1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

রাজবাড়ীতে অতিবৃষ্টি ও পচন রোগে লোকসানে হলুদ চাষীরা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৯
  • ৭৩১ Time View
SONY DSC

মেহেদী হাসান ॥
রাজবাড়ীতে অন্য ফসলের চেয়ে দাম বেশি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে হলুদ চাষ। চাষ বাড়লেও এবার অতিবৃষ্টি ও গোড়া পচন রোগের কারনে ভালো ফলন না হওয়ায় লোকসানে পরেছে কৃষকেরা। অপরদিকে ভারত থেকে হলুদ আমদানির কারনে প্রতি বছরের তুলনায় কম দামেই হলুদ বিক্রি হচ্ছে বাজারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে গত বছর রাজবাড়ীতে ১ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছিলো আর এ বছর আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনা ১৫ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ২৯৫ হেক্টর, বালিয়াকান্দিতে ৬৮০ হেক্টর, পাংশায় ২২০ হেক্টর, কালুখালীতে ১২০ হেক্টর ও গোয়ালন্দ উপজেলায় ২০ হেক্টর। জেলার সবচেয়ে বেশী হলুদ আবাদ হয় বালিয়াকান্দিতে।
স্থানীয়রা জানান, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় হতে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত হলুদের কন্দ লাগানোর উত্তম সময়। দেরিতে হলুদ লাগালে শুধু গাছের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। মোথা বা হলুদ কম হয়। হলুদকে কন্দ পঁচারোগ থেকে রক্ষার জন্য বীজ রোপণের পূর্বে কন্দ শোধন করে নিতে হয় । এরপর বীজগুলো পানি থেকে উঠিয়ে বাঁশের চাটির উপর দিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে চাষকৃত জমিতে লাইন ধরে রোপণ করতে হবে। হলুদের বীজ হিসেবে কন্দ, মোথা, কুশি ব্যবহার করা যায়। বীজ হিসেবে কন্দকে কেটে টুকরা করা হয়। কিন্তু মোথা ও কুশি আস্ত লাগাতে হয়। প্রতিটি কন্দের ওজন ৩০-৪০ গ্রাম হওয়া বাঞ্চনীয়।
বপনের ৯-১০ মাস পর গাছের পাতা যখন হলদে রং ধারণ করে শুকিয়ে যায় ঠিক তখনই হলুদ সংগ্রহের সময়। ডিসেম্বরের শেষ হতে মার্চের প্রথম পর্যন্ত হলুদ স্রংহ করা হয়। লাঙ্গল বা কোদাল দিয়ে খুব সতর্কতার সাথে জমি খুড়ে হাত দিয়ে হলুদ সংগ্রহ করা হয়। হলুদে লেগে থাকা মাটি, গাছের পুরানো পাতা ও কান্ড আলাদা করা হয়। এরপর শিকড় কেটে মোথা ও ছড়া (কুশি) আলাদা করা হয়। ভালভাবে পরিষ্কারের জন্য ক্ষেত্র বিশেষে পানি ব্যবহার করতে হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের কৃষক জামাল জানান, এমনিতে এ বছর হলুদ ফলন হয়েছে কম তার উপর ভারত ও বার্মা থেকে হলুদ আমদানি করায় দাম পাচ্ছে না কৃষক। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আগামীতে আর হলুদ চাষ করবো না।
বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের কৃষক শাহিন শেখ বলেন, ২২ শতাংশ ( ১ বিঘা ) জমিতে হলুদ চাষ করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এরমধ্যে হলুদ বীজ, জমি চাষ করা, সার ও কীটনাশক পরিচর্যা (নিড়ানী ও আগাছা পরিস্কার) খেত থেকে হলুদ তুলা পর্যন্ত টাকা খরচ করতে হয়।
ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি ৩০ মণ হলুদ পাওয়া যায়। কিন্তু এবার ফলন ভালো হয়নি। বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ মণ করে হলুদ পাওয়া যাবে। আবার দামও সবোচ্চ মণ প্রতি সাড়ে পাঁচশ টাকা। অথচ গত বছর আটশ থেকে এক হাজার টাকা করে মণপ্রতি হলুদ বিক্রি হয়েছে। এবার দামও কম আবার ফলনও কম। এতে করে চাষীদের অনেক লোকসান হচ্ছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার গোসাই গোবিন্দপুর গ্রামের হলুদ চাষী ইব্রাহিম শেখ বলেন, ৬৬ শতাংশ জমিতে হলুদ চাষ করেছি। এবার বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। প্রায় ৭০ মণ হলুদ পেয়েছি। উৎপাদন গতবারের তুলনায় কম হয়েছে। বাজারে মণ প্রতি কাঁচা হলুদের দাম পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচশ টাকা করে। এই দামে হলুদ বিক্রি করে খরচের টাকাই হাতে আসছে না। কিন্তু মণ প্রতি হাজার টাকা করে বিক্রি করতে পারলে অল্প লাভ হলেও আমাদের কোনো ক্ষতি হতো না।
বহরপুর ইউনিয়নের শহীদনগর গ্রামের চাষী আবদুল মালেক বলেন, হলুদে এবার পচন রোগ ধরে ছিলো। একারনে খেত থেকে আগাম হলুদ তুলে ফেলতে হয়েছে। ফলন ভালো হয় নাই। আরো সপ্তাহ খানেক আগে বিক্রি করে ফেলেছি। প্রথম দিকে দাম খুবই কম ছিলো। মণ প্রতি হলুদ বিক্রি হয়েছে সাড়ে তিনশ টাকা করে। শেষের দিকে দাম কিছুটা বেড়ে ছিলো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, রাজবাড়ীতে এ বছর ১ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছে যা থেকে ৮০০ মেট্টিক টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। হলুদ চাষে পোকার চেয়ে রোগের আক্রমণ বেশী হয়। রোগের মধ্যে কন্দ পঁচা রোগ প্রধান। পোকার মধ্যে হলুদ গাছের ডগা ছিদ্রকারী পোকা অম্যতম। আমরা চাষীদের বিভিন্ন ধরনের সেবা দেই। ইউনিয়ন পর্যায়েও এসব সেবা দেওয়া হয়। তবে এ বছর অতিবৃষ্টিতে কৃষক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution