1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০২:১৮ অপরাহ্ন
Title :
৬০ বছরের স্বপ্ন পূরন ॥ গোয়ালন্দে ২ কিলোমিটারের সেই রাস্তাটির প্রকল্প অনুমোদন দৌলতদিয়া ঘাটের দালাল চক্রের ১১ সদস্য আটক রাজবাড়ী কারাগার পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক মিঠু সভাপতি, সাগর সম্পাদক রাজবাড়ী জেলা শাখা ফারিয়া’র নির্বাচন গোয়ালন্দে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ইমাম কমিটির কর্মশালা গোয়ালন্দে থানা পুলিশের অভিযানে দালালসহ ৬জন গ্রেপ্তার পাংশায় সাংবাদিক কাজী সেলিম মাবুদের অষ্টম গ্রন্থ “পাহাড়ি জোছনা”র মোড়ক উন্মোচন কালুখালীতে একটি সেতু না থাকায় দুর্ভোগ রাজবাড়ীতে নমুনা পরীক্ষার প্রায় অর্ধেকই করোনা আক্রান্ত ॥ নেই সচেতনতা “ডেসটিনি নিহাজ জুট মিল” ॥ আদালতের ক্রোকের নির্দেশনার পরও মিল চালাচ্ছে কারা!

দৌলতদিয়া যৌনপল্লী ॥ গ্লানিময় ঠিকানা পরিবর্তন চায় যৌনকর্মীরা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮
  • ১৬৮২ Time View

দেশের বৃহত্তম গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে তালিকাভুক্ত ভোটার রয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন। তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রে গ্রামের নাম হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে দৌলতদিয়া পতিতালয়। সরকারী ভাবে এ নামে কোন গ্রাম না থাকলেও এটিই হয়েছে তাদের গ্রামের নাম। যে কারণে সবক্ষেত্রে তাদেরকে হতে হয় নিগৃহিত ও অপমানিত।
প্রকৃতির সব আলো এখানে বিবর্ণ। জীবন এখানে ছেড়া কাগজের মতো ছন্নছাড়া। এই পল্লীতে থাকে রক্ত মাংসেরই একদল মানুষ। সভ্য সমাজ যাদের ঠাঁই দেয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রে এখানকার সব বাসিন্দার গ্রামের নাম পতিতালয়। অবিশ্বাস্য হলেও সেটাই লেখা। পতিতালয় লেখা এই সব যৌন কর্মীকে বিড়ম্বণায় পড়তে হয় পদে পদে।
একাধিক যৌনকর্মী জানায়, জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের গ্রামের নাম লেখা হয়েছে “পতিতালয়”। সেই পরিচয় পত্র নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে লাঞ্চনা-বঞ্চনার শিকার হতে হয় তাদের। তাই এবার নির্বাচনে তাদের প্রধান দাবী
জাতীয় পরিচয়পত্রের এমন গ্লানিময় পরিচয় থেকে মুক্তি লাভ।
নাম প্রকাশ না করে একজন যৌনকর্মী বলেন, আমাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করতে গেলে পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে বা কেউ মারা যাবার পর মৃত্যু সনদ নিতে গেলেও পরিচয় পত্র প্রয়োজন। কিন্তুু পরিচয়পত্রে পতিতালয় লেখা থাকায় সমাজের মানুষেরা আমাদের দিকে অন্য দৃষ্টিতে তাকায়। ছোট করে দেখা হয় আমাদেরকে।
অন্য আরো কয়েকজন বলেন, আমরা জন্মসূত্রে বেশীর ভাগই এখানকার বাসিন্দা নই। দুর্ভাগ্যক্রমে এখানে এসেছি। বাড়ীতে পরিচয় গোপন রেখে বাইরে ভাল চাকরী করি বলে পরিচয় দেই। কিন্তু বাবা বা স্বামীর সম্পত্তি লাভ, জমি বেচাকেনা, সন্তানকে ভাল স্কুলে ভর্তি করা, বিকল্প পেশায় চলে যাওয়া প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমাদের গ্রামের এই পতিতালয় নাম কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যৌনপল্লীর সাবেক এক বাসিন্দা জানান, আমি এই পরিচয়পত্র নিয়ে ঢাকা শহরের অনেক গার্মেন্টসে ঘুরেছি। কিন্তু পরিচয়পত্রে পতিতালয় লেখা থাকায় কেউ কাজ দেয়নি। পরে পরিচয়পত্র নকল করে কাজ নিতে হয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় এই যৌনপল্লীতেও এখন সারা দেশের ন্যায় বইছে ভোটের হাওয়া। বরাবরের মতো এবারও তারা ভোট দেবেন। এই নারীদের এবার একটাই চাওয়া ভোটের বিনিময়ে হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে মুছে দেওয়া হোক গ্রামের গ্লানিকর নামটি।
যৌনজীবি ও তাদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগম বলেন, জাতীয় পরিচয় পত্রে এমন ঠিকানা দিয়ে তাদের ছোট করা হয়েছে। কেউ এই পেশায় ইচ্ছা করে আসেনি। সমাজের কাছে এভাবে কাউকে ছোট করার অধিকার কারো নেই। তারাও সমাজের আট-দশ জনের মতো মানুষ। একজন উন্নয়ন কর্মী হিসেবে আমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিয়ে কাজ করছি। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবী জানাই।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান স্যার আমাকে ফোন করেছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে গ্রামের নাম পতিতালয় সংশোধন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution