1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
Title :
রাজবাড়ীর শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ‘দূস্কৃতিকারী যারাই হোক ছাড় দেওয়া হবে না’ -জিল্লুল হাকিম এমপি সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে যুবলীগের বিক্ষোভ কথা রাখছে না বিদ্যুত বিভাগ গোয়ালন্দে ৩৫০০ দূর্বল শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ক্যাচ-আপ ক্লাবের যাত্রা শুরু বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর এখন রাজবাড়ীতে, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভির রাজবাড়ীতে ৫১ জন দুস্থ ও তৃতীয় লিঙ্গের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী ও রোগমুক্তি কামনায় রাজবাড়ীতে দোয়া মাহফিল গোয়ালন্দে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২জন গ্রেপ্তার বালিয়াকান্দিতে স্কুলে শোক দিবসে বাজলো হিন্দি গান, তদন্ত কমিটি গঠন

দৌলতদিয়া যৌনপল্লী : ওদের কান্নার শব্দ পৌঁছায় না ‘সভ্য সমাজে’

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮
  • ২০০৩ Time View

দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অন্তত আড়াই হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। এরমধ্যে রয়েছে ৫ শতাধিক শিশু-কিশোরী। তবে সংখ্যা নিয়ে আছে বিভিন্ন মত। সূুত্রমতে, যৌনপল্লীর ওইসব শিশু-কিশোরীদের অধিকাংশই দালালের খপ্পরে পড়ে যৌনপেশা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সক্রিয় রয়েছে অসংখ্য নারী পাচারকারী দলের সদস্য। বিভিন্ন বয়সের কিশোরী-তরুণীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নানা রকম প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নারী পাচারকারীরা যৌনপল্লীতে বিক্রি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওয়ালীদের ছত্রছায়ায় এখানে রয়েছে বিশাল এক দালালচক্র। প্রায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দালালরা নানা কৌশলে সাধারণ মেয়েদেরকে ফুঁসলিয়ে এই যৌনপল্লীতে এনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাড়িওয়ালা বাড়িওয়ালীর কাছে বিক্রি করে থাকে। দৌলতদিয়ার এই নিষিদ্ধ পল্লীতে দালালের মাধ্যমে প্রতিমাসে গড়ে বিশ থেকে ত্রিশ জন নতুন শিশু-কিশোরীকে এখানে এনে তাদেরকে যৌনপেশা গ্রহনে বাধ্য করা হয়।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাচারকারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানের কিশোরী ও কর্মরত গার্মেন্টস কর্মীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেম করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনপল্লীতে এনে বিক্রি করে দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করার সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে বাসা থেকে বের হলে ওৎ পেতে থাকা নারী পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ছে তারা। এক্ষেত্রে তাদের ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাদের অসহায়ত্তের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পল্লীর প্রভাবশালী বাড়িওয়ালীদের কাছে বিক্রি করে দেয়।
উদ্ধারকৃতদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, তাদের মত অনেক মেয়ে আছে যাদের ভাল কাজ দেওয়ার কথা বলে এখানে এনে বিক্রি করছে নারী পাচারকারীরা। তাদের কেনার পর জোর করে তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করিয়ে থাকে। বাড়িওয়ালা-বাড়িওয়ালীদের কথা না শুনলে ঘরের মধ্যে আটকে বিভিন্ন কৌশলে নির্যাতন করা হয়। এরপর খদ্দেরকে খুশি করতে না পারলে শুরু হয় অন্য বাড়িওয়ালীদের কাছে বিক্রির প্রক্রিয়া। অন্য কোন বাড়িওয়ালার পছন্দ হলে দর-দামের মাধ্যমে তার কাছে বিক্রি করা হয়। তখন আবার সেই বাড়িওয়ালীর কথা মত চলতে হয়। এভাবে একটি মেয়ে একাধিক বার এ পল্লীতে বিক্রি হয়ে থাকে। আর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে রাখা হয় একজন পাহারাদার। নির্যাতনের শিকার হয়ে যৌনবৃত্তি করছে কয়েকশ কিশোরী-তরুণী বলে জানা যায়। মাঝে মধ্যেই নির্যাতনে আহত অনেক যৌনকর্মীকে হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা করার ঘটনাও ঘটে। যৌনপল্লীতে থাকা এসব মেয়েদের কাছে আসা খরিদ্দারের মোবাইল ফোন থেকে সুযোগ বুঝে পরিবারের কাছে ফোন করে জানানোর পর আত্মীয়-স্বজনরা স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অল্প সংখ্যক কিশোরী-তররুনী উদ্ধার হয়ে থাকে।
অপ্রাপ্ত বয়সী মেয়েদেরকে যৌনপেশায় লিপ্ত করানো সম্পূর্ণ আইন নিষিদ্ধ। এরপরও দৌলতদিয়া নিষিদ্ধ পল্লীতে বর্তমান পাঁচ শতাধিক শিশুযৌনকর্মী রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনের চোখকে ধুলো দিয়ে ওইসব শিশুদেরকে যৌনপেশায় লিপ্ত করে সংশ্লিষ্ট নারী ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
গত ৭ ডিসেম্বর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তি পায় তিন কিশোরী ও এক তরুনী। এসময় রুপা (৪৫) ও সুমি (৩০) নামের দুই নারী ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদের মধ্যে উদ্ধার হওয়া ১৮ বছর বয়সী এক তরুনী জানায়, সে দিনাজপুর সদর উপজেলার শেরপুর তেলিপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে। কম বয়সেই সে বাল্যবিয়ের শিকার হয়। তার স্বামী তার অজান্তেই দ্বিতীয় বিয়ে করলে সে রাগে দুঃখে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসে। গত কোববানীর ঈদের আগে সে কাজের সন্ধানে ঢাকা উদ্দেশ্যে ট্রেনে করে কমলাপুর স্টেশনে নামে। কমলাপুর রেলস্টেশনে তার সাথে আলাপ হয় শুভ নামের এক ব্যক্তির। সে তাকে বলে একটি কাজের সন্ধানে সে ঢাকায় এসেছে। এ সময় শুভ তাকে জানায়, তার বিউটি পার্লারের ব্যবসা আছে। ইচ্ছা করলে সে সেখানে কাজ করতে পারে। ভালো বেতনের আশ^াস দিলে সে (ওই তরুনী) শুভ’র কথায় রাজি হয়ে যায়। এরপর শুভ তাকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রুপা বাড়িওয়ালীর কাছে বিক্রি করে দেয়। রুপা অপর বাড়িওয়ালী সুমির সহযোগিতায় তাকে আটকে রেখে মারপিট করে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে দিয়ে দেহ ব্যাবসায় বাধ্য করে। তার সাথে একই কায়দায় আটকে রাখা হয় ১৪, ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী আরো ৩ কিশোরীকে। তাদেরকেও বিউটি পার্লারে চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে শুভ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি করেছে। এরা প্রত্যেকেই এই অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তির পথ খুজতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ওই তরুনীর কাছে আসা এক ব্যাক্তির মোবাইল ফোন থেকে ওই তরুনী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে উদ্ধারের আকুতি জানায়। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ শনিবার ভোরে যৌনপল্লীর রুপা বাড়িওয়ালীর বাড়ি থেকে ৩ কিশোরী ও ১ তরুনীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এর আগে গত ২৫ নভেম্বর ৩য় দফা বিক্রির সময় গোয়ালন্দ উপজেলার কাটাখালী এলাকায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে এক তরুনীকে।
সরেজমিন দেখা যায়, খদ্দের সংগ্রহ করতে বাড়িওয়ালী-বাড়িওয়ালারা সাজিয়ে অথবা নিজেরাই সেজে গুজে জরো হয়ে আছে প্রধান গলিসহ বিভিন্ন গলিতে। কেউ জোর করে হাসে, ভাব করতে চায় আগতদের সাথে। এই হাসি আর ভাব করার চেষ্টা সংগ্রামের পিছনে লুকানো কষ্ট-দুঃখের কথা অনেকেরই অজানা। তারা যেন স্বাভাবিক কথা বলা ভুলেই গেছে। কথা বলতে গিয়ে অনেকেই ক্ষোভের সাথে বলে জীবনের সব কিছু খুইয়ে যে টাকা রোজগার করি, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই তাও চলে যায় অন্যের হাতে।
আলাপকালে এক কিশোরী যৌনকর্মী বলেন, ভালো বেতনে ক্লিনিকে আয়ার কাজ দেয়ার কথা বলে দুই বছর আগে যৌনপল্লীতে বিক্রি হয়ে যায়। এরপর থেকে শুরু হয় তার অন্ধকারে পথ চলা। প্রথম বছরখানেক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ তখন তার রোজগারের টাকায় সর্বক্ষনিক একজন পাহাড়াদার রাখা হত। এখন আর এ পালাতে ইচ্ছে হয় না। কারণ এখান থেকে কোথায় যাব? সমাজ কি আমাকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিবে।
এ প্রসঙ্গে পতিতাপল্লীতে কাজ করা বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা মুক্তি মহিলা সমিতি’র প্রকল্প কর্মকর্তা আতাউর রহমান মঞ্জু বলেন ‘বিভিন্ন চাপ উপেক্ষো করে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর শিশু যৌনকর্মীদের উদ্ধারে আমরা সব সময় কাজ করে আসছি। চলতি বছরে ৯ জনকে পল্লী থেকে উদ্ধার করাসহ আইন প্রয়োগকারি সংস্থাকে তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সময়ে সহায়তা করা হয়েছে।’
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এজাজ শফী জানান, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বর্তমানে নিয়মিত পুলিশী টহল চলমান রয়েছে। এছাড়া যৌনপল্লীতে সব ধরনে অপরাধ নিয়ন্ত্রনে সম্প্রতি দৌলতদিয়া যৌনপল্লী সংলগ্ন এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং সভা করে সকলকে সচেতন ও পুলিশের সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দীকা মিলি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াও পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতেও বিভিন্ন সময় দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অভিযান চালিয়ে একাধিক নারীকে উদ্ধার করা হয়ে থাকে। নারী পাচারকারী চক্রের তৎপরতা বন্ধ ও জোরপূর্বক যৌন পেশায় লিপ্ত করার বিরুদ্ধে পুলিশ সজাগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 




Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution