1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

পদ্মায় ইলিশের আকাল, জেলেদের দুর্দিন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮
  • ৮৫৯ Time View

‘আধার থাকতে গাঙ্গে আইছি। টানা বৈকাল পর্যন্ত কোনা জাল বেয়ে ৮/৯টি ছোট সাইজের ইলিশ পেয়েছি। এই মাছ বিক্রি করে বড় জোড় ১৫শ থেকে ১৬শ টাকা পাব। সারাদিন গাঙ্গে থাকলে অন্তত ৬/৭শ টাকা খরচ হয়। ৮ জন মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করলাম, কিন্তু কি নিয়ে ঘড়ে যাব। যে টাকা ভাগে পাব তা দিয়ে চাল-ডাল কিনব, নাকি ঋণ পরিষোধ করব।’
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার অন্তার মোড় এলাকায় ইলিশ ধরার কাজে নিয়োজিত লিটন শেখ (৩২) পদ্মা নদীতে ইলিশের আকাল নিয়ে এভাবেই বলছিলেন। তার বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের গোপালবাড়ি গ্রামে।
শুধু লিটন নয় তার মত একই অবস্থা ইছাক সরদার (২৮), জুলহাস হোসেন (৩০), দেলোয়ার হোসেন (৩৫)সহ আরো অনেকের। কারণ ভরা মৌসুমে পদ্মায় ইলিশের আকাল দেখে তারা চরম হতাশাগ্রস্থ।
তারা জানায়, আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ন মাসকেই ইলিশের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এরমধ্যে গত মাসে টানা ২২ দিন সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকায় নদীতে নামতে পারেননি তারা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শেষে তারা ইলিশ শিকারে নদীতে গিয়ে অনেকটা খালি হাতে ফিরছেন। ইলিশ না পেয়ে পন্ড শ্রমের পাশাপাশি লোকসানের মুখেও পড়েছেন তারা। গত বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে এ এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। ইলিশে ছয়লাব হয়ে যায় পুরো এলাকা। দামও ছিল একেবারে কম। গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে এবারো অনেকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে জাল ও নৌকা প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু এবার তারা হতাশ। একেকটি মাছ ধরা নৌকা প্রস্তুত করতে নৌকা ও জাল বাবদ তাদের ৩ থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে তারা জানান। এ পরিস্থিতিতে কিভাবে সংসার চালাবেন আর দাদনের ঋণ পরিশোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা।
ইলিশ মাছ ব্যবসায়ী বেপারী জব্বার মিয়া, খবির খান, শাহজাহান সরদারসহ কয়েকজন জানান, গত বছরের এই সময় নদীতে বেশ ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। স্থানীয়সহ দুর-দুরান্ত থেকে অনেক বেপারী ও খরিদ্দার এসে ইলিশ কিনে নিয়েছে। কিন্তু এবার তেমনটি নেই। আমরাও সবাই হতাশ।
আলাপকালে পাবনার ঢালার চর এলাকা থেকে আসা জেলে মমিন শেখ জানান, কয়েক দিন ধরে নদীর বিভিন্ন স্থান চষে ফেলেও তেমন মাছ পাচ্ছিনা। তাই গত ২ দিন ধরে নদীদে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। নদীতে গেলে যে টাকা খরচ হয়, সে খরচও উঠছে না। তিনি আরো জানান, ইলিশের মৌসুম পেরিয়ে গেলেও নদীতে ইলিশ মিলছেনা। বিগত মৌসুমে এমন সময় নদীতে ঝাকে ঝাকে ইলিশ ধরা পড়ে ছিলো। এ বছরও মাছের আশায় ঋন নিয়েছি, কিন্তু ইলিশ না পাওয়াতে চোখ-মুখে অন্ধকার দেখছি।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ইলিশের মৌসুমও কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। যার ফলে ইলিশ পাওয়া কমে গেছে। এছাড়া পদ্মার ভাটিতে অসংখ্য ডুবোচর, পানির গভীরতা কমে যাওয়ার কারণে এ অঞ্চল খুব একটা ইলিশ আসতে পারেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী ভরাট, ডুবোচর, বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ইলিশের বিচরন এ এলাকায় কমে গেছে বলে তিনি জানান।

 




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution