1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
Title :
মরহুম কাজী হেদায়েত হোসেনের ৪৭ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন রাজবাড়ীতে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি ও যুবককে কুপিয়ে জখম রাজবাড়ীর শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ‘দূস্কৃতিকারী যারাই হোক ছাড় দেওয়া হবে না’ -জিল্লুল হাকিম এমপি সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে যুবলীগের বিক্ষোভ কথা রাখছে না বিদ্যুত বিভাগ গোয়ালন্দে ৩৫০০ দূর্বল শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ক্যাচ-আপ ক্লাবের যাত্রা শুরু বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর এখন রাজবাড়ীতে, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভির রাজবাড়ীতে ৫১ জন দুস্থ ও তৃতীয় লিঙ্গের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী ও রোগমুক্তি কামনায় রাজবাড়ীতে দোয়া মাহফিল

বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবেঃ মুক্তিজোট

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
  • ১১৩০ Time View

মুক্তিজোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে “মহান একুশ- আন্তর্জাতীক মাতৃভাষা দিবস” উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্য বলা হয়- “মানুষের মুখের ভাষা- আপন ভাষা রক্ষার সংগ্রামের পরিণতিতেই এদেশের স্বাধীনতা এসেছিল কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরেও আদালতের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা হয়নি- তেমনি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সেই মানুষই নিজেকে পোস্টার করে খোলা আকাশের নিচে বুলেট বিদ্ধ লাশ হয়েছে কিন্তু গণতন্ত্র রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রতিষ্ঠা পায়নি। বর্তমান বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তাই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র!

 




মানুষের ভাষা আর মানুষই পোস্টার হওয়ার এই দেশে আজ গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার সাথেই মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তি এবং মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সমার্থক হয়ে গেছে। কারণ গণতন্ত্র ব্যক্তি ইচ্ছা নির্ভর অভিভাবকত্বের পথ ধরে নয় বরং সর্বদা নৈর্ব্যক্তিক প্রাতিষ্ঠানিক পথ ধরেই স্থিতিশীলতা লাভ করে। আর সেটা প্রতিষ্ঠার নামই স্বাধীন সার্বভৌম আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের রাজনীতি।

ইতোপূর্বে সরকার সর্বস্তরে (আন্তর্জাতিকতার শর্ত ব্যতিরেকে) বাংলা ভাষা চালু করার ক্ষেত্রে কেন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে বাধ্য করছে না- এই মর্মে হাইকোর্ট বিভাগ এর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসাইন এর বেঞ্চ থেকে ১৭ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে একটি রুল জারি করা হয়।

কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য খোদ আদালতের দাপ্তরিক ক্ষেত্রই অদ্যাবধি এই নির্দেশের বাইরে আছে! বিচার বিভাগ কি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৯-এ উল্লিখিত “ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন…” সাংবিধানিক এই মূল সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভাষাভিত্তিক জাতি-গোষ্ঠির এই সার্বভৌম জনপদের কোন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষায় বাংলাভাষা ব্যবহৃত না হওয়া পক্ষান্তরে উক্ত সিদ্ধান্তের বাইরে থাকা তথা সার্বভৌমত্বের বিরোধী অস্তিত্বকে বহন করার সমার্থক হয়ে পড়ে।

স্মর্তব্য, এদেশের স্বাধীনতা লর্ড মাউন্ট ব্যাটন্- এর মতো কোনো গভর্নর জেনারেলের আদেশবলে ঘটেনি; এই দেশ ও তার স্বাধীনতা এবং এর পবিত্র সংবিধান আপামর জনতার রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল। তাই সর্বাগ্রে মনে রাখা জরুরী- বিচার বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটা প্রতিষ্ঠান মাত্র। স্বাধীন হলেও প্রাতিষ্ঠানিক এই পরিচয়ের বাইরে তার কোনো আলাদা পরিচয় বা কর্মসীমানা নেই।

বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করার ক্ষেত্রে শিক্ষাসহ যে যে আনুষাঙ্গিক শর্ত রয়েছে সেই ব্যাপক কর্মসীমানা বিচার বিভাগের থাকে না। রাষ্ট্র-কাঠামোর কোনো বিভাগই এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় আর সেটা হয়ও না, হলে সে সরকার হয়ে ওঠে- কারণ সরকারই কেবল সব বিভাগের সমন্বিত ক্রিয়ায় সর্বোচ্চ কর্তৃত্বে আসীন থাকে। রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা বলতে কাঠামোবদ্ধ অপরাপর অংশের সাপেক্ষেই কেবল তা নির্দিষ্ট হয়। সেদিক থেকে বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করার ক্ষেত্রে শিক্ষাসহ যে যে আনুষাঙ্গিক শর্তকে অজুহাত হিসাবে দেখানো হয়েছে সেটা বাংলা ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মোটেই যুক্তিসঙ্গত বা গ্রহণযোগ্য নয় বরং এটা সরকারের অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা হিসাবেই নির্দিষ্ট হয়।

অর্থাৎ সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আদালত যে অর্থে অপরাপর প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক দাপ্তরিক ভাষা করার ক্ষেত্রে নির্দেশ দেন, সে অর্থেই সর্বাগ্রে বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করাটাও সরকারের দায়িত্ব।

এক্ষেত্রে কথিত ‘টেকনিক্যাল সমস্যা’ বা পরিভাষাসহ বহুবিধ অজুহাতে কাল বিলম্ব মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় কারণ এমন অজুহাতেই ৪৫ বছর পেরিয়ে গেছে এবং যতোদিন ব্যবহার-বিধি বাধ্যতামূলক না হচ্ছে এই অজুহাতে আরও ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না এবং যথারীতি অবসর নেয়ার পর ভাষার জন্য অনেকের মায়া কান্নায় বাহবা পাওয়ার অবকাশও রয়ে যাবে।

অতএব, নূর হোসেনের বুলেটবিদ্ধ লাশ আর তার আধ-বোঁজা চোখ এখনও চেয়ে আছে- প্রভাত ফেরীর হাজারো পায়ে পায়ে যাঁদের পা মিলতো রাউফুন বসুনিয়া, দিপালী সাহাদের শেষ শ্বাস ফেলার সেই ধ্বনিটুকু ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ এখনও রাজনীতিহীনতার অন্ধকারে রূদ্ধ।

ভাষার দাবীতে যে শোণিত প্রবাহ তা আজ আসমানের খাপে খাপে বোনা সমগ্র ভূপৃষ্ঠ জুড়ে, বৈশ্বিক সব মানুষের হয়ে গেছে- রফিক, শফিক, সালাম আর তাঁদের রক্তবীজের পরিণতিতেই সার্বভৌম বাংলাদেশ এবং যথারীতি আজ এদেশের এজলাসে বসে থাকা লোক আর তার মগজ আর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাধা থাকে না- নিঃসন্দেহে সে এদেশেরই মানুষ, এদেশের সংসদ সংবিধান হয়েই তার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় তবুও বিভিন্ন্ অজুহাতে দাপ্তরিক ভাষাসহ শপথে পরচুলা পরে সং সাজার সেকেলে রেওয়াজ দিব্যি রয়ে গেছে! সত্যি কি বিচিত্র এ দেশ, সেলুকাস!-…হায় স্বাধীনতা বৃথা যায়, বৃথা যায়…।

মহান একুশে ফেব্রুয়ারী স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ ও তার গণতান্ত্রিক বিনির্মানে সর্বৈব সত্য হয়ে উঠুক-শহীদ বেদীতে দ্রোহী শোকের স্মারকে রাখা ফুলগুলো সৃজনের মহামন্ত্রে বৈশ্বিক বারতা হয়ে ফিরুক, আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব শহীদান অস্তিত্ব জানান দিক তাঁরা ছিল, আছে এবং থাকবে। কারণ প্রভাতের প্রশান্তিময় সব গীত ও স্তোত্র চিরকাল তাঁদের হয়ে।”

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান- মোঃ সিরাজুল ইসলাম, পরিচালনা বোর্ড প্রধান- মোঃ শাহজামাল আমিরুল, কন্ট্রোল বোর্ড প্রধান- মোঃ বদরুজ্জামান, জয়েন্ট এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রধান- প্লাবন বিশ্বাস, গভর্নেন্স এক্সিকিউটিভ- জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বোর্ড অব ম্যানেজিং চ্যাপ্টার- মোঃ আসাদুজ্জামান, জাতীয় সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি- কৃষ্ণ গোপাল সাধুখাঁ সহ ঢাকা মহানগরের অথোরিটিবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution