1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

বালিয়াকান্দির মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রে মীরের লেখা মাত্র ১টি বই

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৮
  • ৯৩৮ Time View

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল, মুসলিম সাহিত্যিক, কালজ্বয়ী উপন্যাস “বিষাদ সিন্ধু” রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের সমাধীস্থল রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির নবাবপুরের পদমদীতে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রে মীরের লেখা বিষাদ সিন্ধু ছাড়া নাই তার লেখা অন্য কোন বই।
মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা লাহিনীপাড়া গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে মারা যান এবং পড়ে সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়।
আগামী ১৩ নভেম্বর মীরের ১৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রটির ভেতরে চলছে পরিস্কার পরিচ্ছনের কাজ এবং সেই সাথে চলছে জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি।
পড়ে তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ২৫৩.৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে বাংলা একাডেমীর বাস্তবায়নকৃত ও সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পোষকতায় রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদীতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সালে পূর্নাঙ্গ রুপ পায় কালজয়ী এ সাহিত্যিকের নামে নামকরণ স্মৃতি কেন্দ্রটি। যার ২০০১ সালের ১৯ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ২০০৫ সালের ২০ এপ্রিল এর উদ্বোধন করেন ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। স্মৃতি কেন্দ্রটি নির্মানের এক যুগ অতিবাহিত হলেও তেমন কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি।
মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতি বিজরিত কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন জেলাসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসে বহু দর্শনার্থী। তাই দশরার্থীদের সুবিধার জন্য বৃহস্পতিবার ব্যাতিত সপ্তাহের অন্যান্যে দিন স্মৃতি কেন্দ্রটি খোলা থাকে। তবে দর্শনার্থীরা মীর মশাররফ হোসেন, তার দুই স্ত্রী ও এক ভাইয়ের সমাধীস্থলসহ কেন্দ্রটির বিভিন্নস্থান ঘুরে দেখলেও মীরের জীবন ও লেখা সর্ম্পকে জানতে কেন্দ্রের গ্রন্থাগারে বিষাধ সিন্ধু ছারা পান না অন্য কোন বই। তবে সেখানে রয়েছে অন্যান্যে লেখকদের বই।
কালজয়ী এ সাহিত্যিকের স্মৃতি কেন্দ্রে রয়েছে মীর মশাররফ হোসেন, তার স্ত্রী বিবি কুলসুম, ভাই মীর মোকাররম হোসেন, তার স্ত্রী বিবি খোদেজা বেগম এর সমাধী সৌধ। রয়েছে মীরের মীরের ভাস্কর্য, সংগ্রহশালা, সভাকক্ষ, গ্রন্থাগার, পাঠাগার, অভ্যার্থনা কক্ষ, ভিআইপি রুম, আবাসান কর্মকর্তার কক্ষ।
বর্তমানে স্মৃতি কেন্দ্রের গ্রন্থগারে মীরের শ্রেষ্ট লেখা উপন্যাস বিষাদ সিন্ধ উপন্যাসের ইংরেজী ভার্ষনের ৩ কপি ও বাংলা ভার্ষনের ১ টি কপি ছারা নাই অন্য কোন বই। এতে হতাশ হচ্ছেন এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা। তাছাড়া এখানে কমপ্লেক্্র ভবন ও মীরসহ মীরের পরিবারের সদস্যদের কবর ছারা নাই কোন বিনোদনের ব্যবস্থা। এদিকে সংগ্রহশালায় তার লেখা ৯টি নীতি বাক্য ছারা নাই গবেষকদের জন্য নাই কোন জিনিস পত্র। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাবাসীসহ অনেকে মীরের লেখা বইসহ তার স্মৃতি সংরক্ষেণের দাবী জানিয়ে আসলেউ কোন কাজে আসে নাই।
মীর গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, আত্নজীবনী, প্রবন্ধ ও ধর্ম বিষয়ক ৩৭টি বই রচনা করেছেন। সাহিত্য রচনার পাশাপাশি কিছু দিন তিনি সাংবাদিকতাও করেছেন। মীরের রচনা সমগ্রহের মধ্যে রত্নাবতী, গৌরি সেতু, বসন্ত কুমারী, জমিদার দর্পণ, সঙ্গীত লহরী, উদাসীন পথিকের মনের কথা, মদিনার গৌরব, বিষাদ সিন্ধু, গো-জীবন, বেহুলা গীতাভিনয়, গাজী মিয়ার বোস্তানী, মৌলুদ শরীফ, মুসলমানের বাঙ্গালা শিক্ষা, বিবি খোদেজার বিবাহ, হজরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ, হজরত বেলালের জীবনী, হজরত আমীর হামজার ধর্মজীবন লাভ, মোসলেম বীরত্ব, এসলামের জয়, আমার জীবনী, বাজিমাত, হজরত ইউসোফ, খোতবা বা ঈদুল ফিতর, বিবি কুলসুম, ভাই ভাই এইতো চাই, ফাস কাগজ, একি, টালা অভিনয়, পঞ্চনারী, প্রেম পারিজাত, বাঁধাখাতা, নিয়তি কি অবনতি, তহমিনা, গাজী মিয়ার গুলি ও বৃহৎ হীরক খনি উল্লেখযোগ্য।
দর্শনার্থীরা জানান, ছোট বেলায় যে কবির লেখা পড়ে বড় হয়েছেন, সে কবির স্মৃতি বিজরিত স্থানতে আসতে পেরে অনেক ভাল লেগেছে।
মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একজন দিকপাল ও মুসলিম সাহিত্যিক। তার স্মৃতির একমাত্র স্মৃতি কেন্দ্রটি এখানে অবস্থিত হলেও কেন্দ্রটির গ্রন্থাগারে রয়েছে তার লেখা একটি মাত্র বই। এর চাইতে দুঃখ আর কি হতে পারে। তাছাড়া অনেক দর্শনার্থী কেন্দ্রটিতে আসেন কিন্তু সে তুলনায় তেমন উন্নয়ন হয় নাই। এখানে তাদের মত দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে মীরের লেখা সব বই সংগ্রহ ও দৃষ্টি নন্দন কিছু স্থাপনা নির্মানের দাবী জানিয়েছেন।
মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রের অফিস সহকারী বাবুল আক্তার জানান, প্রতিবছর মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। গন্থাগারে অনেক দর্শনার্থী আসে, চালু রয়েছে পাঠকক্ষ ও সংগ্রহশালা। স্কুল ও কলেজের অনেক শিক্ষার্থীরা এখানে আসে। মীরের বিষাদ সিন্ধুর ৩টি ইংরেজী ও ১টি বাংলা ভার্ষনসহ ৪টি বই রয়েছে গন্থাগারে। পর্যায়ক্রমে তার লেখা সব আনা হবে। এ বিষয়ে বাংলা একাডেমীকে জানানো হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রে যে লোকবল থাকা প্রয়োজন, সে তুলনায় লোকবল নাই। নির্মানের পর থেকে কোন সংষ্কার মলক কাজ হয় নাই। গত বছর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্মৃতি কেন্দ্রের বাউন্ডারী দেয়ালের সংস্কার করা হয়েছে। যে উদ্দোশ্যে স্মৃতি কেন্দ্রটি নির্মান করা হয়েছে সে উদ্দোশ্যের কোন কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এখানে মীর সম্পর্কে গবেষনা ও পড়াশুনা তেমন হয় না।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী জানান, দেশের ক্ষ্যতনামা ব্যাক্তিদের মধ্যে মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ও মৃত্যু দিবস সরাকারী ভাবে পালন করা হয়। এ বছরও যথাযগ্যে মর্যাজায় জন্মবার্ষিকী পালন করা হবে। মীরের জন্ম ও মৃত্যু রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির পদমদীতে। মীরের লেখা প্রতিটি বইয়ের ৫ কপি করে দ্রুত কিনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যেমে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রে সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হবে।

 




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution