1. jitsolution24@gmail.com : Rajbaribd desk : Rajbaribd desk
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০২:২৩ অপরাহ্ন

৯ মাসেও গ্রেফতার হয়নি রুমানের খুনিরা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
  • ৯৫৬ Time View

স্কুলছাত্রীকে যৌনহয়রানির প্রতিবাদ করায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কাটাখালী বাজারে প্রকাশ্যে ফরিদপুর বেসরকারী পলিটেনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র রুমান (১৯) হত্যা ৯ মাস পেরিয়েছে। খুনিরা এলাকায় পরিচিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এছাড়া মামলার তেমন কোন অগ্রগতিও না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। স্বজনদের অভিযোগ, রুমান হত্যা মামলাটি যতদিন থানা পুলিশের হাতে ছিল ততদিন কিছুটা হলেও খুনিরা চাপে ছিল। কিন্তু মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করার পর আসামী গ্রেফতারে যেমন নেই কোন তৎপরতা, সেই সাথে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতিও নেই।
উল্লেখ্য, বরাট ভাকলা স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া রুমানের এক বন্ধুর ভাগনিকে কাটাখালী এলাকার রাসেল নামের এক যুবক দীর্ঘ দিন ধরে যৌন হয়রানি করে আসছিল। তারই প্রতিবাদ করায় গত ২৩ জুন বিকালে রাসেলের নেতৃত্বে ৭/৮ জন যুবক প্রকাশ্যে কাটাখালী বাজারে পিটিয়ে হত্যা করে রুমানকে। এসময় রুমানের অপর তিন বন্ধুও মারপিটের শিকার হয়ে আহত হয়। নিহত রুমান গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধার মানিক গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে। এ ঘটনায় রুমানের বাবা বাদি হয়ে পরদিন ২৪ জুন গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৬/৭জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। রুমান হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসী ইতিমধ্যে একাধিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে। বিক্ষোভকারীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছে।
রুমানের বড় ভাই রেজাউল করিম লিটন অভিযোগ করে বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে জনসন্মুখে রুমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও এখনো কোন আসামীকে গ্রেফতার হয়নি। অদৃশ্য কারণে খুনিদের গ্রেফতারে আন্তরিক ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে না বলে তার দাবি। বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাফল্য দেখতে পাই। আমার ভাই হত্যাকারীদের গ্রেফতারেও পুলিশ সফল হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু এতদিন হয়ে গেল কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় আমাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে।
এদিকে নিহত রুমানের বাবা আবুল কালাম আজাদ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ করে জানান, তার ছেলে হত্যা মামলাটি সিআইডিতে যাবার পর আসামীদের গ্রেফতারের কোন অভিযান হয়েছে বলে তারা জানেন না। বরং এজহার ভুক্ত আসামী অনিককে আটক করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ফোনে জানালেও তাকে গ্রেফতার করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। এতে তাদের হতাশা আরো বেড়ে গেছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফী এ প্রসঙ্গে বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটি পুলিশের সিআইডি বিভাগ তদন্ত করছে। এ ধরনের মামলা তদন্তের জন্য সিআইডি একটি উপযুক্ত বিভাগ। তাদের তদন্তের ধরন অনেকটা নিরবে হয়ে থাকে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। সিআইডি মামলাটির সফল তদন্ত সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, তারা থানা পুলিশের কাছে কোন সহযোগিতা চাইলে থানা পুলিশ সার্বক্ষনিক তা দিতে প্রস্তুত আছে।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর মো. আক্তারুজ্জামান বাদির অভিযোগটি সঠিক নয় বলে দাবি করে বলেন, এজহারভুক্ত এক আসামীকে আটকের বিষয়টি আমাকে জানানোর সাথে সাথে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের একটি দলকে সেখানে পাঠানো হয়। কিন্তু তার আগেই ওই আসামী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। সকল আসামী গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design by: JIT Solution