1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন
Title :
গোয়ালন্দের পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও উপহার সামগ্রী দিলেন পুলিশ সুপার পাংশায় ডিসি-এসপি’র মন্দির পরিদর্শন সহজ পাঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গোয়ালন্দে ওসি’র ফুলেল শুভেচ্ছা গোয়ালন্দে রেলওয়ে পুলিশ সুপারের দূর্গা মন্দির পরিদর্শন গোয়ালন্দে পিছিয়ে পড়া শিশুদের অংশগ্রহনে প্রীতি ফুটবল খেলার আয়োজন রাজকীয় বিদায় দিলেন পাংশা থানার কনস্টেবলকে দৌলতদিয়া ঘাট আধুনীকায়ন প্রকল্প ॥ হয়নি জমি অধিগ্রহন, তবুও নভেম্বরে কাজ শুরুর আশা কালুখালীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন গোয়ালন্দে ঘরের বেড়ায় ঢেড়স চাষ, মিটাচ্ছে পারিবারিক চাহিদা রাজবাড়ীতে পাট কাঠি বিক্রি করেও লাভবান চাষিরা

দৌলতদিয়া যৌনপল্লী ॥ গ্লানিময় ঠিকানা পরিবর্তন চায় যৌনকর্মীরা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮
  • ১৯৪৬ Time View

দেশের বৃহত্তম গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে তালিকাভুক্ত ভোটার রয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন। তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রে গ্রামের নাম হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে দৌলতদিয়া পতিতালয়। সরকারী ভাবে এ নামে কোন গ্রাম না থাকলেও এটিই হয়েছে তাদের গ্রামের নাম। যে কারণে সবক্ষেত্রে তাদেরকে হতে হয় নিগৃহিত ও অপমানিত।
প্রকৃতির সব আলো এখানে বিবর্ণ। জীবন এখানে ছেড়া কাগজের মতো ছন্নছাড়া। এই পল্লীতে থাকে রক্ত মাংসেরই একদল মানুষ। সভ্য সমাজ যাদের ঠাঁই দেয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রে এখানকার সব বাসিন্দার গ্রামের নাম পতিতালয়। অবিশ্বাস্য হলেও সেটাই লেখা। পতিতালয় লেখা এই সব যৌন কর্মীকে বিড়ম্বণায় পড়তে হয় পদে পদে।
একাধিক যৌনকর্মী জানায়, জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের গ্রামের নাম লেখা হয়েছে “পতিতালয়”। সেই পরিচয় পত্র নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে লাঞ্চনা-বঞ্চনার শিকার হতে হয় তাদের। তাই এবার নির্বাচনে তাদের প্রধান দাবী
জাতীয় পরিচয়পত্রের এমন গ্লানিময় পরিচয় থেকে মুক্তি লাভ।
নাম প্রকাশ না করে একজন যৌনকর্মী বলেন, আমাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করতে গেলে পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে বা কেউ মারা যাবার পর মৃত্যু সনদ নিতে গেলেও পরিচয় পত্র প্রয়োজন। কিন্তুু পরিচয়পত্রে পতিতালয় লেখা থাকায় সমাজের মানুষেরা আমাদের দিকে অন্য দৃষ্টিতে তাকায়। ছোট করে দেখা হয় আমাদেরকে।
অন্য আরো কয়েকজন বলেন, আমরা জন্মসূত্রে বেশীর ভাগই এখানকার বাসিন্দা নই। দুর্ভাগ্যক্রমে এখানে এসেছি। বাড়ীতে পরিচয় গোপন রেখে বাইরে ভাল চাকরী করি বলে পরিচয় দেই। কিন্তু বাবা বা স্বামীর সম্পত্তি লাভ, জমি বেচাকেনা, সন্তানকে ভাল স্কুলে ভর্তি করা, বিকল্প পেশায় চলে যাওয়া প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমাদের গ্রামের এই পতিতালয় নাম কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যৌনপল্লীর সাবেক এক বাসিন্দা জানান, আমি এই পরিচয়পত্র নিয়ে ঢাকা শহরের অনেক গার্মেন্টসে ঘুরেছি। কিন্তু পরিচয়পত্রে পতিতালয় লেখা থাকায় কেউ কাজ দেয়নি। পরে পরিচয়পত্র নকল করে কাজ নিতে হয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় এই যৌনপল্লীতেও এখন সারা দেশের ন্যায় বইছে ভোটের হাওয়া। বরাবরের মতো এবারও তারা ভোট দেবেন। এই নারীদের এবার একটাই চাওয়া ভোটের বিনিময়ে হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে মুছে দেওয়া হোক গ্রামের গ্লানিকর নামটি।
যৌনজীবি ও তাদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগম বলেন, জাতীয় পরিচয় পত্রে এমন ঠিকানা দিয়ে তাদের ছোট করা হয়েছে। কেউ এই পেশায় ইচ্ছা করে আসেনি। সমাজের কাছে এভাবে কাউকে ছোট করার অধিকার কারো নেই। তারাও সমাজের আট-দশ জনের মতো মানুষ। একজন উন্নয়ন কর্মী হিসেবে আমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিয়ে কাজ করছি। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবী জানাই।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান স্যার আমাকে ফোন করেছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে গ্রামের নাম পতিতালয় সংশোধন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution