1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
Title :
দৌলতদিয়া থেকে ৫১ হাজার টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার গোয়ালন্দ উপজেলা চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মান কাজ শুরু গোয়ালন্দে দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন ফের নারায়ণগঞ্জের মেয়র হলেন রাজবাড়ীর পুত্রবধু আইভী ১৬ দিন পর গোয়ালন্দে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে বই বিতরন শুরু দৌলতদিয়ায় নিখোঁজের ৩ মাস পর মামালা ॥ কথিত স্বামীসহ আসামি ৩ জন প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও আইনজীবী ॥ আদালতে মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা বালিয়াকান্দিতে বাবার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু রাজবাড়ীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়

রোগীর চিকিৎসা কী তবে সাংবাদিকরা করবেন?

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯
  • ১১৩৬ Time View
লেখক - ডাঃ আতিকুজ্জামান ফিলিপ

ডাঃ আতিকুজ্জামান ফিলিপ ।।

দেশে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সংখ্যা ৯২ হাজারের উপরে।

এর মধ্যে ক্যাডার ননক্যাডার মিলিয়ে সরকারি চাকরিতে আছে হাজার ত্রিশ বত্রিশের মতো।
বাকি ষাট হাজার চিকিৎসক প্রাইভেট প্রাকটিস বা বেসরকারি চাকরির সাথে জড়িত।

এর মধ্যে যেসব চিকিৎসক সরাসরি চিকিৎসাসেবা বা চিকিৎসাশিক্ষার সাথে জড়িত তারা কখনোই কোনরকম আর্থিক দূর্নীতি করেননা, সে সুযোগও নেই।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যপ্রশাসনের প্রাইমারি লেভেল থেকে একেবারে টারশিয়ারি লেভেল বা মন্ত্রনালয় পর্যন্ত যেসব চিকিৎসক কাজ করেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ দূর্নীতির সাথে জড়িত থাকলেও থাকতে পারেন। আমার ধারনা এদের সংখ্যা শ’তিনেকের বেশী নয় বরং আরো কম হতে পারে।

আর শিক্ষাছুটি বা অন্যান্য অনুমোদিত ছুটি ছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতেরেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকে হয়তো সর্বোচ্চ হাজারখানেক চিকিৎসক।

এইসব চিকিৎসকদের মারুন কাটুন বরখাস্ত করুন বা বিধি অনুযায়ী যে শাস্তি তাদের প্রাপ্য হয় সেই শাস্তিই দিন।
আমরা কোনরকম প্রতিবাদ প্রতিরোধ করবো না।

কিন্তু বাকি নব্বই হাজার চিকিৎসককে কেন কাঠগড়ায় তুলছেন ?
কেন প্রতিনিয়ত সকল চিকিৎসককে ঢালাওভাবে এককাতারে ফেলছেন ?
কেন চিকিৎসা পেশাটাকেই সমাজের সাধারন মানুষের কাছে একটা ঘৃণ্য ‘গালি’তে পরিণত করছেন ?
কেন সকল সাধারন চিকিৎসককে গণশত্রুতে পরিণত করছেন ?
কেন স্বাস্থ্যখাতে অস্থিরতা তৈরি করছেন ?

‘কেঁচো খুড়তে সাপ বের হওয়া’ নামে বাংলায় একটি প্রবাদ আছে জানতাম।
এখন তো দেখছি আপনারা প্রবাদটাই উল্টে দিচ্ছেন।
সাপ মারতে গিয়ে কেঁচো নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন আপনারা!
স্বাস্থ্যখাতের বড়বড় রাঘববোয়াল দূর্নীতিবাজদেরকে ছেড়ে আপনারা লেগেছেন নিরীহ গোবেচারাদের পিছনে!

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শুধুই বিষোদগার!

হাজার হাজার চিকিৎসকের লাখ লাখ ভালো কাজের উদাহরন কেউ দেয় না।
শুধু গুটিকয়েক অসাধুর উদাহরন চাপিয়ে দেওয়া হয় হাজার হাজার চিকিৎসকের উপর!

অনারারী ট্রেনিঙের নামে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে হাজার হাজার চিকিৎসকের বছরের পর বছর চিকিৎসা সেবাদানের উদাহরন কেউ দেখে না!

শিফটিং ডিউটি আওয়ার শেষ করে পরের শিফট পর্যন্ত রুগিকে চিকিৎসকের চিকিৎসাসেবাদান কেউ দেখেনা,
নাইট ডিউটি শেষ করে পরদিন বিকেল সন্ধ্যা পর্যন্ত রুগিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া কেউ দেখে না!

সবাই দেখে গুটিকয়েক চিকিৎসকের অননুমোদিত অনুপস্থিতি।

চিকিৎসকের নিজের দেহের রক্ত দিয়ে রুগির জীবন বাঁচানোর হাজার হাজার লাখ লাখ উদাহরন কেউ দেখেনা কিন্তু চিকিৎসককে ‘কসাই’ গালি দিতে কেউই ছাড় দেয়না!

মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় দেখতাম এখনো দেখি-
রক্তের প্রয়োজনে রুগির লোকজন রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ার পরও নিজেরা রক্ত দিতে চায় না, অগত্য মেডিকেল স্টুডেন্ট কিংবা চিকিৎসককেই রক্ত দিতে হয়!
রুগির লোকজনের এমন একটা সেন্টিমেন্ট যেনো- চিকিৎসকের কাছ থেকে সহসাই রক্ত পাওয়াটাও রুগির অধিকার!

হায়রে নিয়তি!
রক্ত চুষে কে আর ‘কসাই’ ডাকে কাকে!

বিভিন্নসময়ে বেসরকারি বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উচ্চহারে ফিস নিয়ে অপারেশনের যে অভিযোগ আসে সেই অভিযোগগুলো কেউ কখনো খতিয়ে দেখেছেন কি ?

একবারও কি খোঁজ নিয়েছেন ঐ উচ্চ ফিসের কতো শতাংশ চিকিৎসক পায় আর কতো শতাংশ ক্লিনিক পায় ?

ধরুন কোন জেলা বা উপজেলা শহরে একটা এ্যাপেণ্ডিসেকটমি অপারেশন করা হলো।
রুগির খরচ পড়লো মোট দশ হাজার টাকা।
এখান থেকে চিকিৎসক কত পায় জানেন ?
সার্জন পায় “এক হাজার টাকা”!
এ্যানেসথেসিওলজিস্ট পায় পাঁচশো টাকা!
সহকারী জুনিয়র চিকিৎসক পায় তিনশো টাকা!
বাকি প্রায় সাড়েআট হাজার টাকা পায় ক্লিনিক!

জ্বি, ভিমড়ি খাবেন না!!
আমি ঠিকই বলেছি, ঠিকই লিখেছি, আপনিও ঠিকই পড়েছেন।
সারাদেশে এমন হাজার হাজার লাখ লাখ উদাহরন আছে!!

এতোকিছুর পরও আমরা চিকিৎসকরা আজ এই দেশ ও জাতির গণশত্রু!!

পরিত্রাণের উপায় কি ?

বিএমএ কিংবা কোন চিকিৎসক নেতা আমাদের উদ্ধারে সহসাই এগিয়ে আসেন না।
বাস্তবতা হলো তারা এগিয়ে আসলেও এখন আর কিছু করতে পারবেন বলেও মনে হয়না!

কারন শুরুতেই এই সমস্যা সমাধানে বাস্তবমুখী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি এখন এতোদূর পর্যন্ত এগিয়েছে এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সামাজিক সেন্টিমেন্ট এতোটা নেতিবাচক হয়েছে যে এখান থেকে প্রত্যাবর্তনের আশু কোন পথ খোলা আছে বলে আমার মনে হয়না!

প্রকৃতার্থে চিকিৎসকদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন ছাড়া এই মুহুর্তে আর কোন পথ খোলা নেই যেনো!!
চাকরিতে বহাল থেকে কর্মবিরতিতে যাবো বা ধর্মঘট করবো এটা অন্যদের মানালেও চিকিৎসকদের মানায় না!

একটাই উপায়!
গণ-পদত্যাগ করুন!
যারা বেসরকারি চাকরিতে আছেন তারাও পদত্যাগ করুন!
যারা প্রাইভেট প্রাকটিস করেন তারাও প্রাকটিস ছাড়ুন!

আজ আমরা জাতির শত্রু!
আজ আমরা জনগণের গণশত্রু!
আজ আমরা এই জাতির বোঝা!
আজ আমরা এই দেশের বোঝা!
আজ আমরা আর এই দেশের জন্য না,
চলুন আমরা দেশ ছাড়ি!

সাংবাদিকরা রুগিদের চিকিৎসা দিক!
চিকিৎসক বিদ্বেষী মানুষগুলো রুগিদের চিকিৎসা দিক!!

লেখকঃ
ডাঃ আতিকুজ্জামান ফিলিপ
সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বিএসএমএমইউ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution