1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

রাজবাড়ীতে নিম্নমানের নোট-গাইট বিক্রিতে তৎপর কোম্পানীগুলো

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯
  • ৬৮০ Time View

সোহেল রানা ॥
রাজবাড়ীতে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের ফাইনাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, প্রকাশিত হয়েছে ফলাফল, ২০১৯ সালের সরকার কর্তৃক বিনামূল্যের নতুন বই হাতে পেয়েছে উপজেলার মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী। নোট-গাইড বই কোম্পানী ২০১৮ সালে কোমলমতি শির্ক্ষাথীদের মেধাবিকাশের নিষিদ্ধ গাইড গুলো বাধাগ্রস্ত করলেও ২০১৯ সালে কতটা নজরদারীতে রাখবে প্রশাসন সেটিই দেখার বিষয়।
জানাগেছে, গাইড বই (সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ) কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ধারণা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের যত বেশী সুবিধা দিবে সেই কোম্পানীর তত বেশী বিক্রয় হবে। এই নোংরা প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ নিন্মমানের গাইড বই কোম্পানী গুলো বরাবরই টিকে থাকে বলে দাবী অভিভাবকদের। এক শ্রেণীর সুবিধাভোগীদের কারণে বর্তমান সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রে নেওয়া মহতি উদ্যোগ গুলো ভেস্তে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা। তবে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে গাইড কোম্পানীর সাথে কিছু বিদ্যালয় চুক্তিবৃদ্ধও হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোট-গাইড ব্যবসায়ী, সমিতি এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। নোট-গাইড ক্রয়ে যদি কোন প্রতিষ্ঠান, সমিতি বা শিক্ষক উদ্বুদ্ধ করে থাকে তাহলে লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ দিকে রাজবাড়ী জেলার পাংশা, কালুখালী, গোয়ালন্দ, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও কোচিং, প্রাইভেট শিক্ষকদের হাত করতে মাঠে নেমে পড়েছে গাইড কোম্পানীর প্রতিনিধিরা। প্রতিষ্ঠান প্রধান ছাড়াও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের সাথে দর কষাকষির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাছাড়াও বিশেষ করে ইংরেজি এবং গণিত পর্যায়ের শিক্ষকদের সাথেও ব্যক্তি পর্যায়ের চুক্তির জন্য ধর্না ধরছেন এসব গাইড কোম্পানীর প্রতিনিধিরা। এরই মধ্যে সৌজন্য কপি যেতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হাতে হাতে। নতুন গাইড বইয়ে লাইব্রেরী গুলোও সেজেছে নতুন সাজে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর সিলেবাস, সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নসহ বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব পরে চুক্তিবদ্ধ ঐ গাইড কোম্পানীর। এর ফলে সকল শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষকদের মাধ্যমে পৌছে যায় নিষিদ্ধ গাইড বই। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দফারফা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যেই কোম্পানি যত বেশী সুবিধা দিতে পারবে তার গাইড বই পছন্দের তালিকায় রাখবে ওই প্রতিষ্ঠানে।
বাজারে গাইড বইয়ের অন্যতম প্রকাশনী পাঞ্জেরী, লেকচার, অনুপম, নবদূত, জননী, পপি, জুপিটার, জ্ঞানগৃহ, লিয়ন, ফুলকড়ি, সংসদ, আলফাতাহা, ইমপিহা, স্কয়ার সহ আরো অনেক। মাদ্রাসা পর্যায়ে আলফাতাহ এবং মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে জননীর আধিপত্য ছিল বলে জানা যায়। প্রতিযোগিতার যুগ বলে কথা কার নিষিদ্ধ গাইড আগে স্কুলে পৌছানোর যায় সেই লক্ষে কাজ করছে কোম্পানীর প্রতিনিধিরা। চুক্তি সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের গাইড বই কিনতে শির্ক্ষাথীদের প্রাথমিক পর্যায়ে পরামর্শ এবং পরবর্তীতে নির্দেশ দেওয়া।
সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে আমুল পরির্বতনের জন্য এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করেছে। যা শুধু মাত্র তাদের পাঠ্য বই পড়লেই পরীক্ষায় খুব ভালো মেধা খাঠিয়ে উত্তর লিখতে পারে। কিন্তু এক শ্রেণীর অর্থলোভীদের জন্য সরকারের নেওয়া সে উদ্যোগ অনেকাংশে কাগজে কলমেই থেকে যাচ্ছে। সরকার নিষিদ্ধ গাইডের উপর কঠোর পদক্ষেপ নিলেও অতীতে প্রশাসনের নিরবতায় তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকার যত পদক্ষেপ নিচ্ছে তার বিপরীতে নিষিদ্ধ গাইড বই কোম্পানী গুলো তাদের গাইড প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ছাড়তে এখন থেকে প্রতিযোগিতা নেমে পড়েছে। কোম্পানী গুলো তাদের গাইড সরকার যত পদক্ষেপ নিচ্ছে তার বিপরীতে নিষিদ্ধ গাইড বই কোম্পানী গুলো হলো তাদের গাইড প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ছড়াতে এখন থেকে প্রতিযোগতা নেমে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীরা বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতিতে তাদের কোন প্রকার গাইড বই’র প্রয়োজন হয় না। কিন্তু শিক্ষক মন্ডলি তাদেরকে পরার্মশ দেন এ গাইড বইটি পড়লে পরীক্ষা ভালো ফলাফল করতে পারবে। তাদের নির্দেশ রক্ষা করতে গিয়ে বাধ্য হয়ে আমাদের কিনতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে যে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করেছে এতে শিক্ষার্থীদের কোন রকম গাইড বই’র প্রয়োজন নেই। তারা বই পড়লেই ঠিক মত উত্তর দিতে পারছে। সরকার তো নিষিদ্ধ গাইডের উপর কঠোর, কিন্তু এদের দমন তো করতে পারছে না সরকার। তবে শুনেছি এবার দুর্নীতি দমন কমিশন মাঠে নেমেছে দেখি ২০১৯ সালে কি হয় ?
এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী এজাজ কায়সার বলেন, সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে মিটিং করে সেখানে গাইড-নোট এর ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারী দেওয়া হবে। তিনি বলেন, কোন প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষক নিষিদ্ধ গাইড ক্রয়ের ব্যাপারে যদি কাউদে উদ্বুদ্ধ করে থাকলে কিংবা গাইড কোম্পানীর সাথে কোন অনৈতিক চুক্তিবদ্ধ হয়ে থাকেন আর এমন অভিযোগ যদি আপনাদের কাছে আসে তাহলে তাৎক্ষনিক বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করে সকল প্রকার গাইড বইকে নিষিদ্ধ করেছেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি বালিয়াকান্দির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, সরকার গাইড ও নোট বই ছাপা ও বাজারজাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। আগামীতে যদি নিষিদ্ধ নোট-গাইড বইয়ের বিষয়ে তথ্য আসে আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।
এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, যদি কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নোট-গাইড ব্যবহার করতে নির্দেশনা দেয় তাহলে অভিভাবক বা যে কেউ অভিযোগ দিতে পারেন। তাছাড়াও নোট-গাইড বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত যে কোন অভিযোগ পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিভাগীয় কার্যালয়, সেগুন বাগিচা, ঢাকা ঠিকানায় লিখিত জানাতে পারেন। তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুদক সূত্র আরো জানায়, দেশে ১৯৮০ সাল থেকে নোট বই নিষিদ্ধকরণ আইন আছে। এই আইন অনুসারে গাইড ও নোট বই ছাপা ও বাজারজাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ২০০৮ সালে নির্বাহী আদেশে নোট বই ও গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয় এবং ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নোট বা গাইড বই নিষিদ্ধের জন্য ৭ বছরের কারাদ- এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদ-ের আদেশ জারি করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution