1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

হিমু, মিসির আলী কিংবা শুভ্রদের ভবিষ্যৎ কী?

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭
  • ১২৬৭ Time View

জাদুকর ছিলেন তিনি। যেখানেই হাত দিয়েছেন, তাতেই হয়েছেন সফল। গোটা দেশের মানুষকে তার জাদুতে আচ্ছন্ন করে রাখতে বাদ দেননি কোন মাধ্যম। হোক তা বইয়ের পাতা, টিভির পর্দা বা সিনেমা হলের বিশাল পরিসর।

নিছক একটা টিভি কেনার বাসনা নিয়ে এই খেয়ালি মানুষটি তার প্রথম ধারাবাহিক লেখেন। অগ্রীম বারো হাজার টাকা পান ধারাবাহিকের চুক্তির শুরুতে, আর তা দিয়ে সন্তানদের জন্যে কিনে আনেন তাদের সংসারের প্রথম টেলিভিশন। নিজের সৃষ্টি চরিত্রগুলো তার কাছে ছিল নিজের সন্তানদের মতনই। নানা ব্যাক্তিগত কথামালায় আর সাক্ষাৎকারে তিনি বহু বার বলেছেন, ‘আমার চরিত্রগুলোকে আমি আমার সন্তানের মতোই ভালোবাসি, তাদের মতো করেই জানি।’

হিমু হোক বা মিসির আলী, রুপা হোক বা হিমুর পাগলাটে ভাই বাদল, শুভ্র হোক বা তার বারবার ভুলে যাওয়া চশমার ফ্রেম- সব কিছুকেই হুমায়ূন আহমেদ দেখতেন এক অন্যরকম চোখ দিয়ে। হিমুর ময়ূরাক্ষী নদী, রুপাদের ফার্ম হাউজের বা শালবনের জোছনা, সবই তার অন্তরের চোখের দেখা,আমাদেরকে দেখানো।

জীবনের প্রথম ছবি ‘আগুনের পরশমণি’।

সেখানে রাত্রি চরিত্রে বিপাশা হায়াত এতটাই সাবলীল যেন আমাদের কল্পনার রাত্রির বাস্তব মুখখানি পর্দায়। মুক্তিযোদ্ধা বদিউল চরিত্রে আসাদুজ্জামান নূর, মতিন সাহেবের চরিত্রে আবুল হায়াত আর অপলার চরিত্রে শীলা আহমেদ ছাড়া আমরা এখনো কাউকে ভাবতে পারিনি। ছবিটি তার প্রায় সবগুলো বিভাগেই জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ মানুষ হিসাবে যতটা রসিক ছিলেন, ঠিক ততটাই ছিলেন খুঁতখুঁতে। তার সৃষ্টি বাকের ভাই চরিত্রটিতে আসাদুজ্জামান নূর এতটাই সাবলীল ছিলেন যে দেশে মিছিল পর্যন্ত বের হয়েছিল ‘বাকের ভাইয়ের ফাঁসি চাই না’ বলে। একজন লেখক,নির্মাতার জন্যে এর থেকে বড় সাফল্য আর কি হতে পারে? নিজের এক ব্যক্তিগত কথামালায় তিনি জানিয়ে ছিলেন যে তার চরিত্রগুলোতে অভিনয় করার জন্যে দেশের বিখ্যাত একটি টিভি চ্যানেলের রিয়েলিটি শো’র বিজয়ীকেই নিতে হবে এমন শর্তে তিনি খুবই বিরক্ত বোধ করতেন। কারণ তার চরিত্রগুলোকে তিনি গভীরভাবেই জানেন এবং তাদের তিনি নিজেই খুঁজে বের করতে চান। কিন্তু সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের জন্যে নিজের এই ইচ্ছাখানি বর্জন করে তিনি শান্তি পাননি মোটেও।

তবে তার মৃত্যুর পর তার সৃষ্টিকে নিয়ে যা হচ্ছে তা তিনি বেঁচে থাকলে কোনো দিন হতে দিতেন? তার প্রত্যেকটি চরিত্রের যে আবেগ, রাগ, যুক্তি বা খামখেয়ালী ভাব, তা কতটা ফুটিয়ে উঠতে পারছেন নির্মাতারা? তার বিখ্যাত উপন্যাস কৃষ্ণপক্ষ। অরু নামের একটি মেয়ে কাজী অফিসে বিয়ে করে তার বেকার প্রেমিক মুহিবকে। অরু সেনসেটিভ, জীবনের ছোট ছোট অনুভূতিতে পরিপূর্ণ, শিক্ষিতা, বড় ঘরের ছোট মেয়ে। মুহিব এদিকে বেকার, বিয়ের দিন ক্যাটক্যাটে হলুদ পাঞ্জাবী পরে এসে অরুর কপাল কুচড়ে দিলেও অরু জানে মুহিবের চেয়ে সরল,ভালো মানুষ আর দুইটি নেই। এই চরিত্রগুলো আমাদের পাঠকদের কল্পনার এক বিশাল অংশ। সেখানে মাহিয়া মাহির মতন কমার্শিয়াল নায়িকা আর মুহিবের প্রায় দ্বিগুণ বয়সী চিত্রনায়ক রিয়াজ আসলেই আমাদের কল্পনার সাথে মিলে কিনা, সেটা নির্মাতার খানিকটা ভেবে দেখা উচিৎ ছিল বোধ হয়।

কিছুদিন আগেই নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে বিখ্যাত মিসির আলী চরিত্রের প্রথম উপন্যাস ‘দেবী’ নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘দেবী’। মিসির আলীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেশের অন্যতম সেরা অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। যদিও মিসির আলীর ব্যক্তিত্ব, বয়স, আউটলুক কোনটাই চঞ্চলের মতো নয়; তবুও বিশ্বাস করার মতো অভিনয়শক্তি চঞ্চল চৌধুরীর আছে বলেই জানি। কিন্তু একই ব্যক্তিকে যখন আবার হিমুর চরিত্রে কাস্ট করা হচ্ছে, তখন আসলে চরিত্র নিয়ে ছেলেখেলাই হচ্ছে বলা যায়। হিমুর রসবোধ তীব্র হতে পারে, তবে সে তো গোপাল ভাঁড় নয়। তাই মোশাররফ করিমকে এই চরিত্রতে দেখতে দর্শক হিসেবে আমরা মোটেও খুব একটা সুখী বোধ করিনি। যে অভিনয় শিল্পীদের কথা এখানে বলেছি তারা প্রত্যেকে নিজেদের মেধা,পরিশ্রম আর অভিনয় গুণে দেশের সেরা, কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের এই কালজয়ী চরিত্র গুলোর জন্যে তারাই সেরা পছন্দ কিনা তা নিয়ে নির্মাতারা ভাবলে দর্শক আর হুমায়ূন আহমেদের জাদুর ঘোরে বড় হওয়া আমাদের অনেকটা ভালো লাগতো। আর ওপারে বসে এই সব চরিত্রের স্রষ্টাও বোধহয় খুশিই হতেন। তার প্রতি সম্মান আর ভালোবাসা দেখানোর জন্য হলেও নির্মাতাদের এসব চরিত্রের কাস্টিং নিয়ে ভাবার সময় হওয়া উচিৎ।

হিমু, মিসির আলী, শুভ্র, রুপা, নবনী, নিলু বা রুমালী বেঁচে আছেন আমাদের কাছে এই চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে। আর তাই এই চরিত্রগুলো বইয়ের পাতায় বা কল্পনায় নয়, বাস্তবেও আমাদের কাছে মহামূল্যবান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution