহিতা

রাজবাড়ীতে সরকারী চাকুরী ক্ষেত্রে প্রান্তিকদের কোঠা বাস্তবায়নের দাবী

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ৮৩০ Time View
সোহেল রানা ॥

রাজবাড়ীতে প্রান্তিক জনগোষ্টির আর্থিক অনটন, আবাসন সমস্যাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তবুও ইচ্ছা শক্তিতে সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করার আশা বুক ভরা। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাতে দিলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেড়–তে পারে না বেশির ভাগ শিক্ষার্থী। তারপরও অনেকেই মেধা ও পরিশ্রম করে ভালো ফলাফল করলেও সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে কোঠা বাস্তবায়ন হয় না। তাদের দাবী সরকারী কোঠা বাস্তবায়ন করার।

 




রাজবাড়ী পৌর শহরের গোয়ালন্দ ঘাট-পোড়াদাহ-রাজবাড়ী রেলওয়ে ষ্টেশন ঘেষে সরকারী জমিতে গড়ে ওঠা বিবেকান্দ্র হরিজন পল্লী। অনেকেই সরকারী কোয়াটারে মাসিক ভাড়া দিয়ে বসবাস করেন। আবার অনেকে এনজিও থেকে ঋন নিয়ে ও বিভিন্ন উপায়ে পাটকাঠি, টিনসেট ঘর উত্তোলন করে স্ত্রী, সন্তান, মাতা-পিতা নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করেন। নিজের জমি না থাকার ফলে আবাসন সমস্যা তাদের অন্যতম। তাদের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যদের প্রধান আয়ের উৎস সামান্য বেতনে পৌরসভায় চাকুরী। সামান্য বেতনে জীবন ও জীবিকার চাহিদা মেটানো দুষ্কর।

সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে, সরকারী অন্যান্যে সুযোগ সুবিধার ন্যায্য দাবীর হিস্যা না পাওয়ায় তারা নিজ উদ্দ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি সমবায় সমিতি। এ বিবেকান্দ পল্লীর শিশুরা অল্প সংখ্যক ৫বছরে বয়সে ও বেশির ভাগ শিশু ৬ থেকে ৭বছর বয়সে স্কুলে যায়। সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে এসকল প্রান্তিক জনগোষ্টির কোঠা রয়েছে বলে ধারনা থাকলেও তাদের মধ্যে সার্টিফিকেট নিতে জেলা প্রশাসকের নিকট যেতে হয় বলেও অনেকেই ওই স্থানে পৌছাতে পারে না। এদেরকে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। অনেক সময় আবেদন করে ঘোরার ভয়ে তারা আবেদনও করে না। চাকুরীতে অন্যান্যে সম্প্রদায়ের মানুষের অনুপ্রবেশের কারণে তারা চাকুরীতে প্রবেশ করতে পারছে না। এছাড়াও চাকুরী পেতে তদবীর ও অর্থের কাছে তারা হেরে যায়। এতে সঠিক ভাবে কোঠা পুরন না হওয়ার কারণে তারা চাকুরী সুবিধা বন্ধিত হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পৌরসভার রেলওয়ে ষ্টেশনের কোল ঘেষে আদিকাল থেকে রেলওয়ের সরকারী জমিতে খুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করে আসছে ৬টি ডোম পরিবার। এ পরিবারগুলোর মধ্যে ৪জন গোয়ালন্দ পৌরসভায় ১৮শত টাকা বেতনে চাকুরী করে। কেউ আবার লেখাপড়া শিখে পরিবারের সদস্যদের মুখে দু,বেলা খাবার পৌছে দিতে পাড়ি জমিয়েছে রাজধানী ঢাকায়। স্বাধীনতার পুর্বে অনেক সম্পদশালী ও বিত্তবৈভব থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে ফিরে পথের ফকির। ৭১-এ ভিটে-বাড়ী ফেলে ভারতে পাড়ি জমালে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বসতবাড়ী। ফলে পুর্ব পুরুষের জমির দলিলাদি আর দেশে ফিরে তাদের জমি ফেরৎ পায়নি। জমি চলে যায় ভুমিদস্যুদের দখলে। এখনও কিছু জমির কাগজপত্র থাকলেও দখলে নিতে সাহস পাচ্ছে না রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাহাতি মোহন গ্রামের হরিজন জনগোষ্টি। তারা এখন নিঃস্ব ভাবে কালুখালী- ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ের জামালপুর ষ্টেশন সংলগ্ন খন্ড খন্ড জমিতে বসবাস করছেন। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা সদর ইউনিয়নের পুর্বমৌকুড়ি গ্রামের ঋষিপল্লীর বাসিন্ধারা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে ছেলেদের স্কুলে যাবার বয়স হলেও বেশির ভাগ পরিবারের সন্তানদেরকে যেতে হয় দু,বেলা দু-মুঠো ভাতের সন্ধানে। এ পল্লীর বেশির ভাগ লোকই গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরীর কাজ করে।

সমাজে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের মতো সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে বেচে থাকার পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে চায় রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্ধা ডোম পরিবারগুলো। আদিকাল থেকেই তাদের পুর্বপুরুষরা পাংশা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড নারায়নপুরে বসবাস করে আসছেন। অনেক পরিবারই শহর ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জীবিকার তাগিদে বেড়িয়ে গেছেন। পুর্ব পুরুষের ভিটাবাড়ী বিক্রি করে অন্যত্র বাসস্থান গড়ে তুলেছেন। তাদের পেশাও অনেকেই বদলে ফেলেছেন। পাংশা পৌরসভার নারায়নপুরে এখন বসবাস করে ৪টি পরিবার। ৪টি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২২জন।

দিলীপ সরকার ও পিটুয়া সরকার জানান, তারা অবহেলিত, সরকারের কাছে দাবী ডোম সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশেষ বরাদ্ধ ও সরকারী চাকুরীতে কোঠা প্রথা চালু করা। তাহলে তাদের সন্তানরা লেখাপড়ায় আরো সচেষ্ট হবে।
রাজবাড়ী জেলার পাংশা পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের মৈশালা-মাগুরাডাঙ্গী গ্রামে আদীকাল থেকে গড়ে ওঠে ঋষি পল্লী। এ পল্লীতে ৩৭টি পরিবার বসবাস করে। জনসংখ্যাও কম নয়। ছোট-বড় দিয়ে প্রায় ৩শতাধিক জন রয়েছে। তবে দিনবদলের সাথে সাথে তাদের সচেতনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি পরিবারের ছোট ছেলে মেয়েরা স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করছে। চাকুরীর ক্ষেত্রে কোঠা পুরন না হওয়ার কারণে তারা হতাশ।

বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি বাসুদেব মন্ডল জানান, রাজবাড়ী বিবেকন্দ্র পল্লীতে প্রায় ৮৫টি হরিজন পরিবারের ৯শত লোকের বসবাস। এদের মধ্যে ১১জন কলেজে, ১৪জন হাই স্কুলে, ৭জন শিশু শ্রেনীতে ও ৫০জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। প্রায় ৬৫জন পৌরসভায় ১৩ শত টাকা থেকে ২৭শত টাকা বেতনে চাকুরী করে। তাও আজ বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যান্যে সম্প্রদায়ের লোক চাকুরীতে অনুপ্রবেশের কারণে তারা এ চাকুরীও হারাতে বসছে। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কোঠা বাস্তবায়নের লক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। তবে প্রান্তিক এসকল জনগোষ্টিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী জানান, এ জেলার প্রান্তিক জনগোষ্টির জন্য বরাদ্দকৃত কোঠা সঠিক ভাবে অনুসরন করা হবে। চাকুরীর ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট পেতে দালালের মাধ্যমে আমার কাছে যেতে হবে না। সরাসরি গেলেই যাচাই করে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution