1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

একটি ব্রীজ হাসি ফোটাতে পারে হাজারো কৃষকের মুখে

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৯
  • ৫৮৪ Time View

আল মামুন আরজু ॥
একটি ব্রীজ দুই উপজেলার সংযোগ ঘটানো ছাড়াও হাসি ফোটাতে পারে হাজার হাজার কৃষকের মুখে। এমন জনগুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রীজ নির্মান হচ্ছেনা বছরের পর বছর। উপজেলা প্রকৌশলী জানালেন, ডেবোলপমেন্ট প্রজেক্ট প্লানের আওতায় আনা হয়েছে।
সরোজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বাড়ীগ্রাম এলাকায় রাজবাড়ী সদর উপজেলা ও বালিয়াকান্দি উপজেলার সংযোগস্থল। এ দুটি উপজেলার সংযোগস্থলকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ৪৫ মিটারের একটি হরাই নদী। উল্লেখ্য এ নদীর দুই পাশেই রয়েছে পাকা রাস্তা।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাড়ীগ্রাম অঞ্চলের বাঞ্জারাম মন্ডলের ছেলে কৃষক পরিমল মন্ডল বলেন, এখান থেকে পার্শবর্তী বহরপুর বাজার মাত্র ৪ কিলোমিটার, জামালপুর বাজার ৭/৮ কিলোমিটার অথচ আমাদের উৎপাদিত ফসল বহরপুর বাজারে বিক্রি করতে গেলে ১০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। আর জামালপুর বাজারে বিক্রি করতে গেলে ঘুরতে হয় ২৩ কিলোমিটার। আমাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অনেক খরচ হয় ফলে আমরা লোকশান গুনছি বছরের পর বছর। আমাদের এ ব্রীজটি হয়ে গেলে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের মানুষের দূর্ভোগ দুর হয়ে হাসি ফুটবে প্রতিটি কৃষকের মুখে।
হরাই নদীর ওপারের বাসিন্দা বালিয়াকান্দি উপজেলার পাকালিয়া গ্রামের আক্কাস শেখের ছেলে ভ্যানচালক কহিল শেখ বলেন, আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি এ বাড়ীগ্রাম এলাকা থেকে বহরপুর বাজার ৪ কিলোমিটার, জামালপুর বাজার ৮ কিলোমিটার, বানিবহ বাজার ৪ কিলোমিটার ও মুলঘর ইউনিয়নের কুটিরহাট বাজার মাত্র ৫ কিলোমিটার। অথচ আমরা এ অঞ্চলের মানুষ এই একটি ব্রীজের কারনে কোনদিনও বানিবহ ও কুটিরহাটে যেতে পারিনা, আর যদি কোন কারনবসত বানিবহ যেতে হয় তবে ঘুরে যেতে হবে ১২ কিলোমিটার আর কুটির হাট যেতে পারি দিতে হয় ১৫ কিলোমিটার। আমাদের প্রানের দাবি এ ব্রীজটি নির্মান করে যুগ যগান্তরের এ জনদূর্ভোগ দুর করবে সরকার।
কথা হয় বাস শ্রমিক ছিদ্দিকুর রহমান খানের সাথে তিনি জানান, রাজবাড়ী থেকে মধুখালির দুরত্ব ৩৮ কিলোমিটার বাড়ীগ্রাম এ ব্রীজটি নির্মান হলে রাজবাড়ী থেকে মধুখালির দুরত্ব কমে ২৮ কিলোমিটার হবে। রাজবাড়ী থেকে বানিবহ হয়ে বাড়ীগ্রাম পারহয়ে মধুখালি যাওয়ার উপযোগী রাস্তা থাকলেও বছরের পর বছর এই একটি ব্রীজ না থাকায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে আমাদের মধুখালি যেতে হয়।
বানিবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু বলেন, ৪টি ইউনয়নের মিলনস্থল বাড়ীগ্রাম এলাকা, এ অঞ্চল প্রকৃতির অপরুপ সাঝে সজ্জিত, হাজার হাজার একর আবাদি অনাবাদি জমি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এখানে লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখি আসে। এ ছাড়াও রাস্তার দু’পাশে টুই টুম্বর পানি হয়ে এক অপরুপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে হাজার হাজার মানুষ স্বপরিবারে বেরাতে আসে। নৌকায় ঘুরে ঘুরে যার যার বাহনে বাড়ী ফিরলেও এই একটি ব্রীজের জন্য এপারের মানুষ ওপারে মানুষের সাথে দুরত্ব থাকে অনেক। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাড়ীগ্রামে দর্শনার্থীদের বসার জন্য কয়েকটি ব্রেঞ্জ বানিয়ে দিয়েছি। এ ব্রীজের দাবিতে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামতের সাথে কথা বলেছি তিনি আশ্বাস দিয়েছেন অচিরেই এ ব্রীজটি নির্মিত হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকৌশলী স্বপন কুমার গুহু বলেন, এ ব্রীজটি নির্মানের জন্য ইতিমধ্যেই আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এটা ডিপিপি ভুক্ত করেছি। অচিরেই এ ব্রীজের নির্মান কাজ শুরু হবে। ব্রীজটি নির্মিত হলে হাজারো মানুষের নানাবিধ উপকার হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution