1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

গোয়ালন্দের ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষন জাদুঘর’ সম্মানিত করছে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮
  • ৯৫৫ Time View

দেশের প্রথম ব্যাক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কাশিমা গ্রামের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর। নতুন প্রজন্মের কাছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিত করতে ব্যাপক ভুমিকা পালন করছে। জাদুঘরে রক্ষিত গোয়ালন্দ উপজেলার ৭২ জন মুক্তিযোদ্ধার ছবি দেখে রাস্তা-ঘাটে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করছে এই প্রজন্মের কিশোর-তরুনেরা।
দেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে উঠতে এবং প্রেরণা জোগাতে ব্যক্তি উদ্যোগে বীরমুক্তিযোদ্ধা ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা গিয়াস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগে ২০০১ সালে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। তিনি জাদুঘরটিকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে অক্লান্ত শ্রম দিতে থাকেন। দুই শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে তার উপর নির্মাণ করেন চারচালা টিনের ঘর বিশিষ্ট জাদুঘরটি। ২০০৯ সালের ১৯ মে জাদুঘরটির সূচনা ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন ঢাকা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্র্যাষ্টি ও সদস্য সচীব মফিদুল হক। ইতিমধ্যে এখানে ঠাঁই পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন দুর্লভ পাঁচ শতাধিক ছবি, বিভিন্ন স্মৃতি স্মারক। রয়েছে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারকসহ ভারতের কল্যানী ক্যাম্পের কিছু দুর্লভ ছবি, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি সংগ্রামের আহবানের ছবি, পাক সেনাপতির আত্নসমর্পনের ছবি। এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের দৃশ্য। প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে এই জাদুঘর দেখতে আসছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত খোলা থাকে জাদুঘরটি।
জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র স্থানীয় জিসান আদিত্য জয় জানায়, আমরা আমাদের এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের চিনেছি এই জাদুঘরে থাকা ছবি দেখে। জানতে পেরেছি কিভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। এখন আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহজেই চিনতে পারি এবং যথাযথ সম্মান দিতে পারি।
সরেজমিন দেখা যায়, জাদুঘরের সংগ্রহশালাগুলো সাজানো হয়েছে চারটি গ্যালারীতে। রাজবাড়ীর অন্যতম মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সাংসদ কাজী হেদায়েত হোসেন, শহীদ আব্দুল আজিজ খুশি, ভাষা সৈনিক ও সাবেক সাংসদ ওয়াজেদ চৌধুরী ও শহীদ ফকির মহিউদ্দিনের নামে নামকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে একটি লাইব্রেরী। যেখানে ঠাঁই পেয়েছে জাদুরঘর নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত সংবাদ পত্রের সচিত্র প্রতিবেদন। ২০১৩ সালের ৮ডিসেম্বর আনুষ্ঠানকিভাবে এটি উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন গোয়ালন্দ অঞ্চলের মুজিব বাহিনী প্রধান ও মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল জব্বার। এরপর থেকে এটি সবার জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষ দেখতে আসেন।
গোয়ালন্দ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সামাদ মোল্লা জানান, নতুন প্রজন্ম অনেকে জানে না মুক্তিযুদ্ধ কি? এখানে এসে তারা জানতে পারছে দেশের মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার পর হতে এই এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের চিনে না, তাদের সম্পর্কে জানে না এমন কোন মানুষ নেই।
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা গিয়াস জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তৃণমূল পর্যায়ে তুলে ধরতে আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। ১৯৭৫ সালের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলন্ঠিত হওয়া শুরু হয়। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ক্ষমতা দখল করে। মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নানান তথ্য বিভ্রাট করা শুরু হয়। তখন থেকে চিন্তা করি মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সঠিক ইতিহাস সংরক্ষন করতে হবে। এই জাদুঘরটি তৈরি হওয়ায় এখন এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সহজেই চিনতে পারছে নতুন প্রজন্ম। রাস্তাঘাটে আলাদাভাবে সম্মান করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের।
তিনি আরো জানান, একক উদ্যোগে এই জাদুঘরটি তৈরি করেছি। বর্তমানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক সংগ্রহ প্রদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া টিনের ঘরটিও অনেকটা জড়াজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘরটি মেরাতম ও সম্প্রসারনের কাজ দ্রুত শুরু করতে না পারলে মূল্যবান সংগ্রহ নষ্ট হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। জাদুঘরটি আরো সম্প্রসারিত করা হলে এই অঞ্চলের মানুষের মন থেকে কখনও সেই সব দিনের স্মৃতি হারাবে না। এ জন্য প্রয়োজন সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution